1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

নির্বাচনে টাকার খেলা: ৫,০০০ টাকায় একটি ভোট

বাংলাদেশের নির্বাচনে কালো টাকার প্রভাব দিন দিন বাড়ছে৷ জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ পরিষদ মনে করে, এখন কেন্দ্র দখল বা পেশি শক্তি দিয়ে জয়ের চেয়ে প্রার্থীরা টাকার বিনিময়ে ভোট কিনে জয়ী হতে চান৷

জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ পরিষদ বা জানিপপ-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ ডয়চে ভেলেকে জানান, তারা গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে নির্বাচনে টাকার ব্যবহার নিয়ে কাজ করছেন৷ তারা তাদের পর্যবেক্ষণে দেখেছেন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে একটি ভোট কিনতে প্রার্থীরা ১,০০০ টাকা ব্যয় করেছেন৷ ঢাকা-১০ আসনের উপ-নির্বাচনে এটা ছিল একটি ভোট ১০০ টাকা৷ আবার চারটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেও ভোট কিনতে ব্যাপক টাকার ব্যবহার হয়েছে৷ সেখানেও প্রার্থীরা ভোট প্রতি ১,০০০ টাকা খরচ করেছেন৷ আর ৬ই জুলাই গাজিপুর সিটি কর্পোরেশনের যে নির্বাচন সেখানে কালো টাকা ব্যবহার হচ্ছে সবচেয়ে বেশি৷ ড. কলিমুল্লাহ জানান, তাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী গাজিপুরে একটি ভোট কিনতে প্রার্থীদের খরচ হচ্ছে ৫,০০০ টাকা৷ তিনি বলেন, ঢাকার কাছে হওয়া এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বড় দুই দল এই নির্বাচনকে খুব গুরুত্ব দেয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে৷

Bengalische Banknoten

‘নির্বাচনে কালো টাকার প্রভাব দিন দিন বাড়ছে’

ড. কলিমুল্লাহ বলেন, আগে প্রার্থীরা ভোট কেন্দ্র দখল এবং জোর করে ব্যালটে সিল মারার জন্য পেশি শক্তি ব্যবহার করতেন৷ সেখানেও টাকা খরচ হত৷ কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে৷ পেশি শক্তি ব্যবহার করে ভোট কেন্দ্র দখল অনেকটা কঠিন হয়ে পড়েছে৷ তাই প্রার্থীরা সরাসরি ভোটাদের কাছ থেকে ভোট কেনার চেষ্টা করছেন৷ এই প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে৷

ড. কলিমুল্লাহ বলেন, নির্বাচন কমিশনের একার পক্ষে এই টাকার খেলা বন্ধ করা সম্ভব নয়৷ তাদের তত জনবল এবং প্রযুক্তি নেই৷ কারণ এখন ভোটারদের নগদ টাকা না দিয়ে মোবাইল ফোনের ‘ফ্লেক্সিলোড' বা অন্য কোনো উপায়ে টাকা দেয়া হয়৷

টিআইবি-র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান ডয়চে ভেলেকে বলেন, এখন অনেকেই নির্বাচনকে নিচ্ছেন বিনিয়োগ হিসেবে৷ তাঁরা মনে করেন, যে টাকা তাঁরা খরচ করবেন নির্বাচনে জিতলে তার চেয়ে অনেক বেশি তাংরা আয় করতে পারবেন৷ এছাড়া, দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের মানসিকতা হলো নির্বাচনে যেভাবেই হোক জিততে হবে৷ আর এই ‘জিততেই হবে' মানসিকতার কারণে কালো টাকার ব্যবহার বাড়ছে৷ তিনি মনে করেন, নির্বাচন কমিশন এই টাকার খেলা বন্ধে কোনোরকম কার্যকর ব্যবস্থা নিকে ব্যর্থ হয়েছে৷

ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ এবং ড. ইফতেখারুজ্জামান মনে করেন, নির্বাচনে টাকার খেলা বা ভোট বেচা-কেনা চললে সত্যিকার অর্থে জনমতের প্রতিফলন ঘটে না৷ এভাবে টাকা ছড়িয়ে যাঁরা নির্বাচিত হন, তাঁরা নির্বাচনের পর তাঁদের বিনিয়োগ তুলতেই ব্যস্ত থাকেন৷ অবশ্য এক্ষেত্রে ভোটারদেরও দায়িত্ব আছে৷ তাঁরা টাকার বিনিময়ে ভোট দেয়াকে যদি অনৈতিক মনে না করেন, তাহলে কখনোই পরিস্থিতির উন্নতি হবে না৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়