1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

নির্বাচনের প্রভাব থাকা উচিত নয় বাজেটে

ক’দিন পর, জুন মাসে, বাংলাদেশে নতুন অর্থনেতিক বাজেট ঘোষণা করা হবে৷ ইতিমধ্যেই এডিপি ঘোষণা করা হয়েছে৷ এই বাজেট নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক বিচেনায় না করে অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনায় রেখে করা উচিত বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা৷

নতুন অর্থ বছরের এডিপি হবে প্রায় ৭৪ হাজার কোটি টাকার৷ এটা আগের বছরের তুলনায় ২১ হাজার কোটি টাকা বেশি হলেও তার মধ্যে কিছু ফাঁক আছে বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. হেলাল উদ্দিন৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, বাস্তবে এডিপি-র আকার বাড়ছে মাত্র ৬ হাজার কোটি টাকার৷ কারণ শিক্ষা ও পদ্মা সেতু – এই দুটি খাত এর অন্তর্ভুক্ত করায় ১৫ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে৷ যা আগেও ছিল৷ তিনি বলেন, এবার এডিপি-তে ৫০টি নতুন প্রকল্প যুক্ত হয়েছে৷ আর পুরনো প্রকল্পগুলোই নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে৷

ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, এতে আবারও প্রামাণ হলো এডিপি বাস্তবায়নে আমাদের সক্ষমতায় আগের মতোই ঘাটতি রয়েছে৷ এছা়ডা, নির্বাচনের আগে এডিপি-তে খরচ না বাড়িয়ে সরকার হয়ত দুর্নীতিমুক্ত আছে, তেমন একটা আবহ সৃষ্টি করতে চাইবে৷ কিন্তু পুরনো প্রকল্পেও দুর্নীতি সম্ভব৷ আর বাজেটে থোক বরাদ্দ তো থাকবেই৷ তাই এই থোক বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে৷

তিনি বলেন, দেশে বিদেশি বিনিয়োগ কমে গেছে৷ কমছে রপ্তানিও৷ এ জন্য রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হচ্ছে না৷ তাই বাজেট হতে হবে প্রধানত এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখে৷ নয়ত প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ করে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়া সম্ভব হবে না৷ বিদেশি বিনিয়োগ কমে গেলে অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ বাড়াতে হয়৷ বাড়াতে হয় সরকারি বিনিয়োগ৷ সেজন্য প্রয়োজন অর্থ৷ সেই অর্থ সরকার অভ্যন্তরীণ উত্‍স থেকে জোগাড় করে৷ ঋণ নেয়৷ এতে মুদ্রাস্ফিতি কিছুটা বেড়ে যেতে পারে৷ কিন্তু নির্বাচনের আগে সরকার সেই ঝুঁকি নেবে কিনা সন্দেহ আছে৷ কিন্ত সেটা নেয়া প্রয়োজন৷

সরকারের চলতি বাজেটের আকার ১ লাখ ৯২ হাজার কোটি টাকার৷ এই বাজেটের ধারাবাহিকতা এবারের নতুন বাজেটেও থাকতে হবে বলে মনে করেন অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন৷ তিনি বলেন, চলতি ও নতুন বাজেটসহ দুটি বাজেটই নির্বাচনী বাজেট৷ কিন্তু দেখা গেছে দুটি বাজেটের বৈশিষ্ট্য দু'রকম হয়৷ নির্বাচনের এক দেড় বছর আগের বাজেটের আকার হয় বড়৷ আর ঠিক নির্বাচনের আগের বাজেট হয় অনকেটা রক্ষনশীল৷ কারণ এই বাজেট নির্বাচন পরবর্তী সরকারও পাবে৷ তাই অনেকটা দোদুল্যমানতায় থাকে সরকার৷ কিন্তু এরকম হওয়া উচিত নয়৷ এতে বাজেটের ধারাবহিকতা থাকে না৷ এবং অর্থনীতিকে এর মাশুল গুনতে হয়৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন