1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

নিরাপত্তা এবং ক্ষতিপূরণের বিষয় জানতে চায় হাইকোর্ট

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনায় তাঁদের ক্ষতিপূরণ ও নিরাপত্তায় কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, তা জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট৷ ৭ দিনের মধ্যে এ ব্যাপারে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে৷ এদিকে সংখ্যালঘুদের মধ্যে আতঙ্ক এখনও কমেনি৷

৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের পর সাতক্ষীরা, যশোর, ঠাকুরগাঁও, নাটোর, দিনাজপুর, মাগুরা, নেত্রকোনা, জয়পুরহাট, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রামে সংখ্যালঘুদের বাড়ি-ঘরে হামলা হয়৷ তাঁদের বাড়ি-ঘর ছাড়াও দোকান-পাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা হয় এবং তা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়৷ এই হামলায় আহত-নিহতের ঘটনা ছাড়াও ধর্ষণের শিকার হন সংখ্যালঘু নারীরা৷ সারা দেশে এর ব্যাপক প্রতিবাদ ও নিন্দা হলেও সংখ্যালঘুরা তারপরও আক্রান্ত হয়েছেন৷ আক্রান্ত হয়েছেন ঝালকাঠি, চাঁদপুর, পিরোজপুরের সংখ্যালঘু পরিবার৷

Bangladesh Hindus Überfall Jessore

সংখ্যালঘুদের নিরপত্তার ব্যাপারে সরকার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা কি আদৌ নিয়েছিল?



সংখ্যালঘু নির্যাতন ও তাঁদের নিরাপত্তার বিষয়টি বুধবার আদালতের নজরে আনেন আইনজীবী পরিমল চন্দ্র গুহ৷ বিষয়টি আমলে নিয়ে হাইকোর্টের বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি এবিএম আলতাফ হোসেনের বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে সরকারের ওপর রুল জারি করে৷ রুলে আদালত সংখ্যালঘুদের নিরপত্তা এবং ক্ষতিপূরণের কেন নির্দেশ দেয়া হবে না – তা জানতে চেয়েছে৷ সাত দিনের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে৷ স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশের মহাপরিচালক, ব়্যাবের মহাপরিচালক, সংশ্লিষ্ট জেলার ডিসি ও পুলিশ সুপারদের ওপর এই রুল জারি করা হয়৷ একই সঙ্গে আদালত জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের সাত দিনের মধ্যে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং কী ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়েছে তার প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেছে৷

ব়্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসান ডয়চে ভেলেকে জানান, তারা সংখ্যালঘুদের বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছেন৷

এছাড়া, অপরাধীদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযানও পরিচালনা করছেন তারা৷ তারা পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনা মেনে যৌথভাবে কাজ করছেন৷ পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, ক্ষতিপূরণের বিষয়টি সরকার এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় দেখছে৷ পুলিশের মহাপরিদর্শক বেশ কয়েকটি আক্রান্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন৷ আর পুলিশ সুপাররা ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছেন৷ সরকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে এসব অপরাধের বিচার করবে৷

তবে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিচালক নূর খান ডয়চে ভেলেকে বলেন, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার ব্যাপারে সরকার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিয়েছে বলে তাঁর মনে হয় না৷ তিনি বলেন, তাঁরা যে আক্রান্ত হতে পারে তা সবারই জানা ছিল৷ তারপরও তাঁদের আগাম নিরাপত্তা দেয়া হয়নি৷ আবার হামলার পর, সরকার এর প্রতিক্রিয়া দেখার জন্য যেন কিছুটা সময় নিয়েছে৷ তিনি বলেন, এখনো হামলা হচ্ছে এবং আতঙ্কও কাটেনি৷ এমনকি, তাঁরা সাময়িক কিছু সহায়তা ছাড়া ক্ষতিপূরণ পাননি৷

নূর খান বলেন, ২০০১ সালেও শত শত সংখ্যালঘু পরিবার নির্যাতনের শিকার হন৷ কিন্তু বিচার হয়েছে মাত্র তিনটি ঘটনার৷ তাঁর কথায়, ‘‘এবার যেন সেরকম না হয়৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন