1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ফুটবল

নিরব করতালিতে রুনির বিদায়

নানা কারণেই ওল্ড ট্রাফোর্ড থেকে ওয়েন রুনির বিদায় হয়েছে একরকম নিরব করতালির মধ্য দিয়ে৷ কিন্তু তিনি যে ‘লাল শয়তান' শিবিরের একজন বীর যোদ্ধা এ কথা কি কেউ ভুলতে পারবে?

১৮ বছর বয়সের সেই উদ্যমী তরুণের কথা মনে আছে? ক্ষিপ্র, অপ্রতিরোধ্য৷ বল নিয়ে ছোটাই যেন তাঁর নেশা৷ এভার্টনের নীল পোশাক ছাড়িয়ে থিয়েটার অফ ড্রিমসে রক্তিম অভিবাদনে তাঁকে সিক্ত করলেন স্যার অ্যালেক্স৷ ঐ অভিবাদনের কি জবাবটাই না দিলেন সেই তরুণ৷ ২০০৪ সালের সেপ্টেম্বরে ফেনাবাচের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে অভিষেক৷ প্রথমার্ধেই নিস্টেলরয়ের বাড়ানো বলটিকে বাঁ পায়ের জোড়ালো শটে জালে জড়িয়ে জানিয়ে দিলেন, ইতিহাস রচনা করতে এসেছেন তিনি৷ এর কিছু পর রায়ান গিগসের কাছ থেকে বল পেয়ে ডান পায়ে অসাধারণ শট৷ কোনো সুযোগ নেই গোলরক্ষকের৷ দ্বিতীয়ার্ধে স্পটকিক থেকে তৃতীয় গোল৷ তিনটি শটই ডি-বক্সের বাইরে থেকে৷ এ যেন এক স্বপ্নময় অভিষেক৷

এরপরের অংশটুকু শুধু এক ছুটতে থাকা অজেয় ইংলিশ সিংহের গল্প৷ লাল জার্সি গায়ে নামের পাশে লিখেছেন পাঁচটি প্রিমিয়ার লিগ, একটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, একটি ইউরোপা লিগ, একটি এফএ কাপ, তিনটি লিগ কাপ ও একটি ফিফা ক্লাব ওয়ার্ল্ড কাপের শিরোপা৷ জুনিয়র হিসেবেই ইংলিশ ফুটবলের সেরার মুকুট পড়েছেন দু'বার, সিনিয়র লেভেলে একবার ২০১০ সালে৷ এছাড়া ফুটবল লেখকদের ভোটেও সেরা নির্বাচিত হয়েছেন একবার৷ গেল মৌসুমেই পেরিয়েছেন ম্যানইউর পক্ষে স্যার ববি চার্লটনের ২৪৯ গোলের রেকর্ড৷ ক্লাবের পক্ষে তাঁর গোল সংখ্যা সর্বোচ্চ ২৫৩টি৷ ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ‘শহুরে শত্রু' ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে শূন্যে ভেসে করা তাঁর সেই বাইসাইকেল কিক গোলটি অবিস্মরণীয় করে রাখবে তাঁকে৷ কোচ ফার্গুসন তো বলেই ফেলেছেন যে তাঁর সাড়ে ছাব্বিশ বছরের ক্যারয়ারে দেখা সেরা গোল এটি৷

Manchester United Wayne Rooney Flash-Galerie

গেল কয়েক মৌসুমে কিছুটা ব্রাত্য হয়ে উঠেছিলেন ক্লাব ও সমর্থকদের কাছে৷ তিন তিনবার ক্লাব ছেড়ে দেবারও আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল৷ যেমন, ২০১০ সালে হঠাৎ করেই ঘোষণা দিলেন যে তাঁকে নিয়ে ক্লাবের ভবিষ্যৎ চিন্তাভাবনা সম্পর্কে ‘অনিশ্চিত' তিনি৷ গুজব রটল যে সেই ‘শহুরে শত্রু'র ঘরেই ঠাঁই করে নিচ্ছেন তিনি৷ দু'দিন পরই আবার পুরো ইউটার্ন নিয়ে ওল্ড ট্রাফোর্ডেই নতুন চুক্তি করলেন৷ সাপ্তাহিক বেতন বাড়ল দ্বিগুণ৷ প্রশ্ন উঠল, বেতন বাড়াতেই কি তাঁর এই উল্লম্ফন? মনক্ষু্ণ্ণ হলেও মেনে নিলেন সমর্থকরা৷ কিন্তু কিসের কি? আবারো এমন কান্ড করলেন ইংলিশ তারকা৷

২০১৩ সালে স্যার অ্যালেক্সের অবসর গ্রহণের পর নতুন কোচ ময়েসের সঙ্গে ঝগড়া বাধল৷ এবার চেলসিতে চলে যাবার হুমকি৷ এবারও আরেক বাম্পার ডিল তাঁকে থামিয়ে রাখল৷ সমর্থকদের ভালোবাসাও অনেকটা কমতে থাকল৷ সঙ্গে যোগ হলো বাজে পারফরম্যান্স৷ গেল কয়েক মৌসুমে গোলের দেখা পাওয়াটাই যেন কঠিন হয়ে পড়ছিল তাঁর জন্য৷

তবে এত কিছুর পরও ওল্ড ট্রাফোর্ডের সঙ্গে তাঁর ১৩ বছরের সম্পর্ক যেন এক অটুট বন্ধন৷ তাই তাঁর বিদায়ে আবেগঘন এক ভিডিও বানানো হয়েছে ক্লাবের পক্ষ থেকে৷

আর সতীর্থরাও নিরব টুইটারে স্মরণ করছেন তাঁকে৷ জানাচ্ছেন অভিবাদন৷

‘‘ও আমার দেখা ইউনাইটেডের সেরা স্ট্রাইকার৷'' নিজ অ্যাকাউন্ট থেকে এই টুইটটি করেছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড লিজেন্ড গ্যারি নেভিল৷

ওল্ড ট্রাফোর্ডের আরেক সেনসেশন অ্যান্ডার হেরেরা লিখেছেন, ‘‘একদিন আমি আমার নাতি-নাতনিদের কাছে গল্প করতে পারব যে, আমি তোমার সাথে খেলেছি৷ অনেক শুভকামনা এবং ধন্যবাদ৷''

ক্লাবে থেকে যাওয়া ২০০৮ সালের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ দলের একমাত্র সদস্য মাইকেল ক্যারিক লিখেছেন, ‘‘প্রথম দিন থেকেই তিনি আমাকে মুগ্ধ করেছেন৷ অনন্যসাধারণ৷ চড়াই উৎড়াই ছিল৷ তবে কী অসাধারণ পথচলা! তাঁকে খুব মিস করব৷ শুভকামনা বন্ধু ও লিজেন্ড৷''

বিদায়বেলায় এমনই অশ্রুসজল হয়েছেন নতুন-পুরোনো সতীর্থরা৷

হয়ত ফিটনেস ও কলাকৌশলে মেসি-রোনালদোর কাঁতারে কখনোই দাঁড়াতে পারেননি৷ কিন্তু ফুটবল বিশ্ব জানে, ওল্ড ট্রাফোর্ড জানে, তিনি ক্ষণজন্মা৷ গুডিসন পার্কে যেই নীল জার্সি পড়েছিলেন ছোটবেলায়, যেই জার্সি খুলিয়ে রক্তিম অভিবাদন জানিয়েছিলেন ফার্গি, সেই লাল জার্সি খুলে ৩১ বছর বয়সে আবারো ছেলেবেলার গুডিসন পার্কেই ফিরেছেন এই ইংলিশ মায়েস্ত্রো

নির্বাচিত প্রতিবেদন