1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

নিরক্ষরতা অনেক বড় সমস্যা আফগানিস্তানে

আফগানদের মধ্যে নিরক্ষরতা ব্যাপক৷ তবে নারী শিক্ষার হাল সেখানে আরও অনেক বেশি করুণ৷ সারা দেশে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য নিরক্ষর মেয়ে৷

default

আফগানিস্তান থেকে ন্যাটো বাহিনী ধীরে ধীরে তাদের সেনা প্রত্যাহার শুরু করতে যাচ্ছে৷ ২০১৪ সাল থেকে এক এক করে সেনা সরিয়ে নেয়া হবে৷ তখন আফগানিস্তানের দায়-দায়িত্ব পুরোটাই বর্তাবে আফগানদের ওপর৷ কিন্তু এই দেশটির সমস্যার অন্ত নেই৷ নিরক্ষরতা অত্যন্ত বড় এক সমস্যা৷ আফগানদের মধ্যে সাক্ষরতার অভাব তীব্র৷ বিশেষ করে মেয়েদের শিক্ষার হার খুবই নীচু৷ আফগানিস্তান কী এই অবস্থায় এগিয়ে যেতে সক্ষম হবে?

একজন আফগান মহিলা বললেন,‘‘যদি একটি পরিবারে মা লেখাপড়া জানে তাহলে সে তার বাচ্চাদের শেখাতে পারে৷ বাচ্চাদের পড়াশোনা করতে উদ্বুদ্ধ করতে পারে৷ ‘আমার মা লেখাপড়া জানে' – এই প্রেরণাতেই বাচ্চারা এগিয়ে যাওয়ার সাহস আর উৎসাহ পায়৷''

অসংখ্য নিরক্ষর আফগান মহিলার মধ্যে তিনিও একজন৷ তিনি তার স্বামী এবং সন্তানদের নিয়ে গ্রামে বসবাস করেন৷ কখনো স্কুলে যাননি৷ তিনি ছোট বেলা থেকেই বাড়ির কাজে ব্যস্ত ছিলেন এবং মাঠে কাজ করেছেন৷ অনেক ছোট বেলায় বাবা তাঁর বিয়ে দিয়ে দেন৷ এখন তাঁর বয়স ২০ এবং তিন সন্তানের মা তিনি৷ এতদিন পর তিনি লেখাপড়া করার সুযোগ পাচ্ছেন৷ ইউনিসেফ একটি স্কুল খুলেছে তাঁর গ্রামে৷ প্রতিদিন তিনি সেখানে সময় করে যান৷ একটি তাঁবুর নীচে স্কুলটি তৈরি করা হয়েছে৷ শিক্ষিকা আসেন রাজধানী কাবুল থেকে৷ প্রতিদিন এই গ্রামে কাবুল থেকে আসতে দুই ঘন্টা সময় লাগে৷

Flash-Galerie berufstätige afghanische Frauen

আফগানিস্তানে কর্মস্থলে নারীদের উপস্থিতি বাড়ছে

বাড়ি থেকে বের হলেই স্বামী মারধোর করতো

শিক্ষিকা বললেন,‘‘আমি যে শিক্ষা দিচ্ছি তাতে আশা করছি, এই গ্রামের মহিলাদের জীবন পাল্টাতে সাহায্য করবে৷ আগে পুরুষরা মহিলাদের বাড়ি থেকে বের হলেই মারধোর করতো৷ এখন আর তারা বাধা দিচ্ছে না৷ বাড়ির মেয়ে বা বউ পড়াশোনার জন্য প্রতিদিন বাইরে যাচ্ছে তা তারা মেনে নিয়েছে৷ অন্ততপক্ষে ভাল কিছু করছে মেয়েগুলো – এই বোধ তাদের হয়েছে৷''

আফগানিস্তানে তালেবান শাসনামলে মেয়েদের জন্য লেখাপড়া পুরোপুরি নিষিদ্ধ ছিল৷ তালেবান আমলের পর দেশে অনেক পরিবর্তন হয়েছে৷ অবকাঠামোয় পরিবর্তন এসেছে৷ নতুন রাস্তা-ঘাট তৈরি হয়েছে৷ রাজধানী কাবুলের চেহারা বদলেছে৷ তৈরি হয়েছে অনেক স্কুল৷ দেশ চলছে নতুন সংবিধান অনুযায়ী৷ তবে আফগান মানবাধিকার কর্মী সিমা সামার বললেন অন্য কথা৷

মানবাধিকার কর্মী সিমা সামারের আক্ষেপ

সিমা সামার জানান,‘‘দেশে গণতন্ত্র এসেছে কিনা তা বোঝার আরেক মাপকাঠি হল নারীদের স্বাধীনতা৷ তাদের সমানাধিকার নিশ্চিত করা৷ যেখানে নারীদের সমানাধিকার নেই সেখানে গণতন্ত্রও নেই৷''

আফগানিস্তানের সংবিধান মেয়েদের পূর্ণ স্বাধীনতা এবং লেখাপড়ার অধিকার দিয়েছে৷ তবে বাস্তব চিত্র পুরোপুরি ভিন্ন৷ বিশেষ করে গ্রামগুলোতে৷ পুরুষশাসিত আফগান সমাজে ডানা মেলে রেখেছে অতি রক্ষণশীল জীবন যাপন এবং ধর্মভীরুতা৷ পুরুষরাই সিদ্ধান্ত নেয় মেয়েদের জন্য৷ গত ৩০ বছর ধরে তাই হয়ে আসছে৷ সামনে পুরুষদেরই সবসময় দেখা গেছে৷ মহিলারা থেকেছে পর্দার আড়ালে, পুরোপুরি অদৃশ্য৷ এরপরেও প্রায় আড়াই লক্ষ আফগান মেয়ে নিয়মিত স্কুলে যাচ্ছে৷ তবে তা শুধু প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত৷ প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পরপরই তাদের বিয়ে দিয়ে দেয়া হয়৷ বাবা এবং পরিবারের পাশাপাশি রয়েছে সামাজিক চাপ – মেয়ে বড় গেছে মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দিতে হবে৷ আফগানিস্তানের দুই তৃতীয়াংশ প্রদেশে দেখা গেছে কোন মেয়েই প্রাথমিক বিদ্যালয় শেষ করার পর আর পড়াশোনার ধারে-কাছে ভিড়তে পারেনি৷ আক্ষেপের সঙ্গে সিমা সামার আরো বললেন,‘‘নারী অধিকার আর মানবাধিকার নিয়ে আজকাল আর কেউ উচ্চবাচ্য করেনা৷ আমরা যদি ২০০২ এবং ২০০৩ সালের দিকে তাকাই তাহলে আমরা দেখবো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আফগানিস্তানে নারী অধিকার এবং নারী স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছে৷ এদেশে মানবাধিকার রক্ষার কথা বলেছে৷ অথচ এখন আর এসব দিকে কারো নজর নেই৷ কোন শর্ত পূরণের উল্লেখ নেই৷ কার কী দায়িত্ব, সরকারের কী কর্তব্য তা স্পষ্ট করে কেউই আর বলছে না৷ নারীদের স্বাধীনতা, তাদের রক্ষার কথা, তাদের অধিকার আদায় হবে কি না তা নিয়ে এখন আর কোন উচ্চবাচ্য নেই৷ কীভাবে তালেবান জঙ্গিদের সঙ্গে কথা বলা যায়, তাদের সঙ্গে সমঝোতায় আসা যায় – আজকাল শুধু তাই নিয়েই আলোচনা হয়৷''

প্রতিবেদন: মারিনা জোয়ারদার

সম্পাদনা: অব্দুল্লাহ আল-ফারূক

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়