1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

খেলাধুলা

‘‘নিপ্পন! বানজাই!'' ২০২০-এর অলিম্পিক্স টোকিও-তে

অর্থনৈতিক সংকট-পীড়িত স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদ নয়; দুই মহাদেশের মাঝখানে অবস্থিত মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ তুরস্কের কিংবদন্তির শহর ইস্তানবুল নয়৷ দ্বিতীয়বারের জন্য অলিম্পিক্স আয়োজনের সুযোগ পেল টোকিও, ফুকুশিমার বিপদ সত্ত্বেও৷

আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস আইরেস-এ আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির ভোটে, ৬০ বনাম ৩৬ ভোটে ইস্তানবুল-কে হারায় টোকিও, মাদ্রিদ প্রথম রাউন্ডেই বাদ পড়ার পরে৷ অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা যদি মাদ্রিদের বাদ পড়ার কারণ হয়ে থাকে, তাহলে আঞ্চলিক রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা নিশ্চয় ইস্তানবুলের বাদ পড়ার একটা কারণ৷ দৃশ্যত আইওসি এবার রক্ষণশীল ও নিরাপদ একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷

অবশ্য অলিম্পিক প্রচারণা অভিয়ানের একেবারে শেষদিকে এসে জাপানের ভরাডুবি ঘটতে পারত: ফুকুশিমার কারণে৷ সুনামি-বিধ্বস্ত পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রটি টোকিও থেকে মাত্র দু'শো কিলোমিটার দূরে৷ সেখানে তেজস্ক্রিয়তা সংক্রমিত পানির ফলে বিশেষ সুরক্ষা ছাড়া চার ঘণ্টার মধ্যে মানুষের মৃত্যু ঘটতে পারে, এ ধরনের খবর আইওসি অবধিও পৌঁছেছিল৷

জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে কমিটির ভোটের আগে টোকিও-র চূড়ান্ত উপস্থাপনায় দু'টি প্রতিশ্রুতি দেন: প্রথমত, ফুকুশিমা টোকিও-র পক্ষে বিপদ হয়ে উঠবে না; দ্বিতীয়ত, টোকিও গেমস-কে নিরাপদ রাখার দায়িত্ব তিনি ব্যক্তিগতভাবে নিচ্ছেন৷ ইতিপূর্বেই জাপান সরকার ফুকুশিমায় নিরাপত্তা সংক্রান্ত কার্যকলাপের দায়িত্ব নিজের হাতে নেন৷

Tokio Bewerbung für Olympia 2020

৬০ বনাম ৩৬ ভোটে ইস্তানবুল-কে হারায় টোকিও

২০১৬ সালের অলিম্পিক্স আয়োজনের জন্যও টোকিও প্রার্থী ছিল, কিন্তু সেবার টোকিও-র মানুষজনের উৎসাহের কিছু কমতি দেখা যায়, যা আইওসি-র নজর এড়ায়নি৷ এবার টোকিও-র ৭০ শতাংশ বাসিন্দা অলিম্পিক্স আয়োজন সমর্থন করেন৷ তার একটা কারণ আবার – ঘুরেফিরে – জাপানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি: বিগত বেশ কয়েক বছরের স্ট্যাগনেশন বা নিশ্চলতা৷ সেখানে ‘আবেনমিক্স', অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে-র ইকনমিক্স একটি দীর্ঘমেয়াদি নিরাময়ের প্রক্রিয়া চালু করতে চাইছে, যাতে ২০২০-এর অলিম্পিক্স সাহায্য করবে বৈকি৷

স্পোর্টসের নজর এশিয়ার দিকে

টোকিও যে ২০২০ সালের অলিম্পিক্স পেল, সেটা মূলত বিশ্বায়িত দুনিয়ায় খেলাধুলার ‘পাওয়ার বেস' এশিয়ার দিকে ঝুঁকেছে বলে৷ আগে স্পোর্টসের বড় বড় ইভেন্টগুলো ইউরোপ আর উত্তর অ্যামেরিকার মধ্যেই ভাগাভাগি করে নেওয়া হতো৷ আজ খেলাধুলার আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলো ক্রমেই আরো বেশি করে এশিয়ার দিকে ঝুঁকছে৷

খেলাধুলার প্রশাসক-সংগঠকদের কাছে এশিয়ার আকর্ষণ সহজবোধ্য৷ বিশ্বের জনসংখ্যার অর্ধেকেরই বাস এশিয়ায়৷ এছাড়া বিশ্বের যে ক'টি অর্থনীতি সবচেয়ে দ্রুত হারে বাড়ছে, তাদেরও অধিকাংশ এশিয়ায়৷ ২০২০ সালের আগেই একাধিক আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ‘ইভেন্ট' এশিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে৷ ২০১৮-র শীতকালীন অলিম্পিক্স এবং ২০১৯ সালের বিশ্ব সুইমিং চ্যাম্পিয়নশিপস অনুষ্ঠিত হবে দক্ষিণ কোরিয়ায়৷ পরবর্তী, অর্থাৎ ২০১৫ সালের বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপস অনুষ্ঠিত হবে বেইজিং-এ৷

Olympischen Sommerspiele London 2012 Medaillen

অলিম্পিক গেমসের পদক

যিনি সবচেয়ে খুশি

টোকিও অলিম্পিক্স পাওয়ায় সবচেয়ে খুশি যে অ্যাথলিট, তিনি হলেন জাপানের ট্রিপল গোল্ড মেডালিস্ট সাওরি ইয়োশিদা৷ ইনি ৫৫ কিলো বিভাগের মহিলা কুস্তিগির৷ মহিলাদের রেসলিং অলিম্পিক্সে ঢোকে ২০০৪ সালে৷ সেযাবৎ তিনবার সোনা জিতেছেন ইয়োশিদা৷ এছাড়া পর পর দশবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ খেতাবটিও জিতেছেন৷

জুডোর মতো রেসলিং থেকেও জাপান নিয়মিত সোনা জিতে থাকে৷ তাই গত ফেব্রুয়ারি মাসে আইওসি যখন রেসলিং-কে ২০২০ সালের অলিম্পিক্স থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তখন সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অভিযানে সবচেয়ে সক্রিয় দেশগুলির মধ্যে ছিল জাপান৷ সপ্তাহান্তে আইওসি-র ভোটে বেসবল/সফ্টবল ও স্কোয়াশ'কে হারিয়ে রেসলিং আবার তার জায়গা ফিরে পায়৷

নিজের প্রায় হৃত স্পোর্ট, তায় আবার স্বদেশে: ইয়োশিদা যে এবার ২০২০-এ চতুর্থবারের মতো সোনা জেতার স্বপ্ন দেখবেন, সেটা স্বাভাবিক৷ তখন তাঁর বয়স হবে ৩৭ বছর৷

এসি / এসবি (এপি, রয়টার্স, এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন