1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

নিজের দেশেই বিপাকে মুহাম্মদ ইউনূস

নোবেল জয়ী এবং ক্ষুদ্রঋণের প্রবর্তক মুহাম্মদ ইউনূস নিজের জন্মভূমি বাংলাদেশেই বিপাকে পড়েছেন৷ পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টার মাশুল দিচ্ছেন ইউনূস৷

default

প্রফেসর ইউনূস

গরিব উদ্যোক্তাদের ক্ষুদ্রঋণ প্রদানের অনন্য কাজের জন্য ইউনূস আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত৷ কিন্তু বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে মানহানির মামলায় আদালতে হাজির হতে হয়েছে তাঁকে, একইসঙ্গে তাঁর প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংকের বিরুদ্ধেও শুরু হয়েছে সরকারি তদন্ত৷

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক এবং ভাষ্যকার এম. এম. আকাশ ইউনূসের বর্তমান অবস্থা প্রসঙ্গে বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেন, ইউনূসের সমস্যার শুরুটা ২০০৭ সালে, যখন দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটিতে চরম বিশৃঙ্খল অবস্থা চলছিল৷

তিনি বলেন, ইউনূস রাজনৈতিক দল গড়ার কথা প্রচারের আগ পর্যন্ত হাসিনার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক দৃশ্যত ভালো ছিল৷ দল গড়ার কথা প্রচার করা ছিল তাঁর গুরুতর রাজনৈতিক ভুল, যার খেসারত এখন দিতে হচ্ছে৷

বলাবাহুল্য ২০০৭ সালে ‘নাগরিক শক্তি' নামক একটি রাজনৈতিক দল গঠনের চেষ্টা করেন ইউনূস৷ সপ্ততিপরবৃদ্ধ এই গরিবের ব্যাংকার বাংলাদেশের সংঘাতময় রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনতে চেয়েছিলেন৷

সেসময় ইউনূস বলেন, আমার রাজনীতির লক্ষ্য হবে রাজনীতিতে সততা প্রতিষ্ঠা এবং জাতির ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য ঐক্য ও শান্তির রাজনীতি৷ কার্যত দুই শীর্ষ রাজনৈতিক দলের বিকল্প হিসেবে একটি দল গড়ার চেষ্টা করেছিলেন তিনি৷

Mohammad Yunus Flash-Galerie

২০০৭ সালে ‘নাগরিক শক্তি' নামক একটি রাজনৈতিক দল গঠনের চেষ্টা করেন ইউনূস

কিন্তু মাত্র কয়েক মাস স্থায়ী হয় ইউনূসের এই রাজনৈতিক পরিকল্পনা৷ ২০০৭ সালের মে মাসেই তিনি রাজনীতির পরিকল্পনা থেকে সরে আসেন৷ এর পরের বছরের ডিসেম্বরে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ৷

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক সালাউদ্দিন আমিনুজ্জামান এএফপিকে বলেন, বর্তমান ক্ষমতাসীন দল তাঁর উপর সন্তুষ্ট নয়৷ তাঁর বিরুদ্ধে কুৎসা রটনার চেষ্টা করার অর্থ হলো, তাঁকে এই কথাই বুঝিয়ে দেয়া যে, তিনি অপরিহার্য নন৷

তিনি বলেন, তারা তাঁকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাইছেঃ রাজনীতির কথা চিন্তাও করো না৷ বেশিরভাগ বাংলাদেশি মনে করে ইউনূসের এই শোচনীয় অবস্থার পেছনে হাসিনার পুরনো জেদই কাজ করছে৷

গত বছরের নভেম্বরে নরওয়ের একটি প্রামাণ্য চিত্রে অভিযোগ করা হয় যে, ১৯৯৬ সালে গ্রামীণ ব্যাংককে দেওয়া নরওয়ের দাতাদের অর্থের অপব্যবহার করেছেন ইউনূস৷ বিষয়টি প্রকাশের পর অসলো তদন্ত করে, এবং ইউনূস নির্দোষ প্রমাণিত হন৷ কিন্তু বাংলাদেশ সরকার বিষয়টি আমলে নিয়ে পৃথক তদন্তের ঘোষণা দেয়৷

এছাড়া, ২০০৭ সালে ইউনূসের একটি সাক্ষাৎকারকে কেন্দ্র করে দায়ের করা এক রাজনৈতিক নেতার মানহানি মামলাও পুনরুজ্জীবিত করা হয়েছে৷ পরিণতিতে গত মঙ্গলবার আদালতে হাজির হন ইউনূস৷

সরকার অবশ্য বলে আসছে, গ্রামীণ ব্যাংকের বিরুদ্ধে তদন্ত ইউনূসকে লক্ষ্য করে নয় এবং কোন রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থেও এটি করা হচ্ছে না৷ হাসিনার অর্থনৈতিক উপদেষ্টা মশিউর রহমান এএফপিকে এই প্রসঙ্গে বলেন, এই তদন্তের পেছনে কোন রাজনীতি নেই৷ ইউনূস একটি দল গড়তে চেয়েছিলেন, কিন্তু কখনো সেটা করেননি৷ আমরা শুধু গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যক্রমে কোন ত্রুটি আছে কিনা তা তদন্ত করবো৷ ইউনূস নিজে আমাদের তদন্তের প্রাথমিক লক্ষ্য নন৷

প্রতিবেদন: আরাফাতুল ইসলাম

সম্পাদনা: হোসাইন আব্দুল হাই

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়