1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

নিজেদের নিরাপত্তায় ব্রিগেড গঠন নিয়ে ভাবছেন ব্লগাররা!

বাংলাদেশের ব্লগাররা একের পর এক হত্যা ও হত্যার হুমকির ঘটনায় এবার নিজেরাই নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে ভাবছেন৷ গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার জানান, ‘‘সরকার নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হলে অন্য কোনো উপায় থাকবে না৷''

বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ন'জন ব্লগারকে হত্যা করা হয়েছে৷ আর এ সমস্ত হত্যার ঘটনা ঘটেছে তালিকা তৈরি করে৷ এখন আবার আরো কয়েকজন ব্লগারকে হত্যার হুমকি দেয়া হচ্ছে, যার মধ্যে আছেন গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার, মাহমুদুল হক মুন্সি, উগ্র মৌলবাদীদের হাতে নিহত প্রথাবিরোধী লেখক হুমায়ুন আজাদের ছেলে অনন্য আজাদসহ আরো কয়েকজন৷ ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘ব্লগাররা আমাদের কাছে হুমকির কথা জানালে আমরা ব্যবস্থা নেই৷ তবে তালিকা ধরে নিরপত্তা ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়টি আমাদের বিবেচনায় নেই৷''

ব্লগার মাহমুদুল হক মুন্সি ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের পর ৮৪ জন ব্লগারকে নিয়ে একটা হত্যা তালিকা করা হয়৷ সেই তালিকা ধরে হত্যা চলছে আর পুলিশ সেই তালিকার কাউকেই আলাদা কোনো নিরপত্তা দিচ্ছে না৷''

মাহমুদুল নিজেও ফেসবুকে এবং টেলিফোনে বার বার হত্যার হুমকি পেয়েছেন৷ এ নিয়ে সম্প্রতি পল্লবী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করেছেন৷ কিন্তু কোনো প্রতিকার পাননি৷ তিনি জানান, ‘‘পুলিশ কয়েকদিন আমার বাসার সামনে ঘুরেছে, কিন্তু যারা আমাকে হত্যার হুমকি দিয়েছে, তাদের চিহ্নিত করেনি৷''

পুলিশের দাবি, ব্লগাররা হত্যার হুমকি পেলেও তাদের তা জানায় না৷ মাহমুদুল বলেন, ‘‘এটা এখন হয়েছে৷ কারণ ব্লগাররা এর আগে অভিযোগ করেও কোনো ফল পাননি৷ অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডের আগে তাঁকে হত্যার হুমকি পুলিশকে জানানো হয়েছিল৷ কিন্তু পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি৷ ন'জন ব্লগার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশি তদন্ত হতাশজনক৷ তাই ব্লগাররা এখন আর পুলিশকে বিশ্বাস করতে পারছেন না৷''

তিনি আরো বলেন, ‘‘আমরা এখন নিশ্চিত যে পুলিশের মধ্যেও জঙ্গি এবং উগ্র ধর্মীয় গোষ্ঠীর প্রতি সহানুভূতিশীল লোকজন আছেন৷ তাই আমরা এখন আর পুলিশের ওপর আস্থা রাখতে পারছি না৷ এ কারণে হয়ত ব্লগাররা এখন হত্যার হুমকি পেলেও পুলিশকে জানাচ্ছেন না৷''

যুগ্ম কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় বলেন, ‘‘যে ৮৪ জন ব্লগারের কথা বলা হচ্ছে, তাঁরা এক জায়গায় থাকেন না৷ তাই এমন নয় যে এক জায়গায় নিরাপত্তা দিলেই তাঁদের সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে৷ আমরা সার্বিকভাবে নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করি৷ নিরাপত্তার ইস্যুটি শুধু পুলিশের একার বিষয় নয়৷ নিজের নিরাপত্তার ব্যাপারে নিজেদেরও সচেতন থাকতে হবে৷''

গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘আমাকেও হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছে৷ গোয়েন্দা সূত্র থেকে আমাকে এ তথ্য জানিয়ে সাবধানে থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে৷ কিন্তু এ নিয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে আমার নিরাপত্তার জন্য কিছু করেনি বা আমার সঙ্গে কথাও বলেনি৷'

তিনি বলেন, ‘‘দু'বছর আগে যে ৮৪ জন ব্লগারের হত্যার তালিকা করা হয়েছে, সেই তালিকার আমিও একজন৷ কিন্তু আজ পর্যন্ত এ নিয়ে আমি বা আমাদের সঙ্গে কোনো কথা বলেনি পুলিশ৷''

ইমরান এইচ সরকার বলেন, ‘‘ব্লগারদের নিরপত্তায় পুলিশের বিশেষ কোনো দলকে দায়িত্ব দেয়া উচিত এবং তাঁদের নিরাপত্তার দিকে বিশেষভাবে নজর দেয়া প্রয়োজন৷ কিন্তু তা করা হচ্ছে না৷'''

জানা গেছে, ব্লগাররা পুলিশের প্রতি আস্থা হারিয়ে এখন নিজেদের নিরাপত্তার ব্যাপারে নিজেরাই চিন্তা করছেন৷ আলোচনা করছেন ব্লগারদের নিরপত্তায় একটি ব্রিগেড গঠনের৷ ইমরান এইচ সরকার বলেন, এ ধরনের আলোচনা ব্লগারদের মধ্যে হচ্ছে৷ তবে আমরা সরকারকে আরো সময় দিতে চাই৷ দেখতে চাই শেষ পর্যন্ত সরকার ব্লগারদের নিরাপত্তায় বিশেষ কোনো ব্যবস্থা নেয় কিনা৷ যদি সরকার ব্যর্থ হয় তাহলে ব্লগারদের নিজেদের নিরাপত্তার জন্য নিজেদেরই কিছু করা ছাড়া উপায় থাকবে না৷''

ইমরান এইচ সরকার বলেন, ‘‘পুলিশের মধ্যে ব্লগারদের নিরাপত্তার ব্যাপারে যে নিস্পৃহতা তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়৷ ব্লগাররা রাষ্ট্রের নাগরিক৷ তাদের নিরাপত্তা দেয়া সরকারে দায়িত্ব৷ ৮৪ জন ব্লগার তো এখন চিহ্নিত, তাই তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না৷''

ওদিকে মাহমুদুল হক মুন্সির কথায়, ‘‘আমরা এখন অসহায়৷ যদি ব্লগার হত্যার বিচার হতো, অপরাধীরা ধরা পড়তো, তাদের শাস্তি হতো, তাহলে একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটতো না৷ ব্লগার হত্যা করলে কিছু হয় না৷ তাই হত্যাকারীরা দিন দিন আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে৷''

বাংলাদেশের পুলিশ অপরাধীদের ধরতে এখন তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করছে সফলভাবে৷ আবার উগ্র ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোও ব্লগার হত্যায় তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করছে৷ তাই তাদের শনাক্ত করা কঠিন কোনো কাজ নয়৷ ব্লগারদের প্রশ্ন, অন্য অপরাধীদের পুলিশ তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে ধরতে পারলেও ব্লগারদের হত্যাকারী ও হুমকিদাতাদের কেন ধরতে পারছে না? এর রহস্য কোথায়?

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়