1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

নিজস্ব বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর কথা ভাবছে ইউরোপ

পাকিস্তানে ভয়াবহ বন্যা, রাশিয়ায় দাবানল বা চীনে ভূমিধস – সাম্প্রতিক এই সব বিপর্যয়ের মুখে আবার টের পাওয়া গেল, মানুষ কতটা অসহায়৷ দ্রুত পদক্ষেপ নিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবার এক বিশেষ বাহিনী গঠন করার বিষয়ে ভাবনা-চিন্তা করছে৷

default

বিপর্যয় মোকাবিলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিশনর ক্রিস্টালিনা গেয়র্গিয়েভা

পাকিস্তানে বিপর্যয়

পাকিস্তানে ভয়াবহ বন্যার পর যথেষ্ট ত্রাণ তৎপরতা দেখা যাচ্ছে কি? অন্যান্য বিপর্যয়ের পর দেশ-বিদেশের ত্রাণকর্মীরা যেভাবে উদ্ধারকার্যে ঝাঁপিয়ে পড়েন, তেমনটা কি পাকিস্তানের ক্ষেত্রেও ঘটছে? এবিষয়ে যথেষ্ট বিতর্ক চলছে৷ জার্মানি সহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ বিচ্ছিন্নভাবে পাকিস্তানের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে৷ ইউরোপীয় কমিশনও বেশ তৎপরতা দেখাচ্ছে৷ কিন্তু অন্যদিকে চলতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে এতগুলি বিপর্যয়ের পরিপ্রেক্ষিতে শুধুমাত্র বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য এক স্থায়ী বাহিনী গঠন করার বিষয়ে ভাবনা-চিন্তা শুরু হয়েছে৷ এমন এক বাহিনী থাকলে তা দ্রুত বিপর্যয় এলাকায় পাঠিয়ে দেওয়া যাবে এবং তারা পরিস্থিতি বুঝে নিয়ে সময় নষ্ট না করে কাজে ঝাঁপিয়ে পড়বে৷

Treffen von Staatschefs in Brüssel

সার্কোজি ও বারোসো – বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী গঠনের জন্য তৎপরতা দেখাচ্ছেন

দ্রুত সহায়তার প্রয়োজন

বিশুদ্ধ পানীয় জল ও খাদ্যের ব্যবস্থা করা, অস্থায়ী বাসস্থান গড়ে তোলা, পোশাক-আশাক ও কম্বলের যোগান দেওয়া, চিকিৎসকদের টিম পাঠানো – বিপর্যয় ঘটলে এমন অনেক পদক্ষেপ যত দ্রুত নেওয়া যায়, মানুষকে তত বেশি সাহায্য করা যায়৷ পাকিস্তানের জন্য প্রাথমিক সাহায্যের প্রসঙ্গে ইউরোপীয় কমিশনের মুখপাত্র ফেরান তারাদেলাস এসপুনি বলেন, ‘‘কমিশন এখনো পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি সহায়তা দিচ্ছে৷ আমরা পাকিস্তানের জন্য চার কোটি ইউরো সাহায্য দিচ্ছি৷ শুধু তাই নয়, আমরাই সবার আগে এই অর্থ বরাদ্দ করেছি, যাতে সেদেশের মানবিক বিপর্যয় দ্রুত মোকাবিলা করা সম্ভব হয়৷''

Pakistan Flutkatastrophe Hilfe

বন্যা-কবলিত এলাকার মানুষ সহায়তার উপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন

ইতিমধ্যে অবশ্য পাকিস্তানের জন্য ই.ইউ.-র সহায়তার মাত্রা সাত কোটি ইউরো ছাড়িয়ে গেছে৷ কমিশনর গেয়র্গিয়েভা আগামী সোমবার পাকিস্তানের বন্যা-কবলিত এলাকা পরিদর্শন করবেন৷ স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, মানুষ ও এনজিও'র সঙ্গে আলোচনা করে তিনি পরিস্থিতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেতে চান৷ ই.ইউ.-র পররাষ্ট্র বিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তা ক্যাথরিন অ্যাশটন বলেছেন, পাকিস্তানের যতদিন সহায়তার প্রয়োজন হবে, ই.ইউ. তা দিয়ে যাবে৷

নিজস্ব কাঠামোর প্রস্তাব

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নিকোলা সার্কোজি মনে করেন, এই তৎপরতার আরও উন্নতি করা সম্ভব৷ তিনি বলেন, ‘‘হাইতির ভূমিকম্প ও রাশিয়ায় দাবানলের পর অবশেষে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে এবং এই ধরনের সংকট ঘটলে ইউরোপীয় স্তরে প্রতিক্রিয়া দেখানোর ক্ষমতা থাকতে হবে৷''

সার্কোজি ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট জোসে মানুয়েল বারোসোকে লেখা এক চিঠিতে এই মন্তব্য করেছেন৷ কমিশনের মুখপাত্র বলেন, বিষয়টিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে৷ বারোসো যেভাবে কমিশনের মধ্যে আলাদা একটি বিভাগ গঠন করে বিপর্যয়ের সময় সহায়তার জন্য একজন কমিশনর নিয়োগ করেছেন, তার মাধ্যমেই এই মনোভাবের পরিচয় পাওয়া যাচ্ছে৷ বুলগেরিয়ার ক্রিস্টালিনা গেয়র্গিয়েভা এই বিভাগের কমিশনর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করার সময়েই বলেছিলেন, যে তিনি বিপর্যয়ের পর সহায়তার ক্ষেত্রে ইউরোপের ভূমিকাকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে চান৷ তিনি বলেন, ‘‘আমরা এখন জানি যে শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বন্যা এখন আর একশো বছর পর পর নয় – আরও ঘনঘন দেখা যাচ্ছে৷ সেকারণেই আমাদের ই.ইউ. স্তরে এমন এক উন্নত কাঠামো গড়ে তুলতে হবে, যা দ্রুত কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে৷''

Flash-Galerie Deutschland Wochenrückblick 2010 KW 33 Pakistan Hilfe

বার্লিন থেকে সাহায্য পাঠানো হচ্ছে পাকিস্তানে

কমিশনর গেয়র্গিয়েভা মনে করেন, এই কাঠামো একদিকে যেমন সাহায্য করার ক্ষমতা সম্পর্কে সচেতন থাকবে, অন্যদিকে নিজস্ব দুর্বলতাগুলিও তুলে ধরবে৷ তারপর সেই দুর্বলতা দূর করা হবে৷ এই মুহূর্তে ই.ইউ. মূলত সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করে৷ ব্রাসেলস'এ এমআইসি নামের পর্যবেক্ষণ ও তথ্যকেন্দ্রে এই কাজ করা হয়৷ পাকিস্তানের জনগণের কী প্রয়োজন, তা সেখানেই নির্ধারণ করা হচ্ছে৷ বাকি দেশগুলি কে কী ধরণের সরঞ্জাম ও বিশেষজ্ঞ পাঠাচ্ছে, তার উপরেও নজর রাখা হয়৷

রূপায়নের সমস্যা

তবে এই মুহূর্তে বিপর্যয়ের সময় সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগে সহায়তা করার ক্ষমতা ই.ইউ.-র নেই৷ এর একটা কারণ অবশ্যই সদস্য দেশগুলির পক্ষ থেকে বাধা-বিপত্তি৷ তবে কিছু ব্যতিক্রম অবশ্যই রয়েছে৷ যেমন ২০০৭ সাল থেকে ই.ইউ.-র কাছে দুটি বিশেষ বিমান রয়েছে, যা দাবানলের সময় দমকল হিসেবে ব্যবহার করা যায়৷ আরও কিছু পরীক্ষামূলক প্রকল্প শুরু হয়েছে৷

ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিজস্ব বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী গড়ে তোলা উচিত কি না, সেবিষয়ে খোদ ইউরোপীয় কমিশনের মধ্যেও এখনো ঐক্যমত গড়ে ওঠে নি৷ তবে গ্রীষ্মকালীন ছুটির পরে কমিশনর গেয়র্গিয়েভা এই মর্মে এক পরিকল্পনার রূপরেখা পেশ করবেন৷ তারপর সেবিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা৷

প্রতিবেদন: সঞ্জীব বর্মন
সম্পাদনা: দেবারতি গুহ

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়