1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

নিখোঁজ বিমানের খোঁজে নতুন স্থানে তল্লাশি

নিখোঁজ মালয়েশীয় বিমানের ধ্বংসাবশেষ দক্ষিণ ভারত মহাসাগরের নির্দিষ্ট তল্লাশি অঞ্চল থেকে ১১শ' কিলোমিটার উত্তরপূর্বে আছে বলে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে জানা গেছে৷ এর ফলে সেখানে নতুন করে শুরু হয়েছে অভিযান৷

রাডার থেকে নতুন তথ্য পাওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে শুক্রবার জানিয়েছে অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষ৷ অস্ট্রেলিয়ান মেরিটাইম সেফটি অথরিটি (এএমএসএ)-র ব্যবস্থাপক জন ইয়াং জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক দশটি বিমান ও ছয়টি জাহাজ অস্ট্রেলিয়ার পার্থ শহর থেকে ১ হাজার ৮শ' ৫০ কিলোমিটার পশ্চিমে ৩ লাখ ১৯ হাজার বর্গকিলোমিটারের নতুন একটি এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে৷

অনুকূল স্থান

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী টোনি অ্যাবট বলেছেন, নতুন তথ্য অনেকটাই আশাপ্রদ এবং তার অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন৷ অস্ট্রেলিয়ার জেমস কুক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ববিদ রবিন বিমেন জানিয়েছেন, বর্তমান এলাকাটি তল্লাশির জন্য অনুকূল৷ আর সেখানে যাতায়াতে অনুসন্ধানী বিমান বা জাহাজের খুব বেশি সময় লাগবে না৷ এছাড়া আবহাওয়াও ধীরে ধীরে ভালো হয়ে আসছে৷ এরই মধ্যে চীনের পাঁচটি জাহাজ ঐ স্থানের দিকে রওনা হয়েছে৷ শনিবার রাতের মধ্যে তারা সেখানে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে৷ পার্থের আড়াই হাজার কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে দক্ষিণ ভারত মহাসাগরে আন্তর্জাতিক আকাশযান ও জাহাজের এক সপ্তাহেরও বেশি অনুসন্ধান এখনও পর্যন্ত নিষ্ফল৷

প্রযুক্তির সহায়তা

তিন সপ্তাহ ধরে মালয়েশীয় বিমানটি সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য না পাওয়া বিষয়টি প্রযুক্তিবিদদের বেশ ভাবিয়ে তুলেছে৷ যোগাযোগ যন্ত্র/ডিভাইস এবং ট্র্যাকিং যন্ত্রগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধতা ধরা পড়েছে৷ যদিও স্যাটেলাইট ও রাডারের মাধ্যমে পাওয়া তথ্য থেকে মনে হচ্ছে বিমান নিখোঁজ রহস্য অমীমাংসিত থাকবে না৷

উন্নত প্রযুক্তির এই যুগে এ ধরনের ব্যর্থতায় মানুষ অবাক হয়েছে৷ তারা জানতে পারছে, রাডার এবং স্যাটেলাইট সব দেখতে পায় না৷ সেলফোনের স্থান সবসময় নির্ধারণ করা সম্ভব নয় এবং বিমানের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো মজুদ হয়, সবগুলো সেই মুহূর্তে স্থানান্তর নাও হতে পারে৷

বিমান সংক্রান্ত পরামর্শক (এভিয়েশন কনসালটেন্ট) রিচার্ড অ্যাবোলাফিয়া বলেছেন, প্রযুক্তি অনেক কাজই করতে পারে, তবে মূল কাজটা করতে প্রয়োজন মানুষের বুদ্ধিমত্তা৷ বিমানের সাথে যুক্ত কিছু প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা নেয়া যাক৷

ককপিট ডিভাইসগুলো রাডার স্টেশনে সিগনাল পাঠায়, যা থেকে জানা যায় বিমানের নম্বর, কোন দিকে যাচ্ছে, গতি কত এবং উচ্চতা সম্পর্কে৷ আর রাডার হচ্ছে একটি রেডিও, যা সংকেত সনাক্ত করে৷ রাডার কেবল ২০০ থেকে ২৫০ মাইল দূরের বিমানকে ট্র্যাক করতে পারে৷ তবে এটাও নির্ভর করে রাডারের প্রযুক্তি ও আবহাওয়ার উপর৷ বিশাল খরচের কারণে অল্প কয়েকটি জেট বিমান সর্বক্ষণ স্যাটেলাইট ব্যবহার করে৷ কেননা প্রতি মিনিটে স্যাটেলাইট ব্যবহারের জন্য ৭ থেকে ১৩ ডলার করে দিতে হয় এক একটি বিমানকে৷ বিমানে সাধারণত দুটি ব্ল্যাক বক্স থাকে, যেগুলোর রঙ আসলে কমলা৷ একটিতে কথোপকথন এবং ককপিটের আওয়াজ রেকর্ড হয়৷ অন্যটিতে রেকর্ড হয় ফ্লাইটের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যেমন উচ্চতা ও গতি৷ ব্ল্যাক বক্সের ব্যাটারিতে চার্জ থাকে কমপক্ষে ৩০ দিন৷ তবে তথ্যগুলো বছরের পর বছর সংরক্ষিত থাকে৷ ২০০৯ সালে এয়ার ফ্রান্স বিধ্বস্ত হওয়ার ২৩ মাস পর বিমানটির ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার হয়েছিল, কিন্তু তাতে সব তথ্য মজুদ ছিল৷

মালয়েশিয়াকে বয়কট

বিমানটি নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে চীনাদের ব্যাপক ক্ষোভের মুখে রয়েছে মালয়েশিয়া৷ বিমান আরোহীদের স্বজনদের পর এবার চীনের সেলিব্রেটিরাও দেশটির বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লেগেছে৷ বেশ কয়েকজন চীনা তারকা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণা শুরু করেছেন যাতে তাদের ফলোয়াররা মালয়েশিয়াকে বয়কট করে৷ তবে এতে ক্ষুব্ধ হয়েছেন মালয়েশিয়ার নাগরিকরা৷ ফেসবু্ক ব্যবহারকারী মালয়েশীয় নাগরিক পেই লিং গান বলেছেন, ‘এই দুর্ঘটনায় কেবল চীনারাই ভুক্তভোগী নন৷ আরো অনেকেই ভুক্তভোগী৷'

এদিকে চীন-মালয়েশিয়ার মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আগামী মে মাসে চীনে যাওয়ার কথা মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর৷ এর আগে মালয়েশিয়া-চীনের চেম্বার অফ কমার্সের মধ্যে বিভিন্ন অনুষ্ঠান হওয়ার কথা থাকলেও সেগুলো এরই মধ্যে বাতিল করা হয়েছে৷

৮ই মার্চ মধ্যরাতে কুয়ালালামপুর থেকে রওনা হয়ে বেইজিংগামী বিমানটি ২৩৯ জন আরোহীসহ রহস্যময়ভাবে নিখোঁজ হয়ে যায়৷ বিমানটি ভারত মহাসাগরের কোথাও বিধ্বস্ত হয়েছে এবং এর যাত্রীদের কেউ বেঁচে নেই বলে ঘোষণা দিয়েছে মালয়েশীয় কর্তৃপক্ষ৷

এপিবি/এসবি (এপি, এএফপি, ডিপিএ, রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন