1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

না খেয়ে থাকার প্রামাণ্য চিত্র

কিছু না খেয়ে কী বেঁচে থাকা যায়? কোনো কোনো মানুষের পক্ষে নাকি তা সম্ভব৷ অস্ট্রিয়ার চলচ্চিত্র পরিচালক পেটার আর্থুর শ্ট্রাউবিংগার বিষয়টি নিয়ে মাথা ঘামিয়েছেন বেশ কয়েক বছর৷ নির্মাণ করেছেন একটি প্রামাণ্য চিত্র৷

default

ছবির নাম ‘প্রথমে ছিল আলো’

খাওয়া ছাড়া কী বেঁচে থাকা সম্ভব? এই প্রশ্ন শুনলে বিস্ময় জাগবে, বিশেষ করে পশ্চিমা বিশ্বের মানুষের মনে৷ কেননা সবকিছুই যুক্তি দিয়ে বোঝার চেষ্টা করা হয় এখানে৷ কিন্তু প্রাচ্যের যোগী সন্ন্যাসী ছাড়াও কোন কোন মানুষ যে, না খেয়ে বেঁচে থাকতে পারে, সে খবর পাওয়া গেছে নানা সূত্র থেকে৷ আর এ বিষয়টি আকৃষ্ট করেছে অস্ট্রিয়ার চলচ্চিত্র পরিচালক পেটার আর্থুর শ্ট্রাউবিংগারকে৷ কয়েক দশক ধরে সমীক্ষা চালিয়েছেন তিনি বিষয়টির ওপর, সংগ্রহ করেছেন তথ্য উপাত্ত৷ অবশেষে নির্মাণ করলেন প্রামাণ্য চিত্র, ‘আম আনফাং ভার ডাস লিশ্ট' - প্রথমে ছিল আলো৷ তিনি বলেন, ‘‘এটা আমার জন্য বেশ উত্তেজক প্রশ্ন ছিল, সত্যি সত্যি এরকম মানুষ কী আছে? এখন আমি নিশ্চিত যে, হ্যাঁ এরকম আছে৷ সন্দিহান হলেও সমীক্ষার ফলাফল দেখে খুব বিস্মিত চিকিৎসকরা৷ তবে না খাওয়ায় অভ্যস্ত বেশির ভাগ মানুষই এ ব্যাপারে মুখ খুলতে নারাজ, এই ভয়ে যে তাদের প্রতারক মনে করা হতে পারে৷ এ ক্ষেত্রে ভণ্ডামি যে নেই, তা অবশ্য হলপ করে বলা যায়না৷ তবে আমি নিশ্চিত, বিশ্বাসযোগ্য ঘটনাও অনেক আছে৷'' চীনের তাও ধর্ম এবং হিন্দু ধর্মে এই ধরনের ঘটনার বর্ণনা দেয়া হয়েছে হাজার বছর ধরে৷ ক্যাথলিক ধর্মেও উল্লেখ আছে বিষয়টির৷ এ প্রসঙ্গে শ্ট্রাউবিংগার বলেন, ‘‘নানা যুগে ও সংস্কৃতিতে বিষয়টি নিয়ে মাথা ঘামানো হয়েছে৷ শোনা যায় রাজা দ্বিতীয় লুডভিশ মিউনিখের এক ক্লিনিকে এক মহিলাকে আটকে রেখেছিলেন, শুধু জল পান করে বেঁচে থাকার কথা সত্যি কিনা তা পরীক্ষা করার জন্য৷ তবে আধুনিক যুগের পরীক্ষাগুলিই বেশি উত্তেজনাকর৷ সবচেয়ে বেশি সাড়া জাগিয়েছে যোগী প্রণত জনির ঘটনাটি৷ ভিডিও ক্যামেরা দিয়ে নজর রাখা হয়েছিল তাঁর ওপর৷ পরীক্ষা করা হয়েছিল রক্তের ফলাফলও৷''

Übergewicht und Magersucht

বেশি খাওয়া ও অত্যন্ত কম খাওয়ার বদলে মধ্যপন্থাই কি সঠিক পথ নয়?

অবিশ্বাস্য হলেও ঘটানাটা সত্যি৷ ক্লিনিকে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে কেউ যদি দু সপ্তাহ কোন কিছু না খেয়ে ও না পান করে থাকতে পারেন, তাহলে ধরে নেয়া যায় এ ব্যাপারে অভ্যস্ত এই ব্যক্তি৷ শুধু যে যোগী ও সাধু সন্ন্যাসীরাই খাওয়া ছাড়া থাকতে পারেন তাই নয়, কোনো কোনো সাধারণ মানুষের মধ্যেও দেখা যায় এই ক্ষমতা৷ রাশিয়ার এক নারী খাদ্যের তালিকা থেকে সবকিছু বাদ দিয়েছেন৷ এমনকি কোনো কিছু পানও করছেননা তিনি৷ বাজেলের এক রসায়নবিদ নিজেকে ‘আলো আহারী' বলে অভিহিত করেন৷ তাঁর ভাষায়, ‘‘খাওয়াদাওয়া ছাড়ার পর আমি বেশ ভাল আছি৷ আমার স্বাস্থ্যও ভাল৷ আগের চেয়ে সতেজ এবং সহ্যশক্তিও এখন বেশি৷''

পরিচালক শ্ট্রাউবিংগার যাদের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন, তাদের কারোরই খাওয়া দাওয়ার আকাঙ্খাও নেই৷ তবে এ সবই ব্যতিক্রমী ঘটনা, সবার জন্য নয়৷ ‘প্রথমে ছিল আলো' ছবিটি, এক্ষেত্রে যাতে ভুল বোঝাবুঝি না হয়, সে ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছে৷ কেউ ধ্যানমগ্ন হওয়ার তাগিদে কেউ বা আধ্যাত্মিক প্রেরণা থেকে না খেয়ে থাকার অভ্যাস করে৷ ‘‘আমার কাছে বিষয়টি স্পষ্ট নয়, কেন কোনো কোনো মানুষ না খেয়ে বেঁচে থাকতে পারে, কোনো কোনো মানুষ পারেনা৷ বিজ্ঞানী রিডিং এ ব্যাপারে আলোকপাত করেছেন৷''

China Indien Essen Restaurant

না খেয়ে থাকা বেশিরভাগ মানুষের কাছে কাম্য নয়

‘‘সূর্যের আলোকরশ্মি গ্রহণ করে উদ্ভিদ বেঁচে থাকতে পারে এবং প্রাণীজগতের খাদ্যেও সঞ্চিত থাকে সূর্যরশ্মির তেজ৷ তাই বলা যায়, সবশেষে আলোই জীবজগতকে বাঁচিয়ে রাখতে সাহায্য করে, তা সে যে কোনো মাধ্যমেই হোক না কেন৷''

বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে নানা ব্যাখ্যা দেয়া সত্ত্বেও আলো থেকে খাদ্যগ্রহণের বিষয়টি এখনও রহস্যঘেরাই রয়ে গেছে৷ যার কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা দেয়া সম্ভব নয়, আবার অস্বীকার করারও উপায় নেই৷ এমন একটি বিষয়ই তুলে ধরতে চেয়েছেন পরিচালক শ্ট্রাউবিংগার৷ তাঁর ভাষায়, ‘‘আমার ছবিটি আলো থেকে খাদ্য গ্রহণের কোনো প্রচারণা নয়৷ মানুষকে কম বা স্বাস্থ্যসম্মত খাওয়ায় উদ্বুদ্ধ করাও উদ্দেশ্য নয় এই ছবির৷ প্রচলিত পার্থিব দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রশ্নের সম্মুখীন করে তোলাই আমার লক্ষ্য৷''

প্রতিবেদন: রায়হানা বেগম
সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

সংশ্লিষ্ট বিষয়