1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

নায়েক রাজ্জাককে ফেরত দিয়েছে মিয়ানমার

আটদিন পর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-র নায়েক রাজ্জাককে ফেরত দিয়েছে মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি)৷ বৃহস্পতিবার মংডুতে তাঁকে হস্তান্তর করা হয়, জানান বিজিপির উপ-অধিনায়ক মেজর আমিনুল ইসলাম৷

১৭ই জুন ভোরে বিজিবির ছয় সদস্যের একটি দল নায়েক রাজ্জাকের নেতৃত্বে নাফ নদীতে টহল দিচ্ছিল৷ তাঁরা বাংলাদেশের জলসীমায় মাদক চোরাচালান সন্দেহে দুটি নৌকায় তল্লাশি করছিলেন৷ এ সময় মিয়ানমারের রইগ্যাদং ক্যাম্পের বিজিপির সদস্যরা একটি ট্রলারে করে বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করে৷ এক পর্যায়ে বিজিপির সদস্যদের বহনকারী ট্রলারটি বিজিবির টহল নৌ-যানের কাছে এসে থামে৷ বিজিপির ট্রলারকে বাংলাদেশের জলসীমা ছেড়ে যেতে বলা হলে তারা নায়েক রাজ্জাককে জোর করে ট্রলারে তুলে নেয়৷ বিজিবির অন্য সদস্যরা এতে বাধা দিলে দু'পক্ষের মধ্যে গুলিবিনিময় হয়, যাতে সিপাহি বিপ্লব কুমার গুলিবিদ্ধ হন৷ পরে বিজিপির ট্রলারটি রাজ্জাককে নিয়ে মিয়ানমারের দিকে চলে যায়৷ বিজিপি অবশ্য মিয়ানমারের জলসীমায় অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগ করে৷

রাজ্জাককে ধরে নেওয়ার পরদিন ঢাকায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডেকে পাঠানো হয়৷ অপহৃত বিজিবি সদস্যকে দ্রুত ফেরত পাঠাতে বলা হয় তাঁকে৷

অন্যদিকে রাজ্জাককে ফেরাতে বিজিবির পক্ষ থেকে কয়েক দফা পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হলেও, মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাড়া না পাওয়ায় এক সপ্তাহ ধরে বিষয়টি ঝুলে থাকে৷

এক পর্যায়ে রাজ্জাককে ফেরত দিতে বাংলাদেশ সরকারকে শর্তও দেয় মিয়ানমার৷ তারা দাবি করে, মিয়ানমার উপকূলে পাচারকারীদের নৌকা থেকে উদ্ধার ৫৫৫ জনকেও বিজিবি সদস্য রাজ্জাকের সঙ্গে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে হবে৷

এদিকে রাজ্জাককে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর বিজিপির ফেসবুক পেজে তাঁর দু'টো ছবি প্রকাশ করা হয়, যাতে তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় হাতকড়া হাতে দেখা যায়৷ মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যমেও সেই ছবি প্রকাশ হয়৷ বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম একই ছবি প্রকাশ করলে ব্যাপক তোলপাড় হয়৷ বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে মিয়ানমারের ব্যাপক সমালোচনা হয়৷ জাতীয় সংসদেও এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন একজন সংসদ সদস্য৷ সমালোচনা হয় আন্তর্জাতিক মহলে৷ তার ওপর রজ্জাককে দ্রুত ফেরত না আনতে পারায় সরকারও সমালোচনার মুখে পড়ে৷ এই পরিস্থিতিতে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল মঙ্গলবার বলেন, ‘‘মিয়ানমার অতিরিক্ত করছে, তারা অনেক বাড়াবাড়ি করেছে''৷

সপ্তাহ ধরে টানাপোড়েনের পর মঙ্গলবার বিজিপি পতাকা বৈঠকের চিঠি দেয়৷ বৃহস্পতিবার টেকনাফ ৪২-এ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আবু জার আল জাহিদের নেতৃত্বে সাত সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল এই পতাকা বৈঠকে অংশ নেন৷ অন্যদিকে মিয়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশের পক্ষে ছিলেন ১০ জন৷ বৈঠকের পর বৃহস্পতিবার বিকেল চারটার পর নায়েক রাজ্জাককে হস্তান্তর করা হয় বলে কক্সবাজারে বিজিপির উপ-অধিনায়ক মেজর আমিনুল ইসলাম জানান৷

কক্সবাজারের সেক্টর কমান্ডার এম এম আনিসুর রহমান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘মিয়ানমার আমাদের জলসীমা থেকে নায়েক রাজ্জাককে আটক রেখেছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়৷ এটা সীমান্ত নীতির লঙ্ঘন৷ এছাড়া তাঁর হাতকড়া পড়া ছবি প্রকাশ করেও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন করা হয়েছে৷''

এদিকে মিয়ানমারে অটক অবস্থায় নায়েক রাজ্জাকের স্ত্রী আসমা বেগম রবিবার সকালে এক পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়েছেন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়