1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

নারী পুরুষের সমান অধিকারের বাস্তব প্রতিফলন নেই

সংবিধানে থাকলেও, নারীদের অধিকারের ওপর সেভাবে নজরও দেওয়া হচ্ছে না৷ বিশেষ করে অধিকাংশ পুরুষই নারীদের অধিকারের প্রতি নজর দিতে নারাজ৷ অধিকারের এই বিষয়টির জবাব পুরুষরা দেয় অত্যাচারকে হাতিয়ার করে৷

Afghanische, Frauen, Afghanistan, Press, konferenz দেশ, বিবাহ, আইন, সমালোচনা, সোচ্চার, আফগান নারী, আফগানিস্তান

দেশটির বিবাহ আইনের সমালোচনায় সোচ্চার কিছু আফগান নারী

পুরুষশাসিত আফগান সমাজে নারীদের অধিকার নিয়ে কথা বলা যেন একেবারে নিষিদ্ধ৷ নারীদের অধিকার রয়েছে তা মানতেও রাজি নন পুরুষরা৷ ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক যে কারণেই হোক না কেন – যে কোন অধিকার থেকে আফগান নারীরা এখনও অনেক অনেক দূরে৷

আফগান সমাজে মেয়েদের দেখা হয় তাচ্ছিল্যের সঙ্গে৷ কোন ধরণের সম্মান তাদের প্রতি প্রদর্শন করা হয় না৷ উগ্র মৌলবাদীদের কাজ হচ্ছে মেয়েদের ওপর নিয়মিত নির্যাতন চালানো, অত্যাচার করা৷ কথাগুলো জানান, ড. সোরাইয়া সোবরাং৷ তিনি বলেন, ঘৃণা আর করুণা নিয়ে আফগান মেয়েরা বেঁচে থাকে৷ এর সঙ্গে আছে পাথর ছুঁড়ে মারার মত আমানবিক কাজ৷ আফগানিস্তানের মানবাধিকার কমিশন চেষ্টা করছে আফগান মেয়েদের সাহায্য করতে৷ সেখানেই কাজ করছেন ড. সোরাইয়া সোবরাং৷

পাথর ছুঁড়ে মারা প্রসঙ্গে তিনি বললেন, ‘‘শুধু তাখারে নয় কুন্দুসেও একজন পুরুষ এবং একজন মহিলাকে পাথর ছুঁড়ে মারা হয়েছে৷ ঘোর প্রদেশেও এ ধরণের ঘটনা ঘটেছে সে কথা আমরা শুনেছি৷ সেখানে একটি মহিলাকে প্রকাশ্যে সবার সামনে অপমান করা হয়৷ ফাহরা রাজ্যে কয়েকদিন আগে ১৬ বছরের একটি মেয়েকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে৷''

আফগানিস্তানের সংবিধানে নারী পুরুষের সমানাধিকারের কথা বলা থাকলেও দেশের ভিতরে কট্টর ধর্মভীরু মানুষরা ঐতিহ্য, প্রচলিত নিয়ম-কানুনের বাইরে যেতে সাহস পায় না৷ এতদিন যা হয়ে এসেছে, এখনও সেরকমই হবে – এই বিশ্বাস নিয়েই তারা দিন কাটায়৷ কাবুল থেকে কিছু দূরে গেলেই দেখা যাবে বিভিন্ন প্রদেশে মেয়েদের দেখা হয় সম্পত্তি হিসেবে৷ স্ত্রী যেন তাঁর স্বামীরই সম্পত্তি৷ স্বামী যেভাবে চায় স্ত্রীকে ঠিক সেভাবে চলতে হবে৷ আর যেহেতু সবাই এধরণের চিন্তা-ভাবনার সঙ্গে পরিচিত – একটি মেয়ের ওপর যে অত্যাচার করা হচ্ছে তা কেউই বুঝতে পারে না বা বুঝতে চায় না৷ স্বামীর কথার অবাধ্য হলেই স্ত্রীকে শাস্তি ভোগ করতে হবে – তা নিশ্চিত৷ কথাগুলো জানান হামিদ সাফওয়াত৷ মাজার-ই-শরিফে অবস্থিত কো-অপারেশন সেন্টার আফগানিস্তানের পরিচালক তিনি৷

Afghanische Frauen

পর্দার অন্তরালে কয়েকজন আফগান নারী (ফাইল ছবি)

তিনি বলেন, মেয়েদের ওপর অত্যাচার আগের চেয়ে বেড়েছে৷ সংস্থাটি অত্যাচারিত মেয়েদের আশ্রয় দেয়, সাহায্য করে৷ হামিদ সাফওয়াত'এর কথায়, ‘‘আমাদের হাতে অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে৷ পরিবারের সম্মান ও ঐতিহ্য রক্ষার কথা বলে মেয়ে বা স্ত্রীকে খুন করে ফেলা হয়েছে৷ যদি একটি মেয়েকে ধর্ষণ করা হয় তখন পরিবারটি চায় কোন অবস্থাতেই যেন এই খবর প্রকাশিত না হয়৷ এই খবর চেপে যাওয়ার একমাত্র উপায় হল মেয়েটিকে মেরে ফেলা৷ এবং তা-ই করা হয়৷ অনেক পরিবারেই নির্দ্বিধায় হত্যা করেছে বাড়ির মেয়েকে৷ শুধু কলঙ্কিত একটি ঘটনাকে ঢাকার জন্য৷ একারণেই আমরা এই আশ্রয়কেন্দ্র খুলেছি৷ আমরা এসব অসহায় মেয়েদের সাহায্য করছি এখানে৷''

এই আশ্রয়স্থানে মেয়েদের শুধু আশ্রয় দেওয়া হয় না তাদের ওপর যে ধরণের অত্যাচার চালানো হয়েছে সে বিষয়ে আইনগত দিক থেকে সাহায্যও করা হয়৷ এখানে কাজ করছেন বেশ কিছু আইনজীবি৷ কিন্তু এত কিছুর পরও যে বা যারা এ ধরণের অপরাধ করে তারা নির্বিঘ্নে খোলা আকাশের নিচে ঘুরে বেড়াচ্ছে৷ এই অবস্থার পরিবর্তনের দাবি জানান ওয়েদা হামেদ৷ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত করতে তিনি কাজ করছে একটি সংস্থায়৷ ওয়েদা হামেদ জানান, ‘‘আমরা চাই যে বা যারা এ ধরণের অপরাধ করছে তাদের আদালতে হাজির করা হোক৷ তাদের শাস্তি হোক৷ তাদের কাছ থেকে অস্ত্র কেড়ে নেওয়া হোক৷ গত ৩০ বছর ধরে যারা এ ধরণের অপরাধমূলক কর্মকান্ড চালিয়ে আসছে তাদের কারোরই বিচার হয়নি৷ দেশের বিচার ব্যবস্থার ওপর ছড়িয়ে রয়েছে দূর্নীতির জাল৷''

প্রশ্ন উঠেছে এই অবস্থার মধ্য থেকে আফগান নারীদের বের করে আনা আদৌ সম্ভব কী ? নতুন বছর কী তাদের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন বয়ে আনবে?

প্রতিবেদন: মারিনা জোয়ারদার

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

নির্বাচিত প্রতিবেদন