1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

নারায়ণগঞ্জের ঘটনায় চাপে মন্ত্রী মায়া

নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনায় চাপে রয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া৷ কারণ র‌্যাব-১১’র অধিনায়ক তাঁর জামাতা, আর ঘুস লেনদেনের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে মায়ার ছেলের নাম এখন বহুল আলোচিত৷

Mofazzal Hossain Chowdhury Maya Minister Bangladesh

মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া

মায়াকে সোমবারের নিয়মিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে দেখা যায়নি৷ তিনি অবশ্য কারণ হিসাবে শারীরিক অসুস্থতার কথা বলেছেন৷

এদিকে মন্ত্রীকে নিয়ে বেশ বিব্রত ক্ষমতাসীন দল৷ কারণ যে তিন জন র‌্যাব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ৬ কোটি টাকা ঘুসের বিনিময়ে অপহরণ ও হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাদের মধ্যে র‌্যাব-১১'র অধিনায়ক লে. কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার জামাতা৷ অভিযোগ আছে, মায়ার ছেলে দিপু চৌধুরীর মধ্যস্থতায় নজরুলের প্রতিপক্ষ নূর হোসেনের কাছ থেকে টাকা নেন তিন র‌্যাব কর্মকর্তা৷

তবে কদিন আগে এক বিবৃতিতে মায়া তাঁর পরিবারের কেউ এই হত্যাকাণ্ড বা আর্থিক লেনদেনে জড়িত নয় বলে দাবি করেন৷

সোমবার মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে আগাম কিছু না জানিয়েই অনুপস্থিত ছিলেন মায়া৷ সাধারণত মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে অনুপস্থিতির বিষয়টি আগাম জানানোর নিয়ম থাকলেও তিনি তা করেন নি৷ মায়া মহানগর আওয়ামী লীগেরও প্রধান৷

Rapid Action Battalion RAB Spezialeinheit Militär Dhaka Bangladesh

নারায়ণগঞ্জে সাতজনকে অপহরণ ও খুনের ঘটনায় র‌্যাবের তিন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করতে আদালতের দেওয়া আদেশের কপি সোমবার নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপারের কাছে পাঠানো হয়েছে (ফাইল ফটো)

মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসেন ভুইঞা জানান, ‘‘মন্ত্রী মহোদয়ের নামে নিয়ম অনুযায়ী আগেই ক্যাবিনেটের ফোল্ডার পাঠানো হয়েছে৷ তিনি তা গ্রহণও করেছেন৷'' মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার অনুপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে তা এড়িয়ে গিয়ে তিনি বলেন, ‘‘সভায় যারা কথা বলেন তাঁদের দিকেই বেশি নজর থাকে৷ আমি আজ খেয়াল করিনি মন্ত্রী মহোদয় উপস্থিত ছিলেন কিনা৷'' তবে কেউ উপস্থিত না থাকতে পারলে তা আগাম জানিয়ে দিতে হয় বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব৷

এ ব্যাপারে মায়ার সঙ্গে সাংবাদিকরা টেলিফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘‘আমার শরীর ভালো নেই, এ কারণে আমি ক্যাবিনেট মিটিংয়ে যোগ দিতে পারিনি৷'' তবে তিনি ঢাকাতেই আছেন বলে জানান৷

জানা গেছে, মায়ার ব্যাপারে আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারকরা এখন দু'ভাগ হয়ে পড়েছেন৷ মায়ার বিরোধীরা বলছেন, তাঁর পরিবারের সদস্যদের কারণে সরকারকে এখন র‌্যাব নিয়ে বেকায়দায় পড়তে হয়েছে৷ মায়ার ছেলে দিপু চৌধুরী এর আগে একবার উত্তরায় মার্কেট দখল করে তখনকার আওয়ামী লীগ সরকারকে বেশ চাপে ফেলেছিলেন৷

এদিকে আওয়ামী লীগের কোনো কোনো নেতা প্রকাশ্যেই নারায়ণগঞ্জের সাত হত্যাকাণ্ড নিয়ে দলীয় এবং র‌্যাবের যারা দায়ী তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি তুলেছেন৷ আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেছেন, ‘‘এ নিয়ে সত্য উদঘাটন হওয়া একান্ত প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ এজন্য সবার সাহায্য প্রয়োজন৷ এটা আমাদের জাতীয় জীবনের জন্য অপরিহার্য৷'' তিনি বলেন, ‘‘আমি মনে করি, র‌্যাবের সংস্কার জরুরি৷ এই সংস্কার আইনগত ও সামাজিক৷ তাদের জবাবদিহিমূলক অবস্থানে নিতে হবে৷ তাতে দেশের কল্যাণ হবে৷ জবাবদিহি ছাড়া যে-কোনো প্রতিষ্ঠান ভয়ংকর হয়ে ওঠে৷'' নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ব্যাপারে সুরঞ্জিত বলেন, ‘‘এই ঘটনায় আমাদের কারুর যদি কোনো দায় থাকে তাও স্পষ্ট করতে হবে৷''

এদিকে নারায়ণগঞ্জে সাতজনকে অপহরণ ও খুনের ঘটনায় র‌্যাবের তিন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করতে আদালতের দেওয়া আদেশের কপি সোমবার নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপারের কাছে পাঠানো হয়েছে৷ র‌্যাব-১১'র সাবেক অধিনায়ক লে. কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, মেজর আরিফ হোসেন ও নারায়ণগঞ্জ ক্যাম্পের প্রধান লে. কমান্ডার এম রানাকে হাইকোর্ট রবিবার গ্রেফতারের নির্দেশ দেন৷ আদেশে বলা হয়েছে, দণ্ডবিধি বা বিশেষ কোনো আইনে তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাওয়া না গেলে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করতে হবে৷ তবে এরইমধ্যে এই তিন কর্মকর্তাকে র‌্যাব থেকে প্রত্যাহারের পর সেনা এবং নৌ বাহিনী থেকে অবসর দেয়া হয়েছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়