1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি ইউরোপ

নাগরিক প্রতিরক্ষা নয়, নাগরিকদের নিজস্ব সুরক্ষা

জার্মানে ‘ব্যুর্গারভের’, ইংরিজিতে ভিজিলান্তে: পাড়ার বাসিন্দারা যখন পুলিশের উপর নির্ভর করা ছেড়ে নিজেরাই নিজেদের বসবাসের এলাকা নিরাপদ করার দায়িত্ব নেন৷ পন্থা একই: টর্চ, দুরবিন, ওয়াকি-টকি হাতে টহলদারি৷ বন্দুকটা অবশ্য বাদ৷

জার্মানির মানুষজন পুলিশের উপর আস্থা হারাচ্ছে বলে মনে হতে পারে৷ বিশেষ বিশেষ শহরের বিশেষ বিশেষ পাড়ার বাসিন্দারা নিজেদের সুরক্ষা নিজেদের হাতেই তুলে নিয়েছেন, যাতে পাড়ায় চুরি-ডাকাতি কমে৷ মুশকিল এই যে, এই ধরনের ‘নাগরিক প্রতিরক্ষায়' সংশ্লিষ্ট মানুষগুলির মনোভাব ও মনোবৃত্তি সব সময় নিরাপদ অথবা নির্দোষ নয়৷

অনেকে বলবেন, মুশকিল অন্যত্র৷ জার্মানির বহু রাজ্যে পুলিশের বাজেট কমানো হয়েছে; গাড়ির তেল কেনার পয়সা নেই পুলিশের; নেই গাড়ি মেরামতের পয়সা৷ কাজেই পুলিশি টহলদারি এখন অপরাধপ্রবণ বলে চিহ্নিত এলাকাগুলিতেই সীমাবদ্ধ৷ এর চূড়ান্ত ফলশ্রুতি: ‘‘আমরা যখন লোকবল না থাকার ফলে অকুস্থলে উপস্থিতি দেখাতে পারি না, তখন রাষ্ট্রও সেই অনুপাতে তার কর্তৃত্ব হারায়৷'' কথাটা বলেছেন ফেডারাল জার্মান পুলিশ সংগঠনের সভাপতি রাইনের ভেন্ড, ডয়চে ভেলের একটি সাক্ষাৎকারে৷

পুলিশেরও এখন ‘‘কাঠামোগত সংস্কার'' চলেছে৷ বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে ছোট ছোট পুলিশ ফাঁড়িগুলি বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে৷ সর্বত্র আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ছাঁটাইয়ের প্রতিফলন অপরাধ ও তার সমাধানের পরিসংখ্যানেও ঘটেছে৷ দেশের বৃহত্তম রাজ্য নর্থ রাইন ওয়েস্টফেলিয়াতে ২০১৩ সালে ৫৮ হাজার বাড়ি ও ফ্ল্যাটে চুরি হয়েছে, কিন্তু প্রতিটি সাতটি চুরির মধ্যে মাত্র একটির সমাধান করা, অর্থাৎ চোর ধরা সম্ভব হয়েছে৷ এ সবের কারণে নাগরিকদের মধ্যে একটি অসহায়তার ভাব সৃষ্টি হয়েছে৷ এবং ঠিক সেই অসহায়তার ভাব থেকেই গড়ে উঠেছে এই সব ভিজিলান্তে গোষ্ঠী৷

যেন ওয়াইল্ড ওয়েস্ট!

জার্মানির বহু বড় শহর ও অঞ্চলে এখন ব্যুর্গারভের বা নাগরিক সুরক্ষা বাহিনী পাওয়া যাবে: কোলোনের দক্ষিণে আইফেল এলাকা থেকে শুরু করে বার্লিনের নয়ক্যোলন শহরতলি পর্যন্ত৷ এসেন এবং রাটিঙেন শহরে মোট এক হাজার বাসিন্দা একত্রিত হয়ে একটি বেসরকারি পাহারাদার কোম্পানিকে নিযুক্ত করেছেন৷ কোলোনের কাছে রাডেফর্মভাল্ড শহরের নাগরিকরা ফেসবুকের মাধ্যমে সংগঠিত হয়েছেন৷ দু'জন দু'জন করে তাঁরা শহরের সেই সব রাস্তায় টহল দেন, যেখানে এর আগে চুরির ঘটনা ঘটেছে৷ এই নাগরিক প্রহরীদের পোশাকে আবার ‘‘নাগরিক টহলদারি, রাডেফর্মভাল্ড'' কথাগুলি লেখা থাকে৷

স্থানীয় পুলিশ যে এই নাগরিক সতীর্থদের আবির্ভাবে আনন্দে আটখানা, এমন নয়৷ পুলিশের বক্তব্য হলো, কাছে আগ্নেয়াস্ত্র না রাখলেই হলো৷ আর জোরজবরদস্তি করাও চলবে না৷ সন্দেহজনক ব্যক্তিদের স্বল্প সময়ের জন্য আটকে রাখা চলবে: কিন্তু তার একটা স্পষ্ট কারণ থাকা চাই৷ হয়ত সন্দেহভাজন ব্যক্তি কাউকে আঘাত করেছে; কিংবা কোনো বাড়িতে চুরি করে ঢোকার সময় ধরা পড়েছে৷ তাকে আটক করার পর পরই পুলিশকে খবর দেওয়া চাই৷

আসল কথা হলো, রাডেফর্মভাল্ডের পুলিশ ফাঁড়িতে সপ্তাহে মাত্র দু'দিন করে পুলিশ থাকে, তাও মাত্র দু'ঘণ্টার জন্য৷ অপরদিকে নাগরিক প্রহরীদের ‘হুইসল' শুনলে যে কোনো চোর পালানোর পথ খুঁজবে৷ বেগতিক দেখলে নাগরিক প্রহরীরাও ‘য পলায়তি স জীবতি' পন্থা ধরেন এবং ‘আসল' পুলিশকে খবর দেন৷ আবার এমন গোঁয়ারগোবিন্দরাও আছেন, যাঁরা অকারণে নিজেকে এবং অপরদের বিপদে ফেলেন৷ সবচেয়ে বড় কথা, কট্টর দক্ষিণপন্থি মনোভাবের মানুষরা এই ধরনের ব্যুর্গারভেরে ঢুকে নিজেদের প্রভাব ও ক্ষমতার পরিধি বাড়ানোর চেষ্টা করেন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়