1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

নতুন পথে চলেছে রুয়র শিল্পাঞ্চল

জার্মানির রুয়র শিল্পাঞ্চলের শহর বট্রপ৷ এককালে বহু কয়লাখনি আর ইস্পাতের কারখানার মধ্যমণি৷ আজ তার অধিকাংশ বন্ধ৷ কাজেই বট্রপ চলেছে নতুন পথে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার করে জ্বালানি সাশ্রয়ের পথে৷

এখানে বিরাট বিরাট সব পুরু ইস্পাতের পার্টস রাংঝালাই করা হচ্ছে৷ সেজন্য এই রাংঝালাই কারখানাটির বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ লাগে৷ এ যাবৎ মাসে ইলেকট্রিসিটির বিল উঠত: এক হাজার ইউরো৷ বট্রপ-এর টেকনোবক্স মেটাল প্রসেসিং কোম্পানি-র সিইও রাল্ফ ভারকচ বলেন, ‘‘এই মেশিনটা ৩৫০ অ্যাম্পিয়ার কারেন্টে, প্রায় ৩০ ভোল্টে ওয়েল্ডিং করে৷ মানে বেশ ভালো রকম কারেন্ট খায়৷ আপনি যদি বাড়িতে সব ইলেকট্রিকের মেশিনগুলো চালু রাখেন, হিটিং থেকে শুরু করে বেকিং ওভেন, তাহলে আমরা এখানে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করি, সেই পরিমাণ বিদ্যুতে পৌঁছাবেন৷''

বট্রপে ঝালাই করা ইস্পাতের পার্টস সারা বিশ্বে পাঠানো হয়৷ প্রতিযোগিতা আসে মূলত পূর্ব ইউরোপ থেকে, কেননা সেখানে আরো সস্তায় উৎপাদন করা সম্ভব৷ জার্মানিতে বিদ্যুতের দাম বেশি, সেটা একটা সমস্যা৷ কোম্পানির প্রধান রাল্ফ ভারকচ-কে অন্য একটা পন্থা বার করতে হয়েছে: আজ ৩০০টি সোলার মডিউল গোটা কোম্পানির বিদ্যুতের প্রয়োজন মেটায়৷ আকাশ পরিষ্কার থাকলে, তার চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করে৷ রাল্ফ বলেন, ‘‘আমরা প্রায় আড়াই লাখ ইউরো বিনিয়োগ করেছি৷ তা থেকে আমাদের সাশ্রয় হয়, কেননা আমাদের বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনতে হয় না৷ আমরা সূর্যের কাছ থেকেই বিদ্যুৎ পাই৷''

রুয়র শিল্পাঞ্চলের ধোঁয়াশায় বহুদূর থেকে সোলার মডিউল-গুলোকে চকচক করতে দেখা যায়৷ বুর্কহার্ড ড্রেশার প্রতিবার তা দেখে আনন্দ পান, কেননা তিনি ‘ইনোভেশন সিটি রুয়র' প্রকল্পের ম্যানেজার৷ তাঁর লক্ষ্য হলো, বট্রপ এলাকায় জ্বালানি খরচ কমিয়ে অর্ধেক করা৷ ড্রেশার বলেন, ‘‘আমরা বট্রপে যে প্রকল্পটা করছি, তা-তে আমরা নতুন প্রযুক্তি, নতুন সব ধ্যানধারণা পরীক্ষা করে দেখতে চাই, যা-তে নতুন নতুন কোম্পানি গড়ে ওঠে, নতুন চাকরি সৃষ্টি হয়৷ বস্তুত এলাকার বাঁচামরা নির্ভর করছে এর উপর৷ সেক্ষেত্রে নতুন চাকরি সৃষ্টি হওয়াটাই আসল কথা৷''

রুয়র অঞ্চলের বট্রপ এলাকাটি বহু দশক যাবৎ কয়লা আর ইস্পাত শিল্পের জন্য বিখ্যাত৷ কিন্তু এই দু'টি শিল্পে হাজার হাজার চাকরি ইতিমধ্যেই উধাও হয়েছে৷ পুরনো শিল্পগুলির আর কোনো ভবিষ্যৎ নেই৷ জ্বালানি খরচ ৫০ শতাংশ কমাতে পারলে আন্তর্জাতিকভাবে বট্রপের ভাবমূর্তি বদলে যাবে৷

চাই নতুন চিন্তা৷ একটি কোক ওভেন কারখানায় সারাক্ষণ উত্তাপ সৃষ্টি হয়৷ সেই তাপ কনটেনারে ঢুকিয়ে, নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে ধরে রাখতে পারলে, তা অন্য জায়গায় নিয়ে গিয়ে ব্যবহার করা যায়৷ যেমন কয়েক কিলোমিটার দূরের একটি স্কুলে৷ ফলে সেই স্কুলে আর গ্যাস কিংবা তেল খরচ করে হিটিং চালাতে হবে না৷ গোটা স্কুলবাড়ি কনটেনারের উত্তাপ দিয়ে গরম রাখা যাবে – অথচ একটি পয়সাও ব্যয় হবে না৷ একটি কনটেনারে তিনদিন চলে যাবে৷

বট্রপ কিন্তু বসতবাড়িগুলো থেকেই সবচেয়ে বেশি জ্বালানি সাশ্রয় করতে চায়৷ বারো হাজার বাড়িতে ইনসুলেশন আর আধুনিক হিটিং-এর ব্যবস্থা করা হচ্ছে৷ ভাড়াটেদের মাসে প্রায় দেড়শো ইউরো বাঁচে শুধু হিটিং খাতে৷ এভাবে বট্রপের বহু মানুষ নবায়নযোগ্য জ্বালানির উপযোগিতা হাতেনাতে পরখ করে দেখতে পারছেন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়