1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

নতুন দিল্লিতে তৃতীয় ব্রিকস সম্মেলন

ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা – ব্রিকসভুক্ত এই দেশের প্রতিনিধিরা বাণিজ্য ও বিনিয়োগে প্রতিযোগিতার গুরুত্ব কতটা ও তার সঙ্গে সম্পৃক্ত বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে নিজেদের মধ্যে মত-বিনিময় করছেন দু'দিনের এই সম্মেলনে৷

BRICS 5 Gipfel in Durban http://www.flickr.com/photos/brics5/8593910682/in/photostream

আলোচনায় ব্রিকসের প্রতিনিধিরা (ফাইল ছবি)

নতুন দিল্লিতে তৃতীয় ব্রিকস সম্মেলন

ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা – ব্রিকসভুক্ত এই পাঁচটি দেশের প্রতিনিধিরা বাণিজ্য ও বিনিয়োগে প্রতিযোগিতার গুরুত্ব কতটা ও তার সঙ্গে সম্পৃক্ত বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে নিজেদের মধ্যে মত-বিনিময় করছেন দু'দিনের এই সম্মেলনে৷

ব্রিকস আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা সম্মেলন ২০১৩'-এর মূল আলোচ্য বিষয় ‘‘ব্রিকস দেশগুলির মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক নীতির প্রয়োগ ও তার সুফল৷'' সম্মেলনের উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং জোর দেন প্রবৃদ্ধি, উন্নয়ন ও দারিদ্র্য মোচনের ওপর৷ এ জন্য বিদেশি প্রতিযোগিতার জন্য পাল্লা দিতে হবে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলিকে৷ কারণ, আজকের বাজার অর্থনীতির এটাই বীজমন্ত্র৷ তবে প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলিকে দিতে হবে কাজকর্মের স্বাধীনতা ও প্রশাসনিক স্বশাসন৷ অর্থাৎ, বেসরকারি সংস্থাগুলির সঙ্গে যুঝতে তাদের আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ মুক্ত করা জরুরি৷ তবেই আসবে ন্যায্য প্রতিযোগিতার মানসিকতা৷

BRICS 5 Summit opening held in Durban, South Africa. 27 March 2013.

ডার্বানে পঞ্চম ব্রিকস সম্মেলন

সরকারি মালিকানার অর্থ এই নয় যে, সরকার রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলিকে প্রতিযোগিতা থেকে আড়াল করে রাখবে এবং তাদের জন্য রাখা থাকবে বাঁধা বাজার৷ সেই যুগ চলে গেছে শুরু হয়েছে ন্যায্য প্রতিযোগিতার বাজার৷ এর প্রেক্ষিতে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা – ব্রিকসভুক্ত এই পাঁচটি দেশের মধ্যে সুষ্ঠু সমন্বয় ও সহযোগিতা বাড়ানোর কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী ড. সিং৷ ব্রিকসভুক্ত দেশগুলির মধ্যে ব্রিকস উন্নয়ন ব্যাংক খোলার কথাও বলেন তিনি৷ প্রবৃদ্ধি, উন্নয়ন ও দারিদ্রমোচন ভারতের সামনে সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ৷ যদিও ভারত অগ্রণী পরিষেবা রপ্তানিকারক দেশ৷ চীন যেমন তৈরি উপকরণ রপ্তানিতে বিশ্বের প্রথম সারির দেশ রাশিয়া ও ব্রাজিল যেমন কাঁচামাল রপ্তানিতে এবং দক্ষিণ আফ্রিকা গোটা আফ্রিকা মহাদেশের অনর্জিত সম্পদের বিরাট সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর মতো অবস্থায় আছে৷

ভারতের কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রী শচিন পাইলট তাঁর বক্তব্যে বলেন, অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতায় বিদেশি বিনিয়োগকে যুক্ত করতে পারলে অস্থির অর্থনীতিতে আসবে স্থিতি৷ বেশি প্রতিযোগিতা আর্থিক উদারিকরণের সুফল পেতে সহায়ক হবে৷ ব্রিকস আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক বাণিজ্যে শচিন পাইলট বলেন, উপযুক্ত নিয়মনীতি গ্রাহকদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করবে৷ প্রতিযোগিতা এবং বিনিয়োগ নীতি হবে একে অপরের পরিপূরক৷ ন্যায্য প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে ব্রিকস দেশগুলির এই সম্মেলন অনুঘটকের ভূমিকা পালন করবে৷

আন্তর্জাতিক মঞ্চে ব্রিকসগোষ্ঠীর প্রভাব কতটা, সে বিষয়ে খুব একটা আশাবাদী নন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ইমন কল্যাণ লাহিড়ি৷ ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, ব্রিকস দেশগুলির মধ্যে মতাদর্শগত অমিল আছে৷ ভারত আর চীনের অবস্থান আলাদা৷ উভয় দেশের স্বার্থও আলাদা৷ ভারত যেভাবে আন্তঃআঞ্চলিক ধারণা গড়ে তুলতে চাইছে, সেটা চীনের ধারণার সঙ্গে তা মেলে না৷ বিদেশি প্রতিযোগিতার মুখে চীন তার রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলিকে কতটা প্রতিযোগিতার মুখে ঠেলে দেবে, তা নিয়েও সংশয় আছে৷ তবে অতি সম্প্রতি চীন আরো বেশি আর্থিক সংস্কারের দিকে ঝুঁকতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে৷ তবে চীনের ক্ষেত্রে না আঁচালে বিশ্বাস নেই৷৷ ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা আসিয়ান গোষ্ঠীর মতো ব্রিকস কতটা প্রভাব ফেলতে পারবে, সে বিষয়ে প্রশ্ন থাকছে, বলেন অধ্যাপক লাহিড়ি৷

ভারতের কম্পিটিশন কমিশন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে প্রতিযোগিতা সংক্রান্ত এক সমঝোতা- পত্রে সই করে৷ প্রতি দু'বছর অন্তর এই সম্মেলন বসে৷ দ্বিতীয় সম্মেলন হয়েছিল ২০১১ সালে চীনে৷ ব্রিকসভুক্ত পাঁচটি দেশের মোট জনসংখ্যা ৩০০ কোটি, মোট জিডিপি বা মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন প্রায় ১৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং বিদেশি মুদ্রার মজুত চার ট্রিলিয়ন ডলার৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন