1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

নতুন ইমিগ্রেশন আইনের কারণে ব্রিটেনে কারি শিল্প হুমকির মুখে

ব্রিটিশরা অনেককাল ধরে রাজত্ব করেছেন উপমহাদেশে৷ ঐ সময় সেখানকার খাবার-দাবারের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েন শাসকরা৷ ফলে ব্রিটিশ শাসন শেষে শাসকরা ফিরে যাবার সময় তাঁদের সঙ্গী হয় উপমহাদেশের খাবার৷

default

৫০টি সেরা ভারতীয় কারির অন্যতম এটি

সেই থেকে এখনো ব্রিটেনে ব্যাপক জনপ্রিয় এই খাবার৷ কিন্তু হঠাৎ করেই এর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে৷

গত সপ্তাহে নতুন ইমিগ্রেশন আইন চালু করেছে ব্রিটিশ সরকার৷ এর ফলে বেশি করে বিদেশি শ্রমিকের আগমন বন্ধ হয়ে যেতে পারে৷ কারণ এই আইনে ইমিগ্রেশনের অনুমতি দেয়ার ক্ষেত্রে নতুন পদ্ধতি চালু করা হয়েছে৷ এক্ষেত্রে আবেদনকারীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা বিবেচনা করা হবে৷ এছাড়া প্রতি মাসে তিনি কত টাকা আয় করতে পারবেন এবং তাঁর ইংরেজি জ্ঞান কেমন – তাও বিবেচনা করা হবে৷

ফলে হোটেলে কাজ করানোর জন্য পর্যাপ্ত লোক পাওয়া যাবেনা, বলে মনে করছেন বাংলাদেশ ক্যাটারার্স এ্যাসোসিয়েশন-এর প্রেসিডেন্ট বজলুর রশীদ৷ তিনি বলেন, ‘‘গত পাঁচ বছর ধরে আমাদের কারি শিল্পে প্রায় ত্রিশ হাজার দক্ষ জনশক্তির অভাব রয়েছে৷ তাই আরও লোক আনার জন্য আমরা সরকারের সঙ্গে লবি করে যাচ্ছিলাম৷ কিন্তু এখন আবার এই নতুন আইনের কারণে কারি শিল্প মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে৷ কারণ এর ফলে আরও লোক আনা যেমন সম্ভব হবেনা৷ তেমন বর্তমানে যারা কাজ করছেন তাঁরাও চাকরি হারাবেন৷''

বর্তমানে ব্রিটেনে প্রায় ১,২০০ বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট রয়েছে৷ সেখানে কাজ করছে প্রায় এক লক্ষ লোক৷ রশীদ বলেন, ‘‘কারি রান্না একটি শিল্প৷ উপমহাদেশের লোক ছাড়া ব্রিটেনের স্থানীয়দের দিয়ে কারি রান্না সম্ভব নয়৷ কারণ তাঁরা অনেকক্ষণ ধরে কারি'র গন্ধ সহ্য করতে পারেননা৷ এমনকি তাঁরা মনে করেন, এর ফলে কাপড়ে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে৷''

এদিকে লন্ডনের সেন্টার ফর রিসার্চ এ্যান্ড এ্যানালিসিস অফ মাইগ্রেশন-এর প্রধান অধ্যাপক ক্রিস্টিয়ান ডুস্টমান এই নতুন আইনের বিরোধিতা করেছেন৷ তিনি বলেন, ‘‘২০০৩ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত ব্রিটেনে ইমিগ্রেশনের হার ছিল সবচেয়ে বেশি৷ আর সেসময় ব্রিটেনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও ছিল অনেক বেশি৷ কিন্তু এরপর থেকেই অর্থনৈতিক মন্দা শুরু হয়৷ এখন যখন এই মন্দা থেকে ব্রিটেন বেরিয়ে আসছে ঠিক সেসময় এই নতুন ইমিগ্রেশন আইন ব্রিটেনের প্রবৃদ্ধিকে আবারও খারাপের দিয়ে নিয়ে যেতে পারে৷''

প্রতিবেদন: জাহিদুল হক

সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন