1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

নতুন ইতিহাস সৃষ্টির পথে বাংলাদেশ-ভারত

এ ইতিহাস সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ব আর মানবতার ইতিহাস৷ ৬৮ বছর ধরে যাঁদের রাষ্ট্র ছিল না, ছিল না পরিচয়, সবাই যাঁদের চিনতো ছটিবাসী হিসেবে – তাঁরা তাঁদের জাতীয়তার পরিচয় পাবেন৷ নাগরিকত্বের পরিচয় দেবেন গর্বে বুক ফুলিয়ে৷

শুক্রবার মধ্যরাতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতের ১১১টি ছিটমহলের নাম হবে ‘বাংলাদেশ' আর সেখানকার নাগরিকদের পরিচয় হবে বাংলাদেশি৷ ভারতের অভ্যন্তরে থাকা বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহলও লীন হবে ভারতে, সেখানকার নাগরিকরা হবেন ভারতীয়৷ এই শুভক্ষণের অপেক্ষায় থাকা ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় কমিটির বাংলাদেশ অংশের সভাপতি মাইনুল হক ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এটা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দের মূহূর্ত৷ আমি, আমরা, সব ছিটমহলবাসীরা এক মুক্ত জীবনের স্বাদ নিতে যাচ্ছি৷ এ যে কত আনন্দের তা শুধু অনুভূতিতেই ধারণ করা যায়, প্রকাশ করা যায় না৷''

বাংলাদেশ-ভারত স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নে দুই দেশের হাই-কমিশনাররা বৃহস্পতিবারই তেজগাঁওয়ে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের এক অনুষ্ঠানে ৩০টি গুচ্ছ মানচিত্রে সই করেন৷ এর মাধ্যমে কেবল মুহুরির চরের দুই কিলোমিটার এলাকা ছাড়া দুই দেশের মধ্যে ১ হাজার ১৪৪টি মানচিত্রে সই হয়৷ ২০১৬ সালের ৩০শে জুনের মধ্যে নতুন করে চিহ্নিত এ সব সীমান্তে সীমানা পিলার বসানোর কথা৷

ঢাকায় পাওয়া খবরে জানা গেছে, দিল্লিতে বাংলাদেশের হাই-কমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী গুচ্ছ মানচিত্র হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বলেছেন, ‘‘এর মধ্যে দিয়ে সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে৷'' অন্যদিকে ভারতীয় হাই-কমিশনার পঙ্কজ শরণ একে উল্লেখ করেছেন ‘এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত' হিসেবে৷

Symbolbild Grenze Indien Bangladesh

শনিবার চার জেলায় চলবে দিনব্যাপী আনন্দ আয়োজন, ওড়ানো হবে জাতীয় পতাকা

বাংলাদেশের মানচিত্রের পরিবর্তন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার ভূখণ্ডের পরিমাণ বাড়বে এবং বাড়বে নাগরিকের সংখ্যাও৷ বাংলাদেশের পঞ্চগড়, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও নিলফামারী – এই চার জেলায় ভারতের ১৭ হাজার ১৬০ একর আয়তনের ১১১টি ছিটমহল এবং ভারতে বাংলাদেশের ৭ হাজার ১১০ একর আয়তনের ৫১টি ছিটমহল রয়েছে৷ এ ছিটমহলগুলোতে ২০১১ সালে একটি যৌথজরিপ চালানো হয় এবং ১৬২টি ছিটমহলে ৫১ হাজার ৫৪৯ অধিবাসীকে চিহ্নিত করা হয়৷ এর মধ্যে ৩৭ হাজার ৩৩৪ জন ভারতীয় বাংলাদেশে অবস্থিত ছিটমহলগুলোতে বাস করে এবং ১৪ হাজার ২১৫ জন বাংলাদেশি ভারতের ছিটমহলগুলোতে বাস করে৷

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, ছিটমহলবাসীদের মধ্যে এখনও পর্যন্ত ৯৭৯ জন ভারতে চলে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন৷ চুক্তি অনুযায়ী আগামী নভেম্বরের মধ্যে তাঁরা ভারতে চলে যাবেন৷ তবে ভারতে যেতে চাওয়া কিছু ছিটমহলবাসীকে বাংলাদেশে জবরদস্তি করে রাখা হচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে৷ এ নিয়ে ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় কমিটির বাংলাদেশ অংশের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এখানে নানা রকম অপপ্রচার হচ্ছে৷ আমি এ ধরনের কোনো অভিযোগ শুনিনি৷''

মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি নামে পরিচিত বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত চুক্তি হয় ১৯৭৪ সালে৷ এর ৪১ বছর পর সেই চুক্তি বাস্তব রূপ পেতে যাচ্ছে৷ তবে ছিটমহলের এই বন্দিত্ব আরো আগে থেকে, প্রায় ৬৮ বছর ধরে৷ ছিটমহল বিনিময় কমিটির সভাপতি মাইনুল হক জানান, ‘‘এরই মধ্যে ছিটমহলে উৎসব শুরু হয়ে গেছে৷ শুক্রবার জুমার নামাজ বাদে মিলাদ মাহফিল-এর পর আনন্দ-উৎসব শুরু হয়ে গেছে৷ রাত ১২টা এক মিনিটে জ্বালানো হবে ৬৮টি মোমবাতি৷ হবে আলোকসজ্জা, জ্বলবে ফানুস৷ এছাড়াও থাকবে লাঠি খেলা, নৌকাবাইচসহ ঐতিহ্যবাহী সব আয়োজন৷'' তিনি জানান, ‘‘ছিটমহলের চার জেলাতে একই আয়োজন করা হয়েছে৷ মধ্যরাতের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন সংশ্লিষ্ট জেলার সংসদ সদস্য, ডিসি, এসপিসহ ঊর্ধতন কর্মকর্তারা৷''

Unabhängikeitsfeier in Bangladesh

বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতের ১১১টি ছিটমহলের নাম হবে ‘বাংলাদেশ'

শনিবার উৎসবের দ্বিতীয় দিনে চার জেলায় ছিটমহলে স্থাপিত বিজয়মঞ্চে চলবে দিনব্যাপী আনন্দ আয়োজন৷ ওড়ানো হবে জাতীয় পতাকা৷ এরপর দুপুরে কাটা হবে ৬৮ পাউন্ড ওজনের কেক, বের করা হবে আনন্দ র‌্যালি৷

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলায় থাকা বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহলের অধিবাসীর সকলেই ভারতের নাগরিকত্ব নিয়ে সেখানে থেকে যেতে চেয়েছেন৷ ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় কমিটির ভারতীয় অংশের সভাপতি দীপ্তিমান সেনগুপ্ত সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘‘দীর্ঘ ৬৮ বছরের কষ্ট আর নাগরিকত্বহীন জীবনের যন্ত্রণার ইতি ঘটতে যাচ্ছে৷ এ দিনটি হবে ছিটমহলবাসীর জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ দিন ও উৎসবের রাত৷ আর এরপর থেকে প্রতিবছর এ দিনটিকে স্মরণ করে ছিলমহলবাসী নানা কর্মসূচি পালন করবে৷''

প্রসঙ্গত, এ বছর ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরের পর গতি আসে স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের কাজে৷ ৬ই জুলাই থেকে ১৬ জুলাই – এই ১১ দিন বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা ভারতীয় ১১১টি ছিটমহলে ভারত ও বাংলাদেশের ৫০টি যৌথ দল বাড়ি বাড়ি গিয়ে হালানাগাদ সমীক্ষা করে৷ এবার পালা চূড়ান্ত ছিটমহল বিনিময়ের, সময় নতুন এক ইতিহাসের৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়