1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

নজির ভেঙে ভারতীয় টাকার রেকর্ড পতন

ভারতীয় টাকার দাম প্রতিদিনই কমছে৷ এবার রেকর্ড পতন৷ টাকার অঙ্কে ডলারের দাম দাঁড়িয়েছে ৬৪ টাকা ৬২ পয়সা৷ এর সঙ্গে তাল রেখে পড়ছে শেয়ার বাজার৷ অন্যদিকে বিদেশি বিনিয়োগ হতাশাজনক৷ দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে ভারতের অর্থব্যবস্থার৷

মুদ্রা বাজারে ডলারের অঙ্কে টাকার অবমূল্যায়ন রোখা যাচ্ছে না৷ তার সার্বিক প্রভাব পড়ছে ভারতীয় অর্থব্যবস্থার সব ক্ষেত্রে৷ এই মুহূর্তে বাজারের সব মৌলিক মাপকাঠি নেতিবাচক৷ টাকার পতনের সঙ্গে বিদেশি লগ্নির আকাল, প্রবৃদ্ধির হার থমকে আছে, বিভিন্ন কেলেঙ্কারিতে সরকারের নীতিপঙ্গুত্ব৷ আগামী বছরের নির্বাচনের সামনে সরকার যেন দিশাহারা৷ ফলে দেশের ও বিদেশের প্রত্যক্ষ বিনিয়োগকারী মধ্যে দেখা দিয়েছে হতাশা৷

টাকার বিনিময়মূল্যে ওঠানামা নতুন কিছু নয়৷ কিন্তু হঠাৎ করে টাকার দাম এমনভাবে পড়ে যাওয়ার পেছনে অবশ্যই বিশেষ কারণ আছে৷ সেই প্রসঙ্গেই ডয়চে ভেলের কাছে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ দীপঙ্কর দাসগুপ্ত দুটো মূল কারণকেই দায়ী করলেন৷ প্রথম ও প্রধান কারণ মার্কিন অর্থনীতি মন্দাবস্থা কাটিয়ে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে৷ পাশাপাশি ইউরোজোনের দেশগুলি – বিশেষ করে জার্মানি এবং ফ্রান্সের বাজারও উঠে দাঁড়াচ্ছে৷ ফলে বিদেশি লগ্নিকারীরা শেয়ার বিক্রি করে ভারত থেকে ডলার তুলে ঐসব দেশে বিনিয়োগ করছে৷ তাতে ডলারের জোগানে টান এবং টাকার দামে পতন৷

Indische Rupien

মুদ্রা বাজারে ডলারের অঙ্কে টাকার অবমূল্যায়ন রোখা যাচ্ছে না বলে ভারতীয় টাকার রেকর্ড পতন

অর্থনীতিবিদ দীপঙ্কর দাসগুপ্তের মতে, দ্বিতীয় কারণ বাণিজ্যিক খাতে ও মূলধনী খাতে ডলারের দাম বাজারের হাতে ছেড়ে দেয়া৷ তাতে ডলারের ঘাটতি বেড়ে গেছে৷ দেখা যাচ্ছে ডলার যতটা আসছে, বেরিয়ে যাচ্ছে তার চেয়ে অনেক বেশি৷ আটকাতে পারছে না কেন্দ্রীয় সরকার এবং রিজার্ভ ব্যাংক৷ যেমন পেট্রো-পণ্যের আমদানি করতে হয় ডলারে৷ তেল ও গ্যাসের মতো অত্যাবশ্যক পণ্যের আমদানি কমানো যায় না৷ আমদানি শুল্ক বাড়িয়ে সেখানে রাশ টানা যায় না৷ তবে অন্যান্য আমদানি কম করা যেতে পারে৷

ডলার আনার অন্যতম উপায় প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ৷ সে সম্পর্কে ঘোষণা দিয়েও তার সঠিক রূপায়ণ হয়নি৷ বিমান পরিষেবা, ব্যাংক ও বিমা এবং খুচরো ব্যবসায় বিদেশি লগ্নি তেমন হয়নি, যা আশা করা গিয়েছিল৷ তার কারণ রাজনৈতিক মতভেদ৷ জাতীয় ঐকমত্যের অভাব৷ এছাড়া কারেন্ট অ্যাকাউন্ট বা চলতি খাতে লেনদেনে চড়া ঘাটতি৷ প্রবৃদ্ধির হার গেছে থমকে৷ অবস্থা ফিরবে বলে প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং-এর আশ্বাস বাণীতে আস্থা রাখতে পারছেনা লগ্নিকারীরা৷ ড. সিং বলেছেন, ৯১-৯২ সালের অবস্থা আর এখনকার অবস্থা এক নয়৷ বিদেশি মুদ্রার মজুত আছে যথেষ্ট৷ আস্থাহীনতার প্রত্যক্ষ ফলে শেয়ার বাজার পড়ে গেছে৷ বিদেশি বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি করে ডলার তুলে নিয়ে যাচ্ছে মার্কিন এবং ইউরোজোনের দেশগুলিতে লগ্নি করবে বলে৷

অর্থনীতির এই বেহাল দশায় সবথেকে মার খাচ্ছে আমজনতা৷ নিত্যব্যবহার্য জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে৷ গত চার পাঁচ মাসে তরি তরকারি ও গৃহস্থালি সামগ্রীর দাম বেড়েছে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ৷ সরকারের ভূমিকা নীরব দর্শকের এমনটাই অভিযোগ সাধারণ মানুষের৷ তাই সবাই এখন পাখির চোখ করছে আগামী নির্বাচনকে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়