1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

নজরুলের অসাম্প্রদায়িক বাণী

সাম্য-মানবতার কবি, প্রেমের কবি, বিদ্রোহের তূর্যবাদক জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৩৮তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ৷ শিল্পী জীবনের সীমিত পরিসরে নজরুলের বহুমুখী প্রতিভার মূল্যায়ন সময়সাপেক্ষ৷ তাঁকে নিয়েই এই ব্লগওয়াচ৷

Kazi Nazrul Islam, Dichter, Bangladesch

আবদুল্লাহ আল আমিন সামহয়্যার ইন ব্লগে লিখেছেন নজরুলের অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং গান্ধীবাদের সাথে তাঁর সমর্থন ও অসমর্থনের বিষয়টি নিয়ে৷

তিনি লিখেছেন, ‘‘অসাম্প্রদায়িক মানবতাবাদে প্রবলভাবে আস্থাশীল এই মহৎ কবির আরাধ্য ছিল সত্য শিব ও সুন্দর৷ প্রবল আত্মবিশ্বাসের সাথে তিনি বলেছেন, ‘সুন্দরের ধ্যান, তার স্তব গানই আমার উপাসনা, আমার ধর্ম৷ যে কূলে, যে সমাজে, যে ধর্মে, যে দেশেই জন্মগ্রহণ করি, সে আমার দৈব৷ আমি তাকে ছাড়িয়ে উঠতে পেরেছি বলেই কবি৷'(প্রতিভাষণ: নজরুল ১৯২৯)''

আল আমিন লিখেছেন, ‘‘সুনির্দিষ্ট কোনো ধর্ম, দর্শন কিংবা জীবন চর্যায় তিনি দীর্ঘকাল স্থির থাকতে পারেননি; তবুও সকল ধর্মের সার্বজনীন মূল্যের প্রতি ছিল তাঁর প্রগাঢ় আস্থা৷ আর এই আস্থা তাঁকে হিন্দু কিংবা মুসলমানের কবি না করে, করেছে বাংলা ও বাঙালির কবি৷ তাই তো মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী সংগ্রামে এবং পরমত সহিষ্ণুতা প্রতিষ্ঠা ও ধর্মীয় সম্প্রীতি সাধনায় তাঁর কবিতা ও গান বাঙালিকে যোগায় অনিঃশেষ প্রেরণা''

গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনে নজরুলের যোগদান প্রসঙ্গে তিনি লিখেছেন, ‘‘সারা ভারত জুড়ে চলছে আসহযোগ আন্দোলন, চরকা আন্দোলন, স্বদেশি আন্দোলন, সন্ত্রাসবাদী আন্দোলনের উন্মাদনা৷ কবি হিসেবে তখনই বাংলা কবিতার বিশাল অঙিনায় নজরুলের আবির্ভাব৷ আবির্ভাবকালে তিনি মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর অহিংস অসহযোগ আন্দোলনের আদর্শগত ‘রোমানটিসিজম' দ্বারা আকৃষ্ট হন৷ মানব জীবনের মৌলিক নীতিবাদের সাথে গান্ধীর অহিংস তত্ত্বের মিল থাকার কারণেই তিনি এ তত্ত্ব দ্বারা আকৃষ্ট হয়েছিলেন৷ মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে নজরুলের প্রথম সাক্ষাত হয় হুগলিতে পরে ফরিদপুরে৷ ১৯২১ সালে নজরুল গান্ধীর রাজনীতির একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে লিখেন: ‘এ কোন পাগল পথিক ছুটে এলো বন্দিনী মার আঙ্গিনায়৷/ত্রিশ কোটি ভাই মরণ-হরণ গান গেয়ে তাঁর সঙ্গে যায়৷/অধীন দেশের বাঁধন বেদন/কে এলো রে করতে ছেদন? (পাগল পথিক, বিষের বাঁশি, নজরুল রচনাবলী, প্রথম খণ্ড, বাংলা একাডেমী ১৯৮০ পৃ: ৯৬)''

‘‘মহাত্মা গান্ধীকে নিয়ে এটাই ছিল নজরুলের প্রথম গান৷ গান্ধীও বলেছেন, ‘গীতার প্রতি নিষ্ঠাবান কোন লোক, হিন্দু ও মুসলমান ভেদ করবে না৷ গীতাতে প্রতিপাদিত ভক্তি ও ধর্ম ও প্রেমের মার্গে মানুষকে ঘৃণার কোন জায়গা নেই৷' (ইয়ং ইন্ডিয়া, সেপ্টেম্বর ১৯২৭)''

আল আমিন লিখেছেন, ‘‘গান্ধী মনে করতেন মানুষ হয়ে মানুষকে ঘৃণা করা মনুষত্ব্যের অবমাননা৷ মানুষকে ঘৃণা করা ঈশ্বরকে ঘৃণা করার নামান্তর৷''

‘‘মহাত্মা গান্ধীর এই মানবিকতা ও মনুষ্যত্বের বাণী নজরুলের সংবেদশীল সত্তাকে আবেগ মথিত করেছে৷ তবে চিরবিদ্রোহী নজরুল গান্ধীর জাতপাতহীন রাজনীতির প্রতি অবিচল আস্থা রাখতে পারলেও, আস্থা রাখতে পারেননি অহিংস দর্শনের প্রতি৷ তাই তো ক্ষোভ ও ঘৃণা মিশ্রিত আবেগ ‘আনন্দময়ী আগমনে' কবিতায় তিনি উচ্চারণ করেছেন; ‘মাদীগুলোর আদিদোষ ঐ অহিংসা বোল নাকি নাকি/খাঁড়ায় কেটে করমা বিনাশ নপুংসকের প্রেমের ফাঁকি/হান তরবার, আন মা সমর, অমর হবার মন্ত্রশেখা/মাদী গুলোকে কর মা পুরুষ, রক্ত দেমা, রক্ত দেখা৷' (আনন্দময়ীর আগমনে, নজরুল রচনাবলী, প্রথম খণ্ড, পৃ:৩৩০)''

এছাড়া আল আমিন নজরুলের সন্তানদের নাম রাখার বিষয়টিও উল্লেখ করে লিখেছেন, ‘‘নজরুল তাঁর চারটি সন্তানের নাম রেখেছিলেন হিন্দু মুসলমানের মিলিত ঐতিহ্য ও পুরানের আলোকে৷ তাঁর প্রথম সন্তানের নাম রেখেছিলেন কৃষ্ণ মুহাম্মদ৷ বাকিদের নামকরণ করা হয়; অরিন্দম খালেদ, কাজী সব্যসাচী, কাজী অনিরুদ্ধ৷''

সবশেষে তিনি লিখেছেন, ‘‘হিন্দু-মুসলমান মিলনের কথা কবীর, নানক থেকে লালন সাঁই পর্যন্ত অনেকে বলেছেন৷ কিন্তু নজরুলের মতো জীবনে মননে অমন গভীরভাবে কেউ কি আর বলতে পেরেছে? নজরুলের মত সাম্প্রদায়িকতা ও ভেদবুদ্ধির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারেনি কেউ৷''

একই ব্লগে সুফিয়া নজরুলের কবিতার কথা উল্লেখ করেছেন৷ তিনি লিখেছেন,

‘‘নজরুলের কবিতা, বাণী, গান, সুর কিংবা গদ্য লেখা কোনটাকে ছেড়ে কোনটাকে বেশি ভালো লাগবে সেটা বলা খুবই কঠিন৷ কাজী নজরুল ইসলামের রচনাসমগ্র নিয়ে ইদানীং একটু নড়াচড়া করার চেষ্টা করছি আমি৷ সেখান থেকে বিভিন্ন কাব্যগ্রন্থের কবিতায় কবির লেখা যে চরণগুলো আমার ভালোলাগার আমেজকে নাড়া দিয়েছে সেগুলো এখানে শেয়ার করার চেষ্টা করছি৷''

কবিতা: জাতের বজ্জাতি

জাতের নামে বজ্জাতি সব জাত জালিয়াৎ করছে জুয়া

ছুঁলেই তোর জাত যাবে? জাত ছেলের হাতের নয় তো মোয়া

......

জানিস নাকি ধর্ম সে যে বর্মসম সহনশীল

তাই কি ভাই ভাঙতে পারে ছোঁওয়া ছুঁয়ির ছোট্ট ঢিল?

যে জাত-ধর্ম ঠুনকো এত

আজ না হয় কাল ভাঙবে সে তো৷

যাক না সে জাত জাহান্নামে রইবে মানুষ নাই পরোয়া৷

কবিতা: বিদ্রোহী

....আমি চির বিদ্রোহী বীর

বিশ্ব ছাড়ায়ে উঠিয়াছি একা চির উন্নত শির৷

কবিতা: বিদায় বেলায়

হাসি দিয়ে যদি লুকালে তোমার সারা জীবনের বেদনা

আজো তবে শুধু হেসে যাও, আজ বিদায়ের দিনে কেঁদো না৷

সংকলন: অমৃতা পারভেজ

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ

নির্বাচিত প্রতিবেদন