‘নকল করে পাশ করেছেন জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী’ | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 17.02.2011
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

‘নকল করে পাশ করেছেন জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী’

সাংঘাতিক অভিযোগ উঠেছে জার্মানির উঠতি রাজনৈতিক তারকা ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী কার্ল টেওডোর সু গুটেনব্যার্গ’এর বিরুদ্ধে৷ তিনি নাকি তাঁর ডক্টরেট থিসিসে অসংখ্য জায়গায় অন্যের লেখা নিজের বলে চালিয়ে দিয়েছেন!

default

কার্ল টেওডোর সু গুটেনব্যার্গ

জার্মান সমাজে ডক্টরেট ডিগ্রির সম্মানই আলাদা৷ তাই উচ্চাভিলাষ থাকলে খেটেখুটে ডক্টরেট করতে পারলে আখেরে লাভই হয়৷ অন্যদিকে জার্মানির রাজনীতির জগতে প্রথম সারির নেতাদের মধ্যে বেশিরভাগই আইন নিয়ে পড়াশোনা করেছেন, কেউ কেউ আবার পেশাদার আইনজীবী হিসেবে যথেষ্ট সুনামও কুড়িয়েছেন৷

৩৯ বছর বয়স্ক তরুণ প্রতিরক্ষামন্ত্রী কার্ল টেওডোর সু গুটেনব্যার্গ শুধু আইন নিয়ে পড়াশোনাই করেন নি, আইনের ক্ষেত্রে ২০০৭ সালে ডক্টরেট উপাধিও লাভ করেন৷ থিসিসের জন্য ভালো নম্বরও পেয়েছিলেন৷ উঠতি ও জনপ্রিয় এই তারকা রাজনীতিক একদিন দেশের চ্যান্সেলর হবেন, এমন সব জল্পনা-কল্পনা যখন শুরু হয়েছে, তখনই দেখা দিয়েছে এমন এক বিতর্ক, যা তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য মারাত্মক পরিণতি বয়ে আনতে পারে৷

ঘটনার সূত্রপাত এইভাবে৷ ব্রেমেন শহরের এক অধ্যাপক গুটেনব্যার্গ'এর প্রায় ৪৭৫ পাতার ডক্টরেট থিসিস নাড়াচাড়া করছিলেন৷ এক জায়গার তাঁর কিছুটা খটকা লাগায় তিনি ইন্টারনেটে লেখার কিছু অংশ মিলিয়ে দেখেন৷ তারপর কেঁচো খুঁড়তে সাপ৷ লেখার মধ্যে কমপক্ষে ৯টি অংশ তিনি খুঁজে পান, যা অন্য কোনো লেখা থেকে হুবহু তুলে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে৷ এমনকি বেশ কিছু প্রথম সারির সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের অংশবিশেষও রয়েছে থিসিসের মধ্যে৷ নিয়ম অনুযায়ী ফুটনোটে তা স্বীকারও করা হয় নি৷ ‘স্যুডডয়চে সাইটুং' সংবাদপত্রে একটি প্রতিবেদনে এই খবর প্রকাশ হয়৷ তারপর দেশজুড়ে উঠেছে সমালোচনার ঝড়৷ বিশেষজ্ঞরা এবার সেই থিসিস আরও খুঁটিয়ে পড়তে শুরু করেছেন৷ তাদের ধারণা, অন্যের লেখা থেকে অন্যায়ভাবে নকল করার আরও অনেক উদাহরণ সেখানে পাওয়া যাবে৷

মন্ত্রী নিজে কী বলছেন? বলাই বাহুল্য, তিনি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ৷ সেইসঙ্গে ইচ্ছাকৃতভাবে নকল করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি৷ বলেছেন, থিসিসের প্রথম সংস্করণে কয়েকটি ক্ষেত্রে যদি ফুটনোট ছাপা নাও হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ সংস্করণে তা শুধরে নেওয়া হবে৷ এর মধ্যে আবার অঘোষিত সফরে আফগানিস্তান চলে গেছেন তিনি৷ এই সফর বিতর্ক থেকে দূরে থাকার জন্য কি না, তা অবশ্য স্পষ্ট নয়৷

বিরোধীরা কি এই সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করে? তারা মন্ত্রীর বিরুদ্ধে তুমুল সমালোচনার ঝড় তুলেছে৷ জার্মান সেনাবাহিনীর বেশ কয়েকটি কেলেঙ্কারির ফলে এমনিতেই কোণঠাসা হয়ে রয়েছেন৷ গুটেনব্যার্গ'এর নিজের খ্রিস্টীয় গণতন্ত্রী শিবির অবশ্য এই সংকটের সময় মন্ত্রীর পাশেই দাঁড়িয়েছে৷ তবে গুটেনব্যার্গ ও তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়কে যে গোটা ঘটনার জবাবদিহি করতে হবে, এবিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই৷ খোদ চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলও এমনটাই আশা করছেন৷

প্রতিবেদন: সঞ্জীব বর্মন

সম্পাদনা: ফাহমিদা সুলতানা