1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

ধ্বংসলীলার ছবি ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে জাপানে

জাপানের ভূমিকম্প এবং সুনামি মিলিয়ে ধ্বংসলীলার ভয়ংকর ছবি ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে৷ সরকারি হিসেবে নিহত চারশো৷ আরও বাড়ছে সেই সংখ্যা৷ যাত্রীবাহী জাহাজ এবং ট্রেন নিখোঁজের তালিকায়৷ রয়েছে বড়োমাপের পারমাণবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কাও৷

default

উত্তর জাপানের ফুকুসিমা পারমাণবিক কেন্দ্র

‘দ্য গ্রেট কানতো কোয়েক'-কেও ছাপিয়ে গেছে শুক্রবারের ভূমিকম্প

১৯২৩ সালের সেই ভূমিকম্প, যার পরিমাণ ছিল ৭.৯, সেটাই ছিল জাপানের ইতিহাসে ভয়ংকরতম৷ আর ২০১১ সালের ১১ই মার্চের ভূমিকম্পের পরিমাণ তার থেকেও বেশি৷ রিখটার স্কেলে ৮.৯৷ প্রাথমিক ব্যাখ্যায় বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, প্রশান্ত মহাসাগরের তলায় দুটি ভূস্তর বা প্লেটের মধ্যে সংঘর্ষের ফলেই এই ভূমিকম্প৷ বলা হয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরীয় প্লেট ঢুকে গেছে ইউরেশিয় প্লেটের নীচে৷ ফলে ভয়ংকর ফাটল তৈরি হয় সমুদ্রের নীচে৷ তৈরি হয় এক সাংঘাতিক শক্তির৷ সেই শক্তিই জন্ম দেয় দশ মিটার উঁচু ঢেউয়ের সুনামির৷ বিজ্ঞানীদের মতে, সমুদ্রের নীচের এই ভয়াবহ সংঘর্ষ হিরোসিমা নাগাসাকিতে ফেলা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরমাণু বোমার থেকেও তিন কোটি গুণ তীব্র৷ ভূমিকম্পের বহু ঘন্টা পরেও কেঁপে কেঁপে উঠছে টোকিও থেকে সেন্ডাই, জাপানের বহু শহর৷ বিজ্ঞানীদের পরিভাষায় যাকে বলা হয় আফটার শক৷

দুশ্চিন্তা ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক কেন্দ্রগুলিকে নিয়ে

১৯২৩ সালের জাপানের সেই ভূমিকম্প, দ্য গ্রেট কানতো কোয়েক - সেবারে প্রায় দেড় লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল৷ আর এবার অন্যান্য সূত্রে ইতিমধ্যেই হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর কথা শোনা যাচ্ছে৷ সরকারি সূত্র যদিও বলছে, নিহত চারশো৷ সেই সঙ্গে নিখোঁজের সংখ্যাও কয়েক হাজার৷ ফলে মৃতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা রয়েই গেছে৷ সেইসঙ্গে নতুন দুশ্চিন্তা রয়েছে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলিকে নিয়ে৷

Japan / Erdbeben / Tsunami / Natori

ধ্বংসের বিস্তীর্ণ চেহারা

জাপানের ফুকুশিমা দাইনি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের শীতল করার প্ল্যান্টটি এই ভয়াবহ ভূমিকম্পে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার পর ওই এলাকার তিন কিলোমিটারের মধ্যের বাসিন্দাদের অন্যত্র সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ৷ কাছাকাছির মধ্যে আরেকটি পারমাণবিক কেন্দ্র ফুকুসিমা দাইচির শীতলতার প্ল্যান্ট অকেজো হওয়ার পর সেই এলাকার দশ কিলোমিটারের মধ্যে যাবতীয় বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ জারি করা হয় শুক্রবার বিকেলেই৷ আন্তর্জাতিক পরিবেশ সংস্থা গ্রীনপিস হুঁশিয়ারি শুনিয়ে বলেছে, এই দুটি ভূমিকম্পে পারমাণবিক কেন্দ্রের ক্ষতি হওয়ার যে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে তাতে অনেক বেশি ভয়াবহ ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে৷

ত্রাণ সহায়তায় নিয়ে এগিয়ে এসেছে বিশ্ব

ভূমিকম্প এবং সুনামি দুই-এর যুগপৎ ধাক্বায় জাপানের অর্থনীতিও এক ধাক্বায় অনেকটা পিছিয়ে পড়েছে৷ মোট ক্ষতির পরিমাণ এখনই শোনা গেছে দশ বিলিয়ন ডলার৷ জাতিসংঘ এই বিপর্যয়ে জাপানের পাশে সর্বতোভাবে থাকবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন৷ জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ত্রাণ সহায়তা পাঠানো শুরু হয়েছে৷ ধ্বংসস্তূপ থেকে হতাহতদের উদ্ধারের জন্য বিশেষ দল যাত্রা করেছে বহু দেশ থেকে৷

নিখোঁজ ট্রেন, জাহাজ, গোটা উত্তর জাপান অন্ধকারে

টোকিও থেকে ২৩০ কিলোমিটার দূরে সমুদ্র উপকূলের ১৭ মাইল গভীরে ছিল ভূমিকম্পের উৎসস্থল৷ যার প্রভাবে বিশাল সুনামি ঢেউ আছড়ে পড়ে উপকূলে৷ সমুদ্রের ধারের প্রায় ২১০০ কিলোমিটার জুড়ে বসতির কোন চিহ্ন নেই৷ গোটা উত্তর জাপান ডুবে রয়েছে অন্ধকারে৷ জাপানের বিভিন্ন দ্বীপের মধ্যে যাতায়াত করে যেসব বুলেট ট্রেন, তাদের অনেকেরই যাত্রাপথ সমুদ্রের তলা দিয়ে৷ একটি বুলেট ট্রেন থেকে ৯০০ যাত্রীকে উদ্ধার করা হলেও বাকিগুলোর খবর এখনও অজানা৷ মাঝ সমুদ্রে যাত্রীবাহী একটি জাহাজ এখনও নিখোঁজ৷ আশঙ্কা করা হচ্ছে তার সলিল সমাধির৷ ক্ষয়ক্ষতির হিসেবনিকেশ আসতে শুরু করেছে সবে৷ এই জাতীয় বিপর্যয়ে প্রধানমন্ত্রী নাওতো কান গোটা দেশকে শান্ত থাকতে অনুরোধ করেছেন৷

প্রতিবেদন: সুপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়

সম্পাদনা: অরুণ শঙ্কর চৌধুরী

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়