1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি ইউরোপ

ধৈর্য হারিয়ে ফেলছে ইউরোপের তরুণ প্রজন্ম

বেকারত্বের হার বৃদ্ধি, বাধ্যতামূলক ব্যয় সংকোচন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধীর গতি ইত্যাদি কারণে ভবিষ্যত নিয়ে শঙ্কিত হয় পড়ছে ইউরোপের মানুষ৷ বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম ধৈর্য ও সাহস হারিয়ে ফেলছে৷

Deutsch-israelischer Jugendaustausch in Rahat Israel 2012

ফাইল ফটো

অর্থনৈতিক সংকট থেকে ধীরে ধীরে গা ঝাড়া দিয়ে উঠছে ইউরোপ৷ আগামী বছর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এক শতাংশ বাড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা৷ তবে এই ঊর্ধ্বগতিটা বেশ শ্লথ৷ ইউরোপের তরুণরা চাকরির ব্যাপারে আশার আলো দেখছেন খুব কমই৷

২০১৩ সালের অক্টোবর মাসে ২৫ বছরের কম বয়সি তরুণদের মধ্যে সাড়ে তিন মিলিয়নের বেশি ছিলেন বেকার৷ স্পেন ও গ্রিসে তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার ৫০ শতাংশেরও বেশি৷ অবশ্য ইউরোপের দক্ষিণের দেশগুলিতে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার আগে থেকেই এই প্রবণতাটা লক্ষ্য করা গেছে৷

বার্লিনের জার্মান অর্থনৈতিক গবেষণা ইন্সটিটিউটের কার্ল ব্রেঙ্কে এর পেছনে কাঠামোগত দুর্বলতার কথা উল্লেখ করেন৷ অবশ্য গত কয়েক বছরে তা তীব্র হয়েছে৷ দক্ষিণ ও পূর্ব ইউরোপের দেশগুলিতে তরুণদের পেশাগত প্রশিক্ষণ তেমন মানসম্মত নয়৷ এছাড়া সংস্কার সত্ত্বেও সেখানকার কর্মবাজার এখনও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত৷ তবে যুব-বেকার সমস্যা এখন ক্রমেই মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে৷

বয়স্করাও উদ্বিগ্ন

তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ অন্ধকারাচ্ছন্ন হলে বয়স্করাও উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন৷ ইউরোপীয় ইউনিয়ন গত গ্রীষ্মে যুব-বেকারত্ব নিয়ে একটি আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে৷ কারণ একটি ‘হারিয়ে যাওয়া প্রজন্ম' রাজনীতিকদের জন্য ইতিবাচক হতে পারে না৷ ‘‘অল্পবয়সিরা শুরুতেই যদি কোনো কাজ পেতে অসুবিধার সম্মুখীন হন, তাহলে সমাজের কাছ থেকে তাদের দূরত্ব বাড়বে,'' সতর্ক করে বলেন ব্রেঙ্কে৷ প্রথমে দেখা দেয় হতাশা আর তা থেকে সৃষ্টি হয় নৈরাশ্য৷ এর ফলে অনেকে হাল ছেড়ে দিতে পারেন বলে জানান বার্লিন গবেষণা কেন্দ্রের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ক্রিশ্টিয়ান ব্রিজিনস্কি-ফে৷

প্রতিবাদী হয়ে উঠছেন তরুণরা

তবে যুব সমাজের হাল ছেড়ে দেওয়ার লক্ষণ সেসব দেশে দেখা যাচ্ছে না৷ বরং অনেক জায়গায় তাদের যুদ্ধংদেহী ভাব লক্ষ্য করা যায়৷ স্পেন, গ্রিস, পর্তুগাল, ইটালি ইত্যাদি দেশগুলিতে ধর্মঘট, প্রতিবাদ, বিক্ষোভে ফেটে পড়ছে মানুষ৷ তরুণরা তাদের ভবিষ্যৎ, পরিবার পরিজন, সমৃদ্ধি এসব ব্যাপারে উদ্বিগ্ন৷ আগের প্রজন্মের ওপরও ক্ষুব্ধ তারা৷ তাদের ধারণা, আগের প্রজন্ম রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে যে ভুলভ্রান্তি করেছেন, তার মাশুল দিতে হচ্ছে তাদের৷

সুযোগটা কাজে লাগায় কট্টর দক্ষিণপন্থিরা

এই সুযোগটা কাজে লাগাতে চাইছে কট্টর দক্ষিণপন্থি রাজনৈতিক দলগুলি৷ এক্ষেত্রে এক ‘বলির পাঁঠা'ও পেয়ে গেছে তারা৷ আর সেটি হলো, ইউরোপীয় ইউনিয়ন৷ অর্থনৈতিক দুরবস্থার জন্য এই সংস্থাটিই দায়ী বলে তারা জোরেশোরে প্রচারণা চালাচ্ছে৷

ইউরোপীয় ইউনিয়নে এই রকম আবহ বিরাজ করতে থাকলে চরম দক্ষিণপন্থি দলগুলি ইউরোপের পার্লামেন্ট নির্বাচনে শক্ত অবস্থানে আসতে পারে৷ ‘‘এই ধরনের পার্টিগুলি যে সস্তা জনপ্রিয়তা পাচ্ছে, তা লক্ষ্য করা যায় ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস কিংবা স্ক্যান্ডিনেভিয়ার দেশগুলিতে,'' বলেন ব্রিজিনস্কি-ফে৷ তবে ইউরোপীয় সমাজ দৃশ্যমান চরমপন্থার দিকে ঝুঁকবে বলে মনে করেন না এই রাষ্ট্রবিজ্ঞানী৷ কেননা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি এখানে অনেক মজবুত৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন