1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি ইউরোপ

ধূমপান: বাড়ি ছাড়তে হচ্ছে জার্মান বৃদ্ধকে

সিগারেটের কটূগন্ধে বিরক্ত প্রতিবেশীরা মামলা ঠোকার পর এক বৃদ্ধকে বাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে জার্মানির পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর ডুসেলডর্ফের একটি আদালত৷ রায়ে বলা হয়েছে, নিজের বাসায় ধূমপানের ক্ষেত্রে আইনে কোনো সমস্যা নেই৷ তাহলে?

ফ্রিডহেল্ম আডল্ফস কিন্তু তাঁর অ্যাপার্টমেন্টে বসেই সিগারেট খেয়েছিলেন৷ সমস্যা হলো, সিগারেটের ধোঁয়া হলওয়েতে যাওয়া ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছিলেন তিনি৷ আর সেটাই তাঁর অপরাধ৷ তাই এবার, বাড়িওয়ালির নোটিস মেনে নিয়ে তাঁকে ওই অ্যাপার্টমেন্ট ছেড়ে দিতে হবে৷

৭৫ বছর বয়সি আডল্ফসের দিন কাটে সরকারের অবসর ভাতার টাকায়৷ গত চার দশক ধরে তিনি ওই বাসায় বসবাস করে এলেও প্রতিবেশীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে গতবছর তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে যান তাঁর বাড়িওয়ালি৷

Deutschland Rauchverbot auf dem Oktoberfest Plakat

জার্মানির পাবলিক ভবন, পরিবহনসহ বিভিন্ন স্থানে ধূমপান নিষিদ্ধ করা হয় ২০০৭ সালে

এ মামলার শুনানিতে বাড়িওয়ালির আইনজীবী আদালতকে বলেন, বার বার অনুরোধ করার পরও আডল্ফস ধোঁয়া বেরিয়ে যাওয়ার জন্য অ্যাপার্টমেন্টের জানালা খুলতে অস্বীকৃতি জানান৷ এমনকি নিয়মিত অ্যাশট্রে পরিষ্কার করতেও তাঁর ছিল দারুণ অনীহা৷ ২০১২ সালে বাড়িওয়ালি মৌখিকভাবে সতর্ক করে দেয়ার পরও বৃদ্ধ তাতে কান দেননি৷

বাড়ি ছাড়ার জন্য আডলফসকে এ বছরের শেষ পর্যন্ত সময় দিয়েছে ফেডারেল আদালত৷ অবশ্য এই রায়ের বিরুদ্ধে তিনি উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ পাবেন৷

জার্মানির ধূমপায়ী-অধূমপায়ী দু'পক্ষই গত এক বছর ধরে সমান আগ্রহ নিয়ে এ মামলার খোঁজ খবর রেখেছেন৷ ধূমপায়ীদের কারো কারো আশঙ্কা, আদালতের এই রায়ের ফলে নিজের বাড়িতে বসে ধূমপানের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের পথ তৈরি হতে পারে৷

আদালতের রায় ঘোষণার পরপরই জার্মানির অ্যাসোসিয়েশন অফ রেন্টার্সের পরিচালক লুকাস জিবেনকোটেন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘‘নিজের অ্যাপার্টমেন্টে বসে ধূমপানে কোনো বিধিনিষেধ দেয়া চলে না৷ ফেডারেল আদালত গত বছরই বলে দিয়েছে, একজন ভাড়াটে বাসা নেয়ার সময় যে চুক্তি করেছেন, সে অনুযায়ী ধূমপানের বিষয়টি নির্ধারিত হবে৷''

এ মামলার বিচার চলাকালে আডল্ফস দাবি করেন, সাবেক চ্যান্সেলর হেলমুট স্মিটের পরে তিনিই জার্মানির সবেচেয়ে বিখ্যাত ধূমপায়ী৷ তাছাড়া অন্য ধূমপায়ীদের কাছ থেকে পাওয়া আর্থিক সহায়তা দিয়েই তিনি নাকি এ মামলা চালিয়েছেন৷

জার্মানির পাবলিক ভবন, পরিবহনসহ বিভিন্ন স্থানে ধূমপান নিষিদ্ধ করা হয় ২০০৭ সালে৷ অধিকাংশ বার ও রেস্তোরাঁতেও ধূমপান নিষিদ্ধ৷

এক সময় অক্টোবর ফেস্টের মতো বিয়ার উৎসবে ধূমপান করা গেলেও ২০০৭ সাল থেকে সেখানেও নিষেধাজ্ঞা চলছে৷ হেলমুট স্মিটই সম্ভবত জার্মানির সর্বশেষ ব্যক্তি, যিনি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারের মধ্যেও সিগারেট ধরানোর মতো স্বাধীনতা ভোগ করেছেন৷

জেকে/ডিজি (ডিপিএ, এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়