1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘‘ধীরে ধীরে সব মুখোশ খুলে যাচ্ছে’’

জামায়াতে ইসলামীর যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো, মানে ফেসবুক এবং ব্লগগুলিতে৷ সরকার এ বিষয়ে কতটা আন্তরিক – সে প্রশ্নও তুলেছেন কেউ কেউ৷

আনিসুল হক গত বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় করা যুদ্ধাপরাধের জন্য সংগঠন হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে মামলা ও বিচার করা বিদ্যমান আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনে সম্ভব নয়৷

এর তিনটি কারণ উল্লেখ করে তিনি বলনে, আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন ১৯৭৩-এ সংগঠনের শাস্তির বিধান নেই৷ জামায়াতের নিবন্ধনের ব্যাপারে একটি মামলা আপিল বিভাগে থাকায় ট্রাইব্যুনাল আইনে জামায়াতের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হলে ওই মামলায় প্রভাব পড়তে পারে৷ এছাড়া কয়েকজন জামায়াত নেতা ইতোমধ্যে বিচারের আওতায় আসায় দ্বিতীয়বারের মতো তাঁদের শাস্তি হলে তা সাংঘর্ষিক হবে কিনা – তাও বিবেচনা করতে হবে৷
যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসা গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার মন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, তাঁরা রাজপথ ছাড়বেন না, যুদ্ধাপরাধী সংগঠন হিসাবে জামায়াতের বিচারের দাবিতে মঞ্চের সংগ্রাম চলবে৷

‘‘আজ আইনমন্ত্রী বলেছেন, জামাতের বিচার সম্ভব নয়৷ ট্রাইব্যুনালে কি হচ্ছে সেটাও দেখছি পত্রিকায়৷ আরো অনেক কিছুই হচ্ছে, হবে৷ ধীরে ধীরে সবকিছু পরিষ্কার হবে৷ এর আগে অবশ্য নানা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে গণজাগরণ মঞ্চকে দুর্বল করার চেষ্টা এবং বেশ কিছু গণমাধ্যম ও বুদ্ধিজীবী দিয়ে বিভাজন তত্ত্ব ‘এস্টাব্লিশড’ করার রাজনৈতিক প্রজেক্ট সম্পন্ন করা হয়েছে৷ বেশ, ধীরে ধীরে সব মুখোশ খুলে যাচ্ছে৷

ইমরানের লেখায় নারায়ণ গুপ্ত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, ‘‘আওয়ামী লীগের মুখে এক কথা, কাজে আরেক রকম৷ এই জন্য সরকার অবশ্যই পচে যাবে এবং এর পরিণতি টের পাবে আগামী নির্বাচনে৷’’

আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস স্ট্রেটেজি ফোরাম’-এর ফেসবুক পৃষ্ঠায় দেয়া একটি নোট নিজের পেজে শেয়ার করেছেন আরিফ জেবতিক ৷ এতে বলা হয়েছে, আইসিএসএফ আইনমন্ত্রীর ধারণাকে সঠিক মনে করে না৷

‘‘আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন ১৯৭৩-এর ৩ (১) ধারাটি ২০০৯ সালে সংশোধন করার ফলে স্পষ্টতই এতে যে কোনো ‘সংগঠন’-এর তদন্ত, বিচার, এবং শাস্তির বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে৷ সন্দেহাতীতভাবে এই আইন অনুযায়ী – ১৯৭১ সালে সংঘটিত আন্তর্জাতিক অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত যে কোনো সংগঠনের বিচারকাজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারভুক্ত৷ একইভাবে, সংশোধিত ৩ (১) ধারার ফলে আইনটির ৩ (২) ধারায় ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ার ব্যক্তির পাশাপাশি সংগঠনের দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রেও নিশ্চিতভাবে প্রয়োগযোগ্য৷’’

আইসিএসএফ মনে করে, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী ট্রাইব্যুনালে বিভিন্ন ব্যক্তির বিচার এবং ঘোষিত শাস্তির সাথে সংগঠন হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বিচারের কোনো সম্পর্ক নেই৷ কারণ সংগঠনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য শাস্তির ধরণ সঙ্গতভাবেই ব্যক্তিকে প্রদত্ত শাস্তির ধরণ থেকে স্বতন্ত্র হতে পারে, যা ট্রাইব্যুনালের বিচারকবৃন্দ তাঁদের সুবিবেচনা প্রয়োগ করে চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করার যোগ্যতা রাখেন৷

‘‘ট্রাইব্যুনালের আইন অনুযায়ী সংগঠন হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বিচার কিংবা শাস্তিযোগ্যতার বিষয়টি একটি বিচার্য বিষয়, যা চূড়ান্তভাবে নির্ধারণের এখতিয়ার কেবলমাত্র ট্রাইব্যুনালের মাননীয় বিচারকদের হাতে ন্যস্ত৷ তাই আইসিএসএফ গভীর উদ্বেগের সাথে মনে করে – আইনমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এ ধরনের আগাম বক্তব্য এবং আইনের আগাম ব্যাখ্যা শুধুমাত্র জনমনে বিভ্রান্তিই নয়, তা একটি স্বাধীন ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়ার উপর সরকারের হস্তক্ষেপ বা প্রভাব বিস্তার হিসেবে গণ্য হওয়ার সুযোগও তৈরি করে৷’’

Dhaka Protest gegen Blogger

আরিফুল আমীর লিখেছেন, ‘‘জামায়াতের জন্মস্থান পাকিস্তানে যদি জামায়াত নিষিদ্ধ হতে পারে বাংলাদেশে হবে না কেন?’’

আনিসুল হক আইন কতটা জেনে এ বিষয়ে কথা বলেছেন – তা নিয়েই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবীর৷

একাত্তর টেলিভিশনের আলোচনা ‘একাত্তর জার্নাল’-এ তিনি বলেন, ‘‘আনিসুল হক যে তিন বক্তব্য দিয়েছেন তা আমাদের কাছে গ্রহণযোগ নয়৷ মন্ত্রী সম্ভবত ১৯৭৩ সালের আইনটি ভালো করে পড়েননি৷ গতবছর আইনের যে সংশোধনী হয়েছে তা সম্পর্কেও তিনি কিছু জানেন না বা পড়েননি৷ আইন জানলে তিনি এ কথা বলতেন না৷’’

মন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদে গণজাগরণ মঞ্চ শুক্রবার বিকালে শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে৷

মঞ্চের ফেসবুক পৃষ্ঠায় আরিফুল আমীর লিখেছেন, ‘‘জামায়াতের জন্মস্থান পাকিস্তানে যদি জামায়াত নিষিদ্ধ হতে পারে বাংলাদেশে হবে না কেন?’’

সংকলন: জাহিদুল কবির
সম্পাদনা: দেবারতি গুহ

নির্বাচিত প্রতিবেদন