1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

ধর্ষিতাকে রেস্টুরেন্টে প্রবেশে বাধা, কলকাতায় তোলপাড়

ধর্ষককে নয়, ধর্ষিতাকে ঢুকতে দেয়া হয়নি কলকাতার এক রেস্টুরেন্টে৷ ধর্ষিতার নাম সুজেট জর্ডান৷ রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে আবার ঝড় তুলেছেন প্রতিবাদী এই নারী৷

২০১২ সালে চলন্ত গাড়িতে ধর্ষণের শিকার হন সুজেট জর্ডান৷ ভারতীয় আইন অনুযায়ী, কেউ ধর্ষণের শিকার হলে তাঁর নাম গোপন রাখতে হয়৷ সাংবাদিকতা শেখার প্রাথমিক স্তরেও প্রতিটি সাংবাদিক জেনে যান, অভিযোগ প্রমাণিত হলে ধর্ষকের নাম প্রকাশ করা যাবে, তবে ধর্ষিতার নাম কখনোই নয়৷ ধর্ষিতাকে আরো সামাজিক হয়রানি আর অপমান থেকে দূরে রাখতেই এমন নিয়ম৷ তবে সুজেট এ নিয়ম মানেননি৷ ২০১২ সালে সাহস করে স্বনামেই জানিয়েছিলেন ধর্ষণের শিকার হওয়ার খবর৷ চেয়েছিলেন ধর্ষকদের উপযু্ক্ত শাস্তি৷ সেই থেকে সুজেট জর্ডান ভারতের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরেও বেশ পরিচিত৷

শনিবার সেই পরিচিতিই নতুন অপমানের কারণ হলো৷ নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে সুজেট জানান, শনিবার কলকাতার হাজরা এলাকার রেস্টুরেন্ট কাম পাব ‘জিঞ্জার'-এ গিয়েছিলেন তিনি৷ ঢোকার মুখেই নিরাপত্তা কর্মীরা বাধা দেয়৷ এক পর্যায়ে বলা হয়, ঢুকতে হলে রেস্টুরেন্টের ম্যানেজারের অনুমতি নিতে হবে৷ ম্যানেজার সুজেটকে সরাসরি বলে দেন, ‘‘আপনি পার্ক স্ট্রিটে ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন৷ তাই আপনাকে ঢুকতে দেবো না৷ প্রয়োজনে আপনি আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করতে পারেন৷'' ঘটনাস্থলে অনেকে উপস্থিত থাকলেও কেউ এর প্রতিবাদ না করায় হতাশ এবং ক্ষুব্ধ সুজেট কালিঘাট থানায় রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন৷

এদিকে সুজেট ফেসবুকে ঘটনাটি জানানোর পরই শুরু হয়েছে প্রতিবাদ৷ রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি অস্বীকার করেনি৷ এক টেলিভিশন চ্যানেলকে রেস্টুরেন্টের পক্ষ থেকে বলা হয়, সুজেট ঢুকলে ভেতরে উত্তেজনা দেখা দিতে পারে – এই ভয়েই প্রবেশে বাধা দেয়া হয়েছে৷ দ্য হিন্দু পত্রিকাকে ‘জিঞ্জার'-এর ম্যানেজার উত্তেজনা সৃষ্টির আশঙ্কার পক্ষে যুক্তি দেখাতে গিয়ে বলেছেন, ‘‘একসময় উনি নিয়মিত আমাদের এখানে আসতেন৷ তখন নতুন নতুন পুরুষকে সঙ্গে নিয়ে এসে মাতাল অবস্থায় খুব ঝামেলা করতেন৷ প্রমান চাইলে আমি ভিডিও ফুটেজ দেখাতে পারবো৷''

সুজেট জর্ডান ম্যানেজারের এ বক্তব্যকে ‘ডাঁহা মিথ্যা' বলে উড়িয়ে দিয়েছেন৷ তাঁর দাবি, ঢুকতে না দেয়ার কারণ হিসেবে রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ এখন নাকি বকেয়া বিলের কথাও উল্লেখ করছে৷ এ অভিযোগের জবাবে তাঁর পাল্টা প্রশ্ন, ‘‘টাকা পাওনা থাকলে তো তারা সেই টাকা পরিশোধ করতে বলবে, ঢুকতে বাধা দেবে কেন?''

২০১২ সালের ৬ই ফেব্রুয়ারি রাতে পাঁচ ব্যক্তি বন্দুকের মুখে ধর্ষণ করে সুজেটকে৷ প্রায় তিন বছর পর সেই কলকাতা শহরে একই ঘটনার কারণে এক রেস্টুরেন্ট কাম পাব-এ তাঁকে ঢুকতে না দেয়ার ব্যাপারটিকেও ধর্ষণের মতো অপরাধই মনে হচ্ছে সুজেটের কাছে৷ ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, ‘‘মনে হচ্ছে, আবার যেন আমাকে ধর্ষণ করা হলো৷ প্রকাশ্যে, এতগুলো লোকের সামনে আমাকে অপদস্থ করা হলো, অথচ কেউ (এর প্রতিবাদে) টু শব্দটিও করলো না! ''

এ ঘটনায় ক্ষোভ ও ঘৃণা প্রকাশ করে সমাজকর্মী হরীষ আইয়ার বলেছেন, ‘‘ভারতের জন্য আজ একটি কালো দিন৷ এটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়৷ যাঁরা ঘটনাস্থলে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছেন তাঁদের কথা ভাবতেও ঘেন্না লাগছে৷''

এসিবি/ডিজি (ডিএনএ, দ্য হিন্দু)

নির্বাচিত প্রতিবেদন