1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

ধর্ষক স্বামীর মুখ আর দেখতে চান না স্ত্রী

পেশায় দর্জি, অথচ আদতে তাকে একজন ‘সিরিয়াল' ধর্ষক ছাড়া আর কিছু বলা যায় না৷ ১২ বছর ধরে তার বিকৃত যৌন লালসার শিকার হয়েছে কয়েকশ' নাবালিকা৷ তাই পুলিশের জালে ধরা পরার পর, নিজের স্ত্রীও তার জন্য দুঃখ করেননি৷

সিরিয়াল ধর্ষক ৩৮ বছরের সুনীল রাস্তোগি অবশেষে ধরা পড়ছে দিল্লির কাছে অশোকনগরে৷ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সে তাঁর বিকৃত যৌনকাম মিটিয়ে এসেছে সাত থেকে বারো বছরের নাবালিকাদের ওপরে৷ আর সে কথা নিজেই কবুল করেছে সুনীল৷ কিন্তু তারপরও স্বামীর মুখ দেখতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন সুনীলের স্ত্রী৷

পুলিশ জানিয়েছে, এক অভিনব কায়দায় নাবালিকাদের নিশানা করতো সে৷ কখনও বেলা ১টা থেকে ২টোর সময় যখন স্কুলের ছুটি হয়, তখন স্কুলের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতো সুনীল৷ কখনও দাঁড়িয়ে থাকতো রাস্তাঘাটে৷ প্রথমে মিনিট পাঁচেক সে পিছু নিতো নাবালিকাটির৷ তারপর আশপাশ দেখে মোবাইল বের করে কথা বলতে বলতে মেয়েটির পাশে পাশে যেত৷ মোবাইলে এমনভাবে কথাবার্তা বলতো, যাতে মনে হয় সে মেয়েটির বাবার সঙ্গে কথা বলছে৷ শেষের দিকে বলতো, ‘‘হ্যাঁ, তোমার মেয়েকে দেখতে পেয়েছি, ওর হাতেই দিয়ে দিচ্ছি তোমার পাঠানো জিনিস৷''

তারপর মেয়েটিকে সে বলতো, ‘‘তোমার বাবার পাঠানো একটা প্যাকেট তুমি নেবে এসো৷ আমি তোমার বাবার বন্ধু৷'' এইসব কথা বলে ভুলিয়ে ভালিয়ে নাবালিকা মেয়েটিকে সে নিয়ে যেত কাছের কোনো খালি বাড়িতে, নির্মীয়মান বাড়ির ছাতে বা সিঁড়ির নীচে অথবা ঘুপচি কোনো গুদাম ঘরে কিংবা খালি কোনো মোটর গ্যারেজে৷

সুনীল রাস্তোগি প্রথমবার ধরা পড়ে ২০০৪ সালে উত্তরাখন্ড রাজ্যের রুদ্রপুরে এক প্রতিবেশীর নাবালিকা মেয়েকে যৌন পীড়ন করার পর৷ জামিন পাবার পর সে ফেরার হয়ে যায়৷ আদতে উত্তর প্রদেশের রামপুরের বাসিন্দা সুনীল রাস্তোগি বিবাহিত এবং দুই সন্তানের বাবা৷ কিন্তু ঘুরে ফিরে সে বার বার চলে আসতো দিল্লির কল্যাণপুর এলাকায়৷ বৌকে বলতো কাজে যাচ্ছি৷

পুলিশের জেরায় জানা যায়, নিজের দুরভিসন্ধি সফল করতে এই সিরিয়াল ধর্ষক নানা কুসংস্কারের আশ্রয় নিত৷ এই যেমন, প্রতিবার সে সম্পর্ক ক্রান্তি এক্সপ্রেস ট্রেনে চেপে আসতো৷ প্রতিবার তার গায়ে থাকতো লাল রঙের একই জ্যাকট এবং নীল রঙের জিন্স আর অপারেশন চালাতো বিজোড় সংখ্যার তারিখে৷ তারিখটা আবার সে ক্যালেন্ডারে দাগ দিয়ে রাখতো৷ এইসব পয়া বলে মনে করতো সুনীল৷

দিল্লির কাছে নয়ডায় দুই কিশোরীর ওপর যৌন পীড়নের অভিযোগ দায়ের করা হলে নড়েচড়ে বসে পুলিশ৷ শুরু হয় নতুন করে তদন্ত৷ খোঁজখবর করার পর আশেপাশের সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করে লাল জ্যাকেট পরা এক ব্যক্তির কথা জানা যায়৷ কিছু সিসিটিভি ফুটেজও হাতে আসে পুলিশের৷ মিল পাওয়া যায় ধর্ষকের সঙ্গে৷

এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী মানেকা গান্ধী জানান, ২০১৫ সালে গোটা দেশে যৌন হেনস্থার একটি রেকর্ড তৈরির প্রস্তাব তিনি দিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্র দপ্তরকে৷ কিন্তু তা আজও ঝুলে আছে নানা কারণে৷ ২০০৭ সালের এক জাতীয় সমীক্ষায় দেখা যায়, দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ কিশোরী বা নাবালিকা কোনো না কোনোভাবে যৌন হেনস্থার শিকার৷ এছাড়া দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ নাবালিকার ওপর যৌন হেনস্থার ঝুঁকি আছে – এমন কথাও উঠে আসে সেই সমীক্ষায়৷ বলা বাহুল্য, নাবালিকারা যৌন পীড়নের কথা বাবা-মাকে জানায় না বা জানাতে ভয় পায়৷ আবার অনেক সময় জানালেও থানা-পুলিশ করতে অভিভাবকরা পিছিয়ে আসেন হয়রানি এবং লোকলজ্জার ভয়ে৷

এই রকম বিকৃত ধর্ষকদের মানসিকতা সম্পর্কে মনস্তাত্ত্বিকরা কী বলছেন? তাঁদের মতে, এই বিকৃত কামের তাড়না বোঝা দায়৷ একটা বাচ্চা মেয়ে যখন যৌন নিপীড়নে কান্নাকাটি করে বা ভয়ে সিঁটিয়ে যায়, তখন তা দেখে বিকৃত মানসিকতার ধর্ষরা দারুণ আনন্দ পায়৷ এটাকেই বলে ধর্ষকাম বা পেডোফিল পুরুষের তাড়না৷ এই পেডোফিলরা সাধারণত সেইসব কিশোরীদের পছন্দ করে যাদের ঋতুস্রাব বা মাসিক শুরু হয়নি৷ তাহলে নাবালিকা মেয়েদের বাঁচানোর উপায় কী? একটি উপায় হচ্ছে, নাবালিকাদের ধীরে ধীরে এবং সতর্কতার সঙ্গে এই ধরনের বিপদ সম্পর্কে সচেতন করে তোলা৷ কোন অপরিচিত লোকের কথায় সাড়া না দেওয়া এবং সঙ্গে সঙ্গে বাড়ির লোকেদের তা জানানো৷ তবে তার সঙ্গে সঙ্গে ছেলে শিশুকেও সচেতন করতে হবে, সচেতন হতে হবে সমাজকেও৷

বন্ধু, এ বিষয়ে আপনার কিছু বলার থাকলে লিখুন নীচের ঘরে৷

 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়