1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

ধর্মের মুখোশের আড়ালে অপরাধী

এক বছর আগে ‘ইসলামিক স্টেট' ইরাকের উত্তরে ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের উপর হামলা চালিয়েছিল৷নারীদের ব্যাপক মর্যাদাহানি ঘটেছিল৷ ডয়চে ভেলের ক্যার্স্টেন ক্নিপ মনে করেন, এর মাধ্যমে আইএস-এর নৈরাশ্যবাদী পুরুষতান্ত্রিক চরিত্র ফুটে ওঠে৷

অপরাধের সপক্ষে যুক্তিগুলি নানা মন্তব্যের মধ্যে প্রকাশ পায়৷ বছর খানেক আগে আইএস ইরাকের উত্তরে ইরাকের উত্তরে ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের ভিটেমাটির উপর হামলা চালিয়েছিল৷ প্রাক-ইসলামি যুগের এই ধর্মীয় সম্প্রদায়ের পুরুষদের হাজারে-হাজারে হত্যা করে তারা৷ নারীদের অপহরণ, বিক্রি, ধর্ষণ ও আবার বিক্রি করা হয়েছে৷ কিছু ইয়াজিদি পুরুষকে মৃত্যুর বদলে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল৷ অনেকেই বাধ্য হয়ে সেই সুযোগ গ্রহণ করেছে৷ ইন্টারনেটে গণ ধর্মান্তকরণের ছবি প্রকাশিত হয়েছে৷ ভয়ার্ত কণ্ঠে তারা বলেছে, ‘‘অন্ধকারে ছিলাম, এবার আলোকিত জীবন পেলাম৷''

‘‘আমরা এখন আলোকিত জীবন পেয়েছি'' – জিহাদিদের বিশ্বাসের ভিত্তি এই বাক্যের মাধ্যমে প্রকাশ পায়৷ বিশেষ করে ইয়াজিদিদের নিপীড়নের ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে, যে যারা ‘আলোকিত জীবন'-এর মধ্যে রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে কার্যত সবকিছুর অনুমতি রয়েছে৷

পবিত্র কোরান সেই মাত্রা পর্যন্ত বিকৃত করা হয়, যতক্ষণ না জিহাদিদের কার্যকলাপের অনুমোদন পাওয়া যায় – চুরি, ডাকাতি থেকে শুরু করে ধর্ষণ ও হত্যার মতো অপরাধও সেই তালিকায় রয়েছে৷

‘‘আমরাই তোমাদের ঈশ্বর''

অত্যাচারীদের হাত থেকে পালিয়ে আসা এক ইয়াজিদি নারী বলেন, ‘‘ওরা আমাদের সঙ্গে কী না করেছে!'' এর বেশি তাঁর পক্ষে বলা সম্ভব হয়নি৷ কিন্তু বিভিন্ন ভিডিও থেকে ইয়াজিদি নারীদের মর্মান্তিক দশা বোঝা যায়৷ এমনকি সাত-আট বছরের বালিকাদের ৩০-৪০ বছরের লোকেদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে৷ যে সব নারীরা ধর্ষণে বাধা দিয়েছে, তাদের হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে৷ অনেকে নিজেদের কামনা-বাসনা মিটিয়ে নারীদের বিক্রি করে দিয়েছে৷ কয়েকজন ইয়াজিদি নারী জানিয়েছেন, তাঁদের ২০ বারেরও বেশি বিক্রি করা হয়েছে৷ অনেকে নিজেদের ধর্মকে আঁকড়ে ধরে কিছুটা শান্তি পাবার চেষ্টা করেছেন৷ ‘মালিক'-রা তাদের অবজ্ঞা করে বলেছে, ‘‘তোমাদের ধর্ম ভুলে যাও৷ আমরাই তোমাদের ঈশ্বর৷''

‘‘আমরাই তোমাদের ঈশ্বর'' – এই বাক্যটি ভালো করে ভেবে দেখা উচিত৷ জিহাদিরা কীভাবে নিজেদের হাতে মাত্রাহীন ক্ষমতা সঁপে দিয়েছে,

Knipp Kersten Kommentarbild App

ক্যার্স্টেন ক্নিপ, ডয়চে ভেলে

এর চেয়ে স্পষ্ট ও নিষ্ঠুরভাবে তা বোঝানো সম্ভব নয়৷ এই বাক্য অপরাধীদের আর কোনো সীমারেখা রাখেনি৷ জিহাদিরা মুখে যাই বলুক, আসলে তারা কোনো ঈশ্বরকে মানে না – তারা নিজেরাই ঈশ্বরের ভূমিকায় অভিনয় করছে৷ আইএস আসলে রন্ধ্রে রন্ধ্রে নাস্তিকদের এক আন্দোলন৷ আধুনিক যুগে এমন ‘সিনিকাল' বা নৈরাশ্যবাদী প্রবণতার সহজে তুলনা মেলে না৷ জার্মানিতে এমন এক নিপীড়নকারীকে হাড়ে হাড়ে চেনা যায়৷ সে ৭৫ বছর আগে কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে তার কাজ চালিয়েছে৷ যারা তার নিপীড়নের শিকার হয়েছে, তাদের দুর্দশা দেশে সেও বড় তৃপ্তি পেত৷ সেই সব মানুষও তাদের নিপীড়নকারীদের যে বর্ণনা দিয়েছেন, তার সঙ্গে ইয়াজিদিদের বর্ণনার আশ্চর্য মিল পাওয়া যায়৷

সুযোগ পেলে কঠিন অপরাধ

আইএস এক আন্তর্জাতিক সংগঠন৷ সদস্যরা একাধিক দেশ থেকে এসেছে৷ শিল্পোন্নত থেকে শুরু করে কৃষিভিত্তিক অনুন্নত দেশও তার মধ্যে রয়েছে৷ কেউ এসেছে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা থেকে, কেউ বা স্বৈরতন্ত্র থেকে৷ মোটকথা অপরাধীদের পরিচয় একেবারই এক নয়৷ তাদের কোনো একটি ছাঁচে ফেলা কঠিন৷ বিশেষ করে যাঁরা বলেন, যে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক স্বীকৃতির অভাব থেকেই জিহাদি জীবন শুরু হয়, তাদের যুক্তি আর ধোপে টিকছে না৷ তার বদলে অন্য এক অনুমান আরও যুক্তিগ্রাহ্য মনে হচ্ছে৷ অনেক তরুণ মারাত্মক অপরাধী হয়ে উঠছে, কারণ তারা এই সুযোগ পাচ্ছে৷

কথা বলে, ‘সুযোগ পেলে মানুষ চোর হয়ে ওঠে'৷ দেখা যাচ্ছে, শুধু চোর নয় – সুযোগ পেলে মানুষ হত্যাকারী, ধর্ষণকারী, নিপীড়নকারীও হয়ে উঠতে পারে৷ তারা অপরাধী হয়ে উঠছে, কারণ ধর্মের মোড়কে তাদের ভয়ংকর অপরাধ ঢেকে ফেলা হচ্ছে৷ আইএস তাই শুধু এক সামরিক নয়, আদর্শগত চ্যালেঞ্জও বটে৷ এই অবস্থায় সুন্নি ধর্মীয় নেতাদের কাঁধে বিশেষ দায়িত্ব এসে পড়ছে৷ তাঁদের আইএস-এর ঈশ্বরহীন কেন্দ্রবিন্দুকে দূর করতে হবে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়