1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়াতে পারে এমন ছবি ঘুরছে ফেসবুকে

বাংলাদেশে ফেসবুকের ব্যবহার বাড়ছে৷ বিশ্বের আরো অনেক দেশের মতো এ দেশেও সামাজিক যোগাযোগের এ সাইটটি হয়ে উঠছে জীবনের অপরিহার্য অংশ৷ কিন্তু ফেসবুকে নজর রাখার ব্যাপারটি সরকার কি ঠিকভাবে করতে পারছে?

গত কয়েকদিন আগের ঘটনা৷ ‘ইসলাম বিষয়ক' এক পাতা থেকে একটি ছবি প্রকাশ করা হলো৷ ছবিটা এমন, একটি মেয়ে একটি পবিত্র ধর্মগ্রন্থের উপর পা দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে৷ শুধু তার পা দু'টো আর ধর্মগ্রন্থটি দেখা যাচ্ছে৷ ছবির ক্যাপশনে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এক মেয়ে এভাবে ধর্ম অবমাননা করছে৷

ছবিটি আমি পরীক্ষা করে দেখেছি৷ ছবিটা নকল৷ আর এমন ছবির উদ্দেশ্য যে সৎ নয়, তা বলাই বাহুল্য৷ ছবিটি সহিংসতা ছড়াতে পারে, সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণের একটা উপলক্ষ্য হতে পারে৷ তাই ফেসবুকে ছবিটি সম্পর্কে আমি রিপোর্ট করেছিলাম তাদের প্রতিক্রিয়া দেখতে৷

ফেসবুক ছবিটি সরিয়ে নেয়নি৷ প্রতিষ্ঠানটি মনে করে না, এটা ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়াতে পারে, যা বাংলাদেশের মতো দেশে সংখ্যালঘুদের উপর হামলার কারণ হতে পারে৷ আমার মনে হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে এত কিছু বোঝা সম্ভব নয়৷ কিংবা বাংলাদেশের এরকম ইস্যু তাদের কাছে তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়৷ এমনটা মনে হওয়ার কারণ আছে৷ জার্মানি কিছু দিন আগেই ফেসবুককে একহাত নিয়েছিল৷

কেননা, যেসব বিষয় জার্মান সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করতে পারে, যা নিয়ে কথা বলা, যার পক্ষ নেয়া জার্মানিতে নিষিদ্ধ, সেসব বিষয়ের প্রতি ফেসবুকের উদাসীনতা ছিল৷ মানুষ রিপোর্ট করলেও ফেসবুকের সাড়া ছিল দায়সারা গোছের৷

জার্মান সরকারের সঙ্গে আলোচনার পর ফেসবুক আরো সক্রিয় হয়েছে৷ তাদের মডারেটরের সংখ্যা বাড়িয়েছে৷ সম্প্রতি ভারত সরকারও ফেসবুকের সঙ্গে সম্পর্কটা ঝালিয়ে নিয়েছে৷ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ফেসবুক পরিদর্শন থেকে সেটা পরিষ্কার৷

বাংলাদেশের সঙ্গে ফেসবুকের সম্পর্কটা স্বচ্ছ নয়৷ বাংলাদেশের টেলযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (বিটিআরসি) কি সামাজিক যোগাযোগের এই সাইটটির সঙ্গে কোনোরকম সরাসরি যোগাযোগ রাখছে? সরকারের সঙ্গে সম্পর্কটা কেমন? এ সব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া কঠিন৷ ডয়চে ভেলের ঢাকা প্রতিনিধি হারুন উর রশীদ কিছুদিন আগে বিটিআরসি-র সঙ্গে এসব নিয়ে যোগাযোগ করতে চেয়েছিলেন৷ কিন্তু সাড়া মেলেনি৷

এক ব্লগার, যিনি ২০১৩ সালে জেলে গিয়েছিলেন লেখালেখির কারণে, আমাকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ পুলিশের ফেসবুক পর্যবেক্ষণের বিষয়টি অনেকটা মানুষের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য নির্ভর৷

DW Bengali Arafatul Islam

আরাফাতুল ইসলাম, ডয়চে ভেলে

কেউ হয়ত প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কিছু লিখলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচিতরা বা শত্রুরা তা পুলিশকে জানালে, পুলিশ পদক্ষেপ নেয়৷ আর এভাবেই ‘৫৭ ধারার' আওতায় গ্রেপ্তার হয়েছেন অনেক মানুষ৷ কিন্তু প্রকৃত নজরদারি, পর্যবেক্ষণ বলতে যা বোঝায়, তা সম্ভবত নেই৷ থাকলে যে ছবি নিয়ে আমি ফেসবুকে রিপোর্ট করেছি, সে ছবি সরিয়ে নিতে সরকারের, পুলিশের উদ্যোগী হওয়ার কথা৷ অন্তত তারা যদি সংখ্যালঘুদের সত্যিকার অর্থেই নিরাপদ রাখতে চান৷

বাংলাদেশে বর্তমানে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা সংখ্যা ৯১ লাখ৷ এত বিশাল জনগোষ্ঠী যেখানে আছে, সেখানে নজর রাখার ব্যাপার আছে৷ তবে সেই নজরদারি করতে হবে কৌশলে, বুদ্ধি খাটিয়ে এবং অবশ্যই ফেসবুকের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে৷ এর-ওর কাছ থেকে শুনে গ্রেপ্তার কোনো সমাধান নয়৷

আপনি কি আরাফাতুল ইসলামের সঙ্গে একমত? জানান নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়