1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

দ্রুত বিচার আইনের মেয়াদ বাড়ানোর সমালোচনা

বহুল আলোচিত দ্রুত বিচার আইনের মেয়াদ আরো ৫ বছর বাড়ানোর সমালোচনা করেছেন মানবাধিকার নেতারা৷ তাঁরা বলছেন, আইনটি বরাবরের মতো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার জন্যই মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে৷

default

‘‘সব সময়ই দেখা গেছে যারা ক্ষমতায় থাকেন তারা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করার জন্য এই আইনটি ব্যবহার করেন’’

বিশেষজ্ঞরা বলেন, আইনটি যে ভালো নয় তা সব আমলের সরকারই জানে৷ ভালো হলে আইনটি স্থায়ী হত, মেয়াদ ভিত্তিক হত না৷

‘আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন'-এর মেয়াদ আরো ৫ বছর বাড়ানো হয় গত বৃহস্পতিবার৷ আইনটি আরো ৫ বছরের জন্য সংসদে কণ্ঠভোটে পাস হয়৷ এর আগে গত ৩০ মার্চ বিলটি সংসদে তোলা হয়৷ তখন বিলটি দুই দিনের মধ্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়৷ কমিটি মঙ্গলবার সংসদে বিলটির ওপর প্রতিবেদন দেয়৷

ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও ত্রাস সৃষ্টির অপরাধগুলো কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা, এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিতকরণ এবং আইনের তদন্তাধীন ও বিচারাধীন ১ হাজার ৭০৩টি মামলা নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আইনটির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে৷

Bangladesch Parlament Gebäude in Dhaka Nachtaufnahme

সংসদে কণ্ঠভোটের মাধ্যমে দ্রুত বিচার আইনের মেয়াদ বাড়ানো হয়

কিন্তু মানবাধিকার নেত্রী এ্যাডভোকেট এলিনা খান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আইনটি ২০০২ সালে বিএনপির আমলে করাই হয়েছিল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করতে৷ আওয়ামী লীগ তখন এই আইনের বিরোধিতা করলেও পরে তারা কয়েক দফা এই আইনের মেয়াদ বাড়িয়েছে৷'' তিনি বলেন, ‘‘যেসব অপরাধের কথা এই আইনে বলা হয়েছে প্রচলিত আইনেই সেসব অপরাধের বিচারের বিধান আছে৷ এই আইনটি প্রয়োগ অনেকাংশেই পুলিশের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে৷ তাই সব সময়ই দেখা গেছে যারা ক্ষমতায় থাকেন তারা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করার জন্য এই আইনটি ব্যবহার করেন৷'' এবারও তার ব্যতিক্রম হবে বলে তিনি মনে করেন না৷

এ্যাডভোকেট এলিনা খান বলেন, ‘‘এটিই একমাত্র আইন যা স্থায়ী নয়৷ সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী মেয়াদ বাড়ায়৷ আইনটি সবার জন্য ভাল হলে এটাকে স্থায়ী আইন করা হত৷ এ থেকেই আইনটির মেয়াদ বাড়ানোর উদ্দেশ্য বোঝা যায়৷'' তিনি বলেন, ‘‘মানবাধিকার বিরোধী এই আইন বাতিল করা উচিত৷''

এদিকে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিচালক এবং মানবাধিকার নেতা নূর খান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এই আইনের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে ৫ বছর, সরকারের মেয়াদও ৫ বছর৷ এটা আমার কাছে কাকতালীয় মনে হয় না৷'' তিনি বলেন, ‘‘এই আইনটি মানবাধিকার লংঘনের ঘটনা আরো বাড়াবে৷ আর সরকার যেখানে বলছে আইন-শৃঙ্খলা তাদের নিয়ন্ত্রণে আছে সেখানে নতুন করে এই আইনের মেয়াদ বাড়ানোর ভালো কোনো উদ্দেশ্য আছে বলে আমার মনে হয় না৷''

বিএনপির শাসনামলে ২০০২ সালে দ্রুত বিচার আইনটি সংসদে পাস হয়৷ এরপর প্রত্যেক সরকারই মেয়াদ বাড়িয়ে নিয়েছে৷ এর আগে ২০১২ সালে ২ বছরের জন্য বাড়ানো হয়েছিল৷ সেই হিসাবে ৭ এপ্রিল আইনটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল৷ কিন্তু সংসদে বিল পাস হওয়ায় নতুন করে ৮ এপ্রিল থেকে সেটা কার্যকর হবে৷ ২০১৯ সালের ৭ এপ্রিল পর্যন্ত এর মেয়াদ থাকবে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়