1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ইউরোপ

দ্রুত কমছে পাখি, ইউরোপজুড়ে উদ্বেগ

জার্মানিসহ ইউরোপজুড়ে উদ্বেগজনক হারে পাখি কমছে৷ জার্মান সরকারের এক প্রতিবেদনে এর অন্যতম কারণ হিসাবে উঠে এসেছে দু'টি বিষয় – পাখির আবাসস্থল হারিয়ে যাওয়া এবং পোকামাকড় কমে যাওয়া৷

গত ৩০ বছরে জার্মানিসহ ইউরোপজুড়েই পাখির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে বলে ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়৷ জার্মান সরকার বলছে, গত শতকের ৯০ দশকের শেষের দিকে জার্মানিতে সব পাখি প্রজাতির এক তৃতীয়াংশের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে৷ বিশেষ করে কৃষি অঞ্চলের পাখিরা হুমকির মুখে৷ ইউরোপীয় ইউনিয়নজুড়ে কৃষিভূমিতে থাকা ৩০ কোটি প্রজনন উপযোগী পাখি ১৯৮০ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে উধাও হয়েছে৷

নির্দেশক প্রজাতি

১৯৯০ সাল থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে ল্যাপউইংস বা টিট্টির জাতীয় পাখির সংখ্যা কমেছে ৮০ শতাংশ৷ আর ১৯৯০ থেকে ২০১৫, অর্থাৎ ২৫ বছরে পার্ট্রিজ বা তিতির কমেছে ৮৪ শতাংশ৷

একই সময়ে উইনচ্যাট নামে ফ্যাকাশে গলার ছোট একটি পরিযায়ী পাখি ৬১ ভাগ এবং ইউরেশিয়ান স্কাইলার্ক বা ভরতপাখি কমেছে ৩৫ শতাংশ৷

জার্মান কনসারভেশন অর্গানাইজেশন এনএবিইউ-র পাখি সংরক্ষণ কর্মকর্তা লার্স লাচম্যান ডয়েচে ভেলেকে বলেন, স্কাইলার্কই এক সময় সর্বত্র দেখা যেত৷ কিন্তু এখন জার্মানির বহু এলাকায় দিনের যে কোনো সময়ে এই পাখির গান শোনা বেশ বিরলই হয়ে গেছে৷ 

পাখি আমাদেরকে বাস্তু চক্রের অন্য প্রাণীদের সম্পর্কে জানাতে পারে৷ একইসঙ্গে বাস্তু চক্রের সাধারণ স্বাস্থ্য সম্পর্কেও তথ্য দিতে পারে পাখি, কারণ অন্য পতঙ্গের তুলনায় পাখি গণনা করা সহজ৷

 ইউরোপীয় ইউনিয়নজুড়ে কৃষিভূমিতে থাকা ৩০ কোটি প্রজনন উপযোগী পাখি ১৯৮০ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে উধাও হয়েছে

ইউরোপীয় ইউনিয়নজুড়ে কৃষিভূমিতে থাকা ৩০ কোটি প্রজনন উপযোগী পাখি ১৯৮০ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে উধাও হয়েছে

আবাসস্থল ও পোকার বিলুপ্তি

এনএবিইউ-র তথ্য মতে, কৃষি ঘনীভূতকরণই পাখি কমে যাওয়ার মূল কারণ৷ বড় ও কার্যকরী মেশিনের মাধ্যমে বিশাল মাঠ এবং এক ফসলি চাষ সম্ভব হয়েছে, পাশাপাশি কীটনাশকের ব্যাপক ব্যবহার কীট ও পোকার মতো পাখি-খাদ্য এবং পাখির বাসা ও প্রজনন স্থান কমিয়েছে৷

কীটনাশক ও আগাছা নষ্টকারী উপকরণ ব্যবহারের ফলে কিছু কিছু প্রজাতির পোকার সংখ্যা ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে বলে জার্মান সরকার জানিয়েছে৷

কৃষির এক ফসলী চাষ ও কীটনাশকের ব্যবহার বিষয়ে যথেষ্ট পদক্ষেপ না নেয়ায় গ্রিন পার্টি জার্মান সরকারকে অভিযুক্ত করেছে৷ লাচম্যান বলেন, পাখিরা যাতে উপকৃত হয়, এমন পদ্ধতি ব্যবহারে কৃষকদের উৎসাহ দিয়ে কৃষি নীতির পরিবর্তন আনার বিষয়টি ইউরোপীয় ইউনিয়নের উপর নির্ভর করে৷

কৃষি ভূমির ১০ শতাংশ বাস্তুগত অগ্রাধিকারে রাখলে ইতিবাচক ফল আসতে পারে৷ তার মানে এটা নয় যে, সেখানে আপনি কিছু উৎপাদন করতে পারবেন না৷ বরং পরিবেশ উপযোগী পদ্ধতিতে তা করা যাবে৷ যেমন, ফল উৎপাদন করা যেতে পারে, যা পাখির জন্য ভালো৷

সমীক্ষা বলছে, এভাবে কৃষিক্ষেত্রে পাখি হ্রাসের ধারাকে পাল্টে দেয়া যেতে পারে৷

কৃষির শিল্প মডেলকে অরগ্যানিক কৃষির মাধ্যমে স্থলাভিষিক্ত করা-আরেকটা উপায় হতে পারে৷

বিলুপ্তপ্রায় পাখি প্রজাতির হ্রাসকে উল্টে দিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কনজার্ভেশন আইন সহায়তা করতে পারে৷ এনএবিইউ, বার্ডলাইফ ইউরোপসহ অন্যান্য পরিবেশবাদী সংস্থার পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২ লাখ ৬০ হাজার নাগরিক ২০২০ সালে নবায়ন হতে যাওয়া ইইউ-র সাধারণ কৃষি নীতির নতুন কাঠামোয় বাস্তুগত বৈচিত্র্যের সংযুক্তি চেয়েছে৷

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাখির অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ এটাই প্রথম নয়৷ যুক্তরাজ্যের সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনে দেখা যায়, পাফিন, কারলিউ, নাইটিঙ্গেল ব্যাপকহারে কমেছে৷ ১৯৭০ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সময়ে ৬৪ শতাংশ কারলিউ হ্রাস পেয়েছে৷ আর এ সবই হয়েছে আবাসস্থল হারিয়ে ফেলার ফলে৷

২০১৫ সালে দু'টি প্রতিবেদনে দেখা যায়, জার্মানি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাখি প্রজাতির প্রায় এক তৃতীয়াংশ হয়ত হুমকির মুখে বা বিলুপ্তির মুখে৷ ২০১৪ সালের অন্য এক সমীক্ষায় দেখা যায়, চড়াইপাখি এবং স্টারলিং বা শালিকের মতো প্রজাতির পাখি ইউরোপজুড়েই উদ্বেগজনক হারে কমছে৷

এসএন/এসিবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন