1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

দ্বীপ বাঁচাতে হলে উপকূল বাঁচাতে হয়

জার্মানির যে দ্বীপগুলি অভিজাত বলে নাম আছে – অর্থাৎ যেখানে বিশিষ্ট, বিত্তশালী মানুষজন ছুটি কাটাতে যান – তার মধ্যে স্যুল্ট অন্যতম৷ মুশকিল হলো, স্যুল্টের বালিয়াড়িগুলি বাতাসের ধাক্কায় ‘ঘুরে বেড়ায়' আর দ্বীপটা উধাও হতে থাকে!

স্যুল্ট দ্বীপ মানেই বালি উড়ছে৷ বাতাসে সেই বালি বয়ে গিয়ে স্তূপ হয়ে দাঁড়াচ্ছে৷ সেই বালির স্তূপে আগাছা গজাচ্ছে৷ বালির স্তূপ বাড়তে বাড়তে শেষে বালিয়াড়িতে পরিণত হয়৷ বাতাসের ঠেলায় সেই বালিয়াড়ি সরতে থাকে৷ একেই বলে শিফটিং স্যান্ড ডিউন্স বা ভ্রাম্যমাণ বালিয়াড়ি৷

এই ভ্রাম্যমাণ বালিয়াড়িগুলিই স্যুল্ট দ্বীপকে বাঁচিয়ে রেখেছিল শত শত বছর ধরে, বলেন কার্স্টেন রাইসে৷ তিনি বিজ্ঞানী, উপকূল বিশেষজ্ঞ এবং দ্বীপের বাসিন্দা৷ তারপর স্যুল্টবাসীরা উড়ন্ত বালির হাত থেকে নিজেদের বাড়িঘর  বাঁচানোর চেষ্টায় বালিয়াড়িগুলোকে পোক্ত করতে, বাঁধছাদ দিতে শুরু করে৷

আজ দ্বীপের হ্যোরনুম এলাকারত সৈকতে টন টন কংক্রিট দিয়ে স্থিতিশীল করা হয়েছে৷ দ্বীপের দক্ষিণ কোণে সাগরের ঢেউ তীর ভাঙছে৷ সেখানে কংক্রিটের তেকোণা চাঙড় ফেলে তা রোখার চেষ্টা করা হয়েছে৷ আলফ্রেড ভেগেনার ইনস্টিটিউটের উপকূল বিশেষজ্ঞ কার্স্টেন রাইসে শোনালেন, ‘‘দ্বীপের একেবারে দক্ষিণে হ্যোরনুম৷ বসতিটিকে বাঁচানোর জন্য এ ধরনের কংক্রিটের ব্লক ফেলার কথা ভাবা হয়েছিল৷ তাতে সত্যিই কিছু কাজ হয়েছে৷ কংক্রিটের চাঙড়গুলো কিছু পরিমাণ বালি ধরে রাখতে পেরেছে৷ কিন্তু আরো দক্ষিণে, যেখানে সেই বালি উড়ে যাবার কথা ছিল, সেখানে বালি কম পড়েছে৷ এখানে কংক্রিটের চাঙড়গুলো ফেলার পর থেকে স্যুল্ট দ্বীপের ডগার দিকটা ক্রমেই পাতলা হয়ে এসেছে৷''

১৯৭০ সালে দ্বীপের দক্ষিণ কোণাটা এরকম দেখতে ছিল৷ সে-যাবৎ কমে চলেছে ও সম্ভবত আরো কমবে৷ সাগর কি স্যুল্ট দ্বীপকে গিলে ফেলবে? স্যুল্ট-এ বহুদিন ধরে ‘ডাইক' বা লম্বা বাঁধ দেওয়া হচ্ছে৷ মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য যে বাঁধ তৈরি করা হয়েছিল, সাগরের জল সেখানে বাধা পেয়ে দ্বীপের কিছু কিছু অংশ ভাসিয়েছে৷ নয়তো এই ‘ডাইক' স্যুল্টকে সাগরের বান থেকেও বাঁচিয়েছে৷ কিন্তু সাগরের পানির উচ্চতা বাড়ছে ও ভবিষ্যতে আরো দ্রুত হারে বাড়বে৷ রাইসে জানালেন, ‘‘বিগত সব শতাব্দীতে সাগরের পানির উচ্চতা বেড়েছে প্রতি ১০০ বছরে বড়জোর দশ সেন্টিমিটার৷ এখন সেই বৃদ্ধির হার দাঁড়াতে চলেছে এক মিটার, যা কিনা একটা সম্পূর্ণ নতুন মাত্রা৷ সাগরের পানির উচ্চতা মোকাবিলার জন্য এই বাঁধগুলির সৃষ্টি হয়নি, হয়েছিল ঝড়বাদলে সাগরের বান আটকানোর জন্য৷ কাজেই আমাদের ভবিষ্যতে অন্য পন্থা দেখতে হবে৷''

উপকূলরক্ষায় উপকূল সংলগ্ন সাগরের একটা বড় ভূমিকা আছে৷ বিজ্ঞানীরা ভাডেন সি-র মাডফ্ল্যাট বা কাদার চরের ওপর নজর রাখছেন, দেখছেন, জোয়ার-ভাটায় কীভাবে বালি আর কাদার পলি পড়ে৷ আলফ্রেড ভেগেনার ইনস্টিটিউটের স্ভেনিয়া পাপেনমায়ার ও রুনে মিশায়েলিস একো সাউন্ডিং ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি নিয়ে সমুদ্রবক্ষ অনুসন্ধান করছেন৷ সেখানকার পলি থেকে অনেক কিছু জানা যায়৷ স্ভেনিয়া বললেন, ‘‘যা এখানে ঘটছে, তা হলো এই যে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের তীব্রতা বাড়ছে, আরো ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড় হচ্ছে, ঝড়ও চলছে বেশি সময় ধরে৷ স্বভাবতই পানির নীচের পলির ওপর তার প্রভাব পড়বে, যা শেষমেষ উপকূলের ওপরে প্রভাব ফেলবে৷''

সেই প্রভাবের আন্দাজ পাবার জন্য বিজ্ঞানীরা নিয়মিত সাগরবক্ষের পলির নমুনা সংগ্রহ করে চলেছেন৷

মাবেল গুন্ডলাখ/এসি

দেবারতি গুহ

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়