1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ: মে মাসের একটি দিন

৮ই মে ১৯৪৫: জার্মানির পক্ষে পরাজয়ের দিন, না মুক্তির দিন? লজ্জা আর ধিক্কার, নাকি একটা নতুন সুযোগ? যাকে বলে ‘শূন্য থেকে শুরু'? সত্তর বছর ধরে তা নিয়ে ভাবনা-চিন্তা করছেন জার্মানরা৷

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ যখন অবশেষে শেষ হলো, তখন উল্লাস কিংবা আনন্দের পরিবর্তে একটা ‘‘অসাড় গোছের স্বস্তি'' পড়ে ছিল, লিখেছেন ইতিহাসবিদ গের্হার্ড ব্রুন৷ স্মৃতি একটি ব্যক্তিগত ব্যাপার, কাজেই যে জার্মান সৈন্য সোভিয়েত সৈন্যদের হাতে বন্দি হয়েছেন, আর একজন সাধারণ জার্মান নাগরিক যুদ্ধশেষের স্মৃতি ভিন্ন হবে বৈকি৷ পূর্ব প্রাশিয়া থেকে বিতাড়িত জার্মানদের স্মৃতি, আর অ্যামেরিকায় নির্বাসনরত জার্মানদের স্মৃতির মধ্যে ফারাক থাকবে বৈকি – বিশেষত ১৯৪৫ সালের ৮ই মের প্রেক্ষিতে৷ আর আউশভিৎস-এর মতো বন্দিশিবির থেকে যাঁরা প্রাণে বেঁচেছেন, তাঁদের কথা না তোলাই ভালো৷

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ যেদিন শেষ হয়, সেই দিনটার নানান নাম আছে৷ সাবেক পশ্চিম জার্মানিতে এর অর্থ করা হয়েছিল ‘‘স্টুন্ডে নুল'', বা ‘শূন্য থেকে শুরু'-র মুহূর্ত৷ যুদ্ধপরবর্তী বছরগুলিতে দুই জার্মানির মানুষরাই ভাবতেন, যুদ্ধের সময় তাঁদের যে দুঃখকষ্ট সহ্য করতে হয়েছে, তার কথা – জার্মানরা যে যুদ্ধ চালিয়েছে, তার কথা নয়৷ এই আমলেই জার্মানদের সব অপরাধ হিটলার ও নাৎসিদের ওপর চাপানোর প্রবণতা উভয় জার্মানিতেই সূচিত হয়৷

DDR 8. Mai Feier zum Kriegsende in Ost-Berlin

১৯৫৫ সালে পূর্ব জার্মানিতে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বিজয় উদযাপনের মুহূর্ত

একদিকে হিটলার ও তার নাৎসি সাঙ্গপাঙ্গরা – অন্যদিকে সহজ সরল সাধারণ জার্মান, যে কিছুই জানতো না এবং যার কোনোই দোষ নেই৷ দশকের পর দশক ধরে পুব এবং পশ্চিমের জার্মানরা বুঝতে পারেননি – অথবা বুঝতে চাননি – ১৯৪৫ সালের ৮ই মে অবধি কী ঘটেছে, এবং সেজন্য তাদের নিজেদের দায়িত্বই বা কত৷ আজ জার্মানরা যে ‘‘সফলভাবে অতীতের মোকাবিলা'' করতে পারার জন্য সারা দুনিয়ায় প্রশংসিত, সেটা এসেছে তার অনেক পরে৷

জার্মানির বিভাজন নিয়ে দুঃখ ও রোষ

৮ই মে নিয়ে যুদ্ধপরবর্তী প্রথম দুই দশকে সাবেক পশ্চিম জার্মানির সরকারি কর্মকাণ্ডে বিশেষ কেউ কোনো উচ্চবাচ্য করেননি৷ সেই যুদ্ধের যাঁরা শিকার হয়েছেন, তাঁদের কথা না ভেবে, জার্মানরা ব্যস্ত ছিলেন জার্মানির বিভাজন নিয়ে৷ সরকারি স্মারক অনুষ্ঠান জোর দেওয়া হয়েছিল ১৯৪৪ সালের ২০শে জুলাই এবং ১৯৫৩ সালের ১৭ই জুনের উপর: প্রথমটি যেদিন ক্লাউস ফন স্টাউফেনবার্গ হিটলারকে মারার চেষ্টা করেন; দ্বিতীয়টি যেদিন সাবেক পূর্ব জার্মানির মানুষ কমিউনিস্ট শাসকবর্গের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান৷

Infografik Todesopfer Zweiter Weltkrieg Englisch

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঝরেছিল অনেক প্রাণ

অপ্রতিসম চিন্তাধারা

পূর্ব জার্মানিতে কিন্তু যুদ্ধাবসান সম্পর্কে সরকারি – এবং আনুষ্ঠানিক ক্রিয়াকর্ম অনেক আগে থেকেই শুরু হয়েছে৷ সেখানে গোড়া থেকেই ৮ই মে তারিখটিকে একটি সরকারি ছুটির দিন বলে ঘোষণা করা হয়েছে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সোভিয়েত সেনাবাহিনীর বিজয়দিবস হিসেবে৷ ১৯৮৯ সালে বার্লিন প্রাকারের পতন অবধি পূর্ব জার্মানির ৮ই মে উদযাপন ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রকাশ্য নিদর্শন – এবং জিডিআর যে বিজয়ীদের মধ্যে পড়ে, তার প্রমাণ৷ যার ফলে জার্মানির অতীত সম্পর্কে পূর্ব জার্মানিতে বিতর্ক কিংবা চিন্তাভাবনার কোনো প্রশ্নই ছিল না৷

ওয়ারশতে নতজানু হলেন ভিলি ব্রান্ড

সাবেক পশ্চিম জার্মানিতে ৮ই মের তাৎপর্য ক্রমেই বদলে গেছে৷ ১৯৬৮ সালেও সিএসইউ দলের প্রভাবশালী নেতা ফ্রানৎস-ইওজেফ স্ট্রাউস বলেছিলেন: ‘‘যে জাতি এই পরিমাণ অর্থনৈতিক সাফল্য দেখিয়েছে, তাদের আর আউশভিৎস-এর কথা না শোনার অধিকার আছে৷''

অতীতকে চেনার অপর প্রান্তে পাওয়া যাবে ভিলি ব্রান্ডকে, যিনি ১৯৭০ সালের ৭ই ডিসেম্বর ওয়ারশ ঘেটোর স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ প্রদান করার সময় নতজানু হয়ে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন সূচিত করেন৷ তৎকালীন চ্যান্সেলর-এর এই প্রতীকী আচরণ আজও ‘‘জার্মানির অপরাধ স্বীকারের প্রথম আন্তরিক নজির'' বলে গণ্য করা হয়, বলেছেন ইতিহাসবিদ পেটার হুরেলমান৷

সত্তরের দশক থেকেই জার্মানরা ৮ই মে সম্পর্কে ভিন্নভাবে ভাবতে শেখেন৷ ১৯৭৫ সালে যুদ্ধাবসানের ৩০তম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে জার্মান প্রেসিডেন্ট ভাল্টার শেল মুক্তভাবে জার্মানির অপরাধের কথা স্বীকার করেন এবং বলেন: ১৯৩৩ থেকে ১৯৪৫ সাল অবধি যা কিছু ঘটেছে, তা একটি গোটা প্রজন্মের ব্যর্থতার পরিচয় বহন করছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়