1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি – স্মৃতিচারণার দিন

৭০ বছর আগে ইউরোপে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়েছিল৷ সেই ধ্বংসাবশেষ থেকে জার্মানি কীভাবে আজকের অবস্থায় পৌঁছেছে, সেই বিবর্তন প্রক্রিয়ার বিশ্লেষণ করে তার দিকে ফিরে তাকাচ্ছে ডয়চে ভেলে৷

১৯৪৫ সালের ৮ই মে৷ ইউরোপে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়েছে৷ প্রায় সাড়ে ৬ কোটি মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে৷ জার্মানির মানুষ পরাজয়ের গ্লানি অনুভব করছে, যদিও অনেকে প্রায় ৬ বছরের যুদ্ধে বাবা, ভাই ও ছেলের মৃত্যুর পর যুদ্ধের সমাপ্তির ফলে হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছে৷ বছরের পর বছর ধরে বোমাবর্ষণ বন্ধ হওয়ায় ধ্বংসস্তূপের মধ্যে শহরবাসীরা আবার বুকভরা নিঃশ্বাস নিতে পেরেছে৷ তবে জার্মানির বেশিরভাগ মানুষের কাছে সেটা ছিল পরাজয়ের দিন৷ বিশেষ করে সৈন্যদের জন্য, যারা বন্দিশিবিরে বসে নিজেদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জানার অপেক্ষায় ছিল৷ কিছু সৈন্য দ্রুত মুক্তি পেয়েছিল৷ অন্যদের প্রায় ১০ বছর পর্যন্ত সোভিয়েত বন্দি শিবিরে পাঠানো হয়৷ মিত্রশক্তি, অর্থাৎ সোভিয়েত ইউনিয়ন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, ব্রিটেন, পোল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, ক্যানাডা ও বেলজিয়ামের কাছে ৮ই মে শর্তহীন আত্মসমর্পণের দিন, জয়ের দিন৷ যারা ‘তৃতীয় রাইশ'-এর নিপীড়নের শিকার হয়েছিল, তাদের কাছেও দিনটির বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে৷ ইহুদি, সমকামী, সিন্টি ও রোমা জনগোষ্ঠী, কমিউনিস্ট, সামাজিক গণতন্ত্রী, উদারপন্থি, খোলামেলা ও গোপন হিটলার-বিরোধীদের জন্য সেটা ছিল মুক্তি দিবস৷

Kudascheff Alexander Kommentarbild App

ডয়চে ভেলের প্রধান সম্পাদক আলেক্সান্ডার কুডাশেফ

মনোভাবের আমূল পরিবর্তন

১৯৮৫ সালের ৮ই মে৷ রিশার্ড ফন ভাইৎসেকার প্রকাশ্যে এমন কথা বললেন, যা অনেকেই অনুভব করেছেন অথবা জানতেন৷ এর আগে কোনো জার্মান প্রেসিডেন্টের মুখে এমন কথা শোনা যায়নি৷ তিনি বলেন, ৮ই মে ছিল পরাজয়ের দিন৷ কিন্তু বাস্তবে দিনটি ছিল মুক্তির দিবস৷ নাৎসি স্বৈরাচারী, আডলফ হিটলারের কবল থেকে জার্মানরা মুক্তি পেয়েছিল৷ তারা সেটা চেয়েছিল কিনা, সেটা অন্য প্রশ্ন৷ ইহুদি-নিধনের আতঙ্ক থেকে তারা মুক্তি পেয়েছিল৷ ভয় থেকে মুক্তি পেয়েছিল৷ যুদ্ধের সমাপ্তি হত্যালীলাও বন্ধ করেছিল – যুদ্ধক্ষেত্রে এবং কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে৷ জার্মানি পরাজিত হয়েছিল বটে, কিন্তু হিটলারকে ঘিরে বর্বরতা ও দুঃস্বপ্ন কাটিয়ে কয়েক বছর পরেই আবার মুক্তি ও গণতন্ত্রের জীবনযাত্রার দিকে এগিয়ে যাবার সুযোগ পেয়েছিল৷ কমপক্ষে পশ্চিমে তা সম্ভব হয়েছিল৷ কারণ পূবে কমিউনিস্ট রাষ্ট্র – জিডিআর-এর পত্তন ঘটে৷ তারা ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের সমাজতান্ত্রিক ‘ভ্রাতৃরাষ্ট্র'৷ গণতান্ত্রিক অধিকার ও মুক্তির সুযোগ সেখানে ছিল না৷ ১৯৯০ সালে আবার দুই জার্মান রাষ্ট্রের একত্রীকরণের পর সেখানকার মানুষ গণতন্ত্রের স্বাদ পায়৷

Bundeskanzleramt Symbolbild

বার্লিনে চ্যান্সেলরের দপ্তর: গোটা বিশ্বে আত্মসচেতনতার বার্তা পাঠাচ্ছে

নতুন আত্মসচেতনতা

৮ই মে ২০১৫৷ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ৭০ বছর কেটে গেছে৷ আজ পুনরেকত্রিত জার্মানি বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানিত রাষ্ট্রগুলির অন্যতম৷ একদিকে গণতন্ত্র, অন্যদিকে সমাজকল্যাণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা৷ আবার একই সঙ্গে বিপুল অর্থনৈতিক সাফল্য৷ সামাজিক মডেল হিসেবে গোটা বিশ্বে যা আকর্ষণীয়৷ জার্মানি এটাও বুঝতে শিখেছে, যে গত এক দশক ধরে সবাই তাদের উপর লক্ষ্য রাখছে; তার গুরুত্ব বাড়ছে; ইউরোপে তার নেতৃত্বের ভূমিকা ও গোটা বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের প্রত্যাশাও বাড়ছে৷ তবে সামরিক ক্ষেত্রে ততটা নয়, যদিও তারও গুরুত্ব রয়েছে৷ মূলত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেই জার্মানির বিশেষ অবস্থান আশা করা হচ্ছে৷ জার্মানি মোটেই পরাশক্তি হিসেবে নিজেকে তুলে ধরে না৷ তবে দেশ হিসেবে জার্মানির আত্মসচেতনতা বাড়ছে৷ এবং তার জন্য যে সমালোচনা শুনতে হচ্ছে, তা ঐকমত্যে অভ্যস্ত জার্মানদের জন্য বেশ কষ্টকর অভিজ্ঞতা৷ তবে তাদের এমন অবস্থা মেনে নিতে শিখতে হবে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়