1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

দোষ সামাজিক মাধ্যমের, নাকি আমাদের?

প্রশ্নটা দেওয়ান সুমনের৷ তবে তিনি মনে করেন, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে মানুষ যে অসামাজিক হয়ে উঠছে, তার জন্য আসলে দায়ী ব্যবহারকারীরা নিজেরাই৷ এর জন্য মাধ্যমগুলো দায়ী নয়৷

সামহয়্যার ইন ব্লগে লেখা একটি পোস্টে তিনি বলেন, ‘‘...প্রত্যক ক্রিয়ার যেমন প্রতিক্রিয়া আছে, ভালোর বিপরীতে যেমন খারাপ আছে, ঠিক তেমনি সামাজিক যোগাযাগের মাধ্যমেরও নেগেটিভ দিক রয়েছে৷ ফেসবুক আসক্তির কারণে আমরা নিজেদের গা বাঁচিয়ে বলে থাকি সামাজিক যোগাযাগ মাধ্যম অসামাজিক করে তুলছে৷ অথচ আমরা একটু সচেতন হলেই সামাজিক যোগাযাগ মাধ্যমের ইতিবাচক সুফল ভোগ করতে পারি৷''

একটি উদাহরণ তিনি বলেন, ‘‘...আপনার কাছে অঢেল টাকা রয়েছে আর এই টাকার যদি সঠিক ব্যবহার না করেন তাহলে অচিরেই আপনি ধ্বংস হয়ে যাবেন৷ সেজন্য আমরা যদি ধ্বংসের কারণ হিসেবে টাকার উপর দায়বার চাপিয়ে দেই তাহলে সেটা কতখানি নির্বুব্ধিতার পরিচয় তা আর বলার অপক্ষা রাখে না৷

ঠিক একইভাবে আমরা যদি ফেসবুক আসক্ত হয়ে নিজেদের অসামাজিক করে তুলি আর সামাজিক যোগাযাগ মাধ্যমকে দায়ী করি তাহলে সেটাও নির্বুব্ধিতার পরিচয় বৈকি৷''

তবে দেওয়ান সুমনের মতো বিষয়টা একইভাবে ভাবছেন না মোহাম্মদ জমির হায়দার বাবলা৷ একই ব্লগে তিনি লিখেছেন, ‘‘... আমরা যতই যান্ত্রিক জীবনযাপন করছি ততই আমাদের প্রিয় বন্ধনগুলো আস্তে আস্তে গৌন হয়ে উঠছে৷ আমরা অনেকে কর্মক্ষেত্রে থাকি কম্পিউটারের সাথে৷ বাসায় অবসরে থাকলে আমাদের পাশে থাকা প্রিয়জনদের সময় দেয়া তো দূরের কথা, আন্তরিকতার সাথে দুয়েকটা কথা পর্যন্ত বলি না৷ কারণ বাসার অবসরে আমাদের হাতে থাকে রিমোট, যা দিয়ে আমরা স্যাটেলাইট চ্যানেল পরিবর্তনে ব্যস্ত থাকি৷ আর এক সময় স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলো চরম বিরক্ত লাগলে কম্পিউটার নিয়ে বসি৷ এরপর শুরু হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপ্রয়োজনীয় টুইটারিং, ফেসবুকিং বা উদ্দেশ্যবিহীন নেট সার্ফিং৷...আমরা অনেকে শিক্ষামূলক সাইটের তুলনায় পর্নো সাইটগুলোতে বেশি ভিজিট করি৷ এতে আমাদের অনেকের চরিত্র যেমন চুলোয় যাচ্ছে তেমনি নৈতিকতা তলানিতে গিয়ে ঠেকছে৷ অনেকে সামাজিক সাইটে অসামাজিক সর্ম্পক গড়ে তোলে সর্গীয় সংসারকে নরকে পরিণত করছি৷''

এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে সুস্থ ব্লগিং প্রয়োজন বলে মনে করেন বাবলা৷ তিনি বলেন, ‘‘সুস্থ ব্লগ-এ একজন ব্লগার যতক্ষণ থাকেন ততক্ষণই তিনি হয় পাঠক, না হয় লেখক৷ অর্থাৎ পুরো সময়টাই তিনি পড়ে বা লিখে কাটান৷ একজন ব্লগার যখন সাইন-আউট করেন তখন তিনি একটি নতুন অনুভূতি নিয়ে উঠেন, যা মনকে যেমন সতেজ করে তেমনি দৃষ্টিভঙ্গিকে ইতিবাচক করে তোলে৷ এভাবে একজন সুস্থ ব্লগের ব্লগারের মধ্যে সৃষ্টি হয় মনুষ্যত্ববোধ, সহানুভূতি, পরমত সহমর্মিতা, আবেগ কিংবা শ্রদ্ধাবোধের মতো অমূল্য সব মানবিক গুণাবলী৷''

সংকলন: জাহিদুল হক

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়