1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

দোতলা পিয়ানো

পিয়ানোর সুরের মূর্ছনা কার না ভালো লাগে৷ কিন্তু পিয়ানোর মানেরও রকমফের রয়েছে৷ খুঁতখুঁতে সংগীতজ্ঞদের কানে সেই পার্থক্য ধরা পড়ে৷ জার্মানির এক পিয়ানো প্রস্তুতকারক মান উন্নয়নে নতুন মাত্রা স্পর্শ করছেন৷

একাধিক পুরনো পিয়ানো আর গ্র্যান্ড পিয়ানো রয়েছে মেরামতের অপেক্ষায়৷ ডাভিড ক্লাভিন্স-এর পিয়ানো তৈরির কারখানা দক্ষিণ-পশ্চিম জার্মানির স্টুটগার্ট শহরে, যেখানে তিনি সব সুপ্রাচীন পিয়ানো সারিয়ে থাকেন৷ এক্ষেত্রে তাঁর চিরকালই মনে হয়েছে, বাক্সর আকারের পিয়ানোয় আওয়াজটা ঠিকমতো ফুটে ওঠে না৷ ক্লাভিন্স সেটা বদলাতে চান৷ কাজেই তিনি আগামী যুগের পিয়ানো নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছেন৷ এমন এক পিয়ানো, যা তাঁর আগে কেউ তৈরি করেনি৷ তিনি বলেন, ‘‘আমার লক্ষ্য হল এমন একটা পিয়ানো বানানো, যার আওয়াজ বিশ্বের সেরা হবে৷ অবশ্য সেরা আওয়াজ যে কী, স্বভাবতই তা নিরপেক্ষভাবে স্থির করার কোনো পন্থা নেই৷ তবুও আমি নিজে সন্তুষ্ট হতে চাই; আমি নিজে যেন বলতে পারি যে, পিয়ানোর শব্দ বলতে যা বোঝায়, তা এর চেয়ে ভালো হওয়া সম্ভব নয়৷''

অতিকায় এবং খাড়া

পরিকল্পিত নতুন মডেল ৪৫০-র ব্লুপ্রিন্ট থেকে দেখা যাচ্ছে, সেটি হবে গির্জার অর্গানের মতো খাড়া, পিয়ানোর মতো শোয়া নয়৷ মডেলটি হবে দো'তলা উঁচু এবং ওজনে প্রায় ৮০০ কিলোগ্রাম৷ ক্লাভিন্স দেখালেন, ‘‘এই ছবিটায় রয়েছে সাড়ে চার মিটার উঁচু পিয়ানোটির মূল নকশা৷ পোডিয়ামটা মাটি থেকে প্রায় তিন মিটার উচ্চতায়৷ এটা হল একটা পিয়ানো বাজানোর টুল, যা থেকে বোঝা যায়, পিয়ানোবাদক ঠিক কোথায় বসবেন৷''

ট্যুবিঙেন বিশ্ববিদ্যালয়৷ ক্লাভিন্স-এর অতিকায় পিয়ানোর আগের মডেলটি এখানে রাখা আছে৷ ১৯৮৭ সালে প্রথমবার প্রদর্শিত হয়৷ তিন মিটার সত্তর সেন্টিমিটার উঁচু মডেল ৩৭০ আজও বিশ্বের সবচেয়ে বড় পিয়ানো – অবশ্য মডেল ৪৫০ শেষ হওয়া পর্যন্ত৷

এই পিয়ানোর তারগুলো সাধারণ পিয়ানোর চেয়ে তিনগুণ লম্বা, যার ফলে এই পিয়ানোর আওয়াজ আরো জোরদার৷ তবে মডেল ৪৫০-র আওয়াজ নাকি আরো ভরাট হবে৷ তিনি বলেন, ‘‘আমার মতে এটা সবচেয়ে নীচের ধৈবত৷ যদিও এটা খুবই ভালো এবং বিশ্বের যে কোনো পিয়ানোর ধৈবতের চেয়ে বেশি গম্ভীর, তবুও এটাকে আর ভালো করা যায়৷ ওপরের অক্টেভ-এর ধৈবত যেরকম, আমি ঠিক সেরকম করতে চাই৷''

প্রেরণা ও অনুপ্রেরণা

শিল্পীরা বহুবার এই পিয়ানোটিকে তাদের রেকর্ডিং-এর জন্য ব্যবহার করেছেন, যেমন আশির দশকের শেষে পোলিশ পিয়ানোবাদক স্লাভোমির কোভালিনস্কি৷ কয়েকজন শিল্পী এই পিয়ানোয় তাদের গোটা অ্যালবাম রেকর্ড করেছেন, যেমন টোমাস ডুইস, গ্যুলসিন ওনেই অথবা নিলস ফ্রাম৷ বার্লিনের সংগীত প্রযোজক নিলস ফ্রাম গতবছর চার রাত ধরে এই পিয়ানোটিতে বসে যা মনে এসেছে, তাই বাজিয়েছেন৷ যার ফলশ্রুতি হল ‘সোলো' নামধারী একটি অ্যালবাম, যা সদ্য প্রকাশিত হয়েছে৷

ক্ল্যাসিকাল মিউজিকের চিরাচরিত বাখ বা শোপ্যাঁ না বাজিয়ে, ফ্রাম ইলেকট্রনিক সাউন্ড সহযোগে পিয়ানো বাজাতে পছন্দ করেন৷ ডাভিড ক্লাভিন্স-এর মডেল ৩৭০ দেখেই প্রেমে পড়ে যান তিনি৷ ‘‘প্রথমবার দেখেই চমকে গিয়েছিলাম৷ পিয়ানোটা বিরাট বড়, অনেকটা জায়গা নিয়ে৷ সিঁড়ি দিয়ে পিয়ানোর উপর চড়তে হয়৷ এই ‘আরোহণ' একটা গুরুগম্ভীর, আনুষ্ঠানিক মুহূর্ত৷ আমার খুব ভালোভাবে মনে আছে, আমি কীভাবে প্রথমবার ঐ সিঁড়িতে চড়ি, টুলে বসি, পাঁচ সেকেন্ড দম নিই, তারপর বাজাতে শুরু করি৷ সে এক দারুণ অভিজ্ঞতা!''

ডাভিড ক্লাভিন্স যে আরো বড় একটা পিয়ানো বানাতে চান, নিলস ফ্রাম-এর সে আইডিয়াটা খুব ভালো লেগেছে৷ প্রকল্পে সাহায্য করার জন্য নিলস এ বছরের ২৯শে মার্চ ‘পিয়ানো ডে' উদযাপন করেন৷ ইন্টারনেটে মডেল ৪৫০ সম্পর্কে নানা তথ্য দেওয়া হয়, এছাড়া নিলস ফ্রাম-এর নতুন অ্যালবামটিও ডাউনলোড করা চলে৷ পরিবর্তে শ্রোতারা নতুন পিয়ানোটির জন্য দান করতে পারেন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়