1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

দেহের অঙ্গদানে পিছিয়ে জার্মানি

মানবদেহের অঙ্গদান করার বিষয়টি নতুন নয়৷ প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ তাদের দেহের বিভিন্ন অঙ্গদান করছেন৷ চোখ, হৃদযন্ত্র, কিডনি, ফুসফুস রয়েছে অঙ্গদানের তালিকার শীর্ষে৷ তবে সবচেয়ে বেশি দান করা হয় রক্ত৷

default

কেবলই বের করা হলো একজনের হৃদপিন্ড

জার্মানিতে প্রায় ১২ হাজার মানুষ অপেক্ষা করে আছে নতুন অঙ্গ গ্রহণের জন্য৷ কিন্তু প্রয়োজনীয় সেই অঙ্গটি পাওয়া যাচ্ছে না৷ জার্মানিতে ১৯৯৭ সাল থেকে অঙ্গদান বিষয়ে একটি আইন প্রণয়নের পরও আগ্রহী দাতার সংখ্যা কমে আসছে৷

সারা বিশ্বে প্রায় কয়েক হাজার মানুষ অপেক্ষা করে আছে তাদের প্রাণপ্রিয় জীবন বাঁচাতে একটি অঙ্গের জন্য৷ কেউ একজন অঙ্গদান করবে এবং সেই অঙ্গটি জুড়ে দেওয়া হবে রোগীর শরীরে, বেঁচে উঠবে রোগী৷

এ বছরের জুন মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়ন একটি প্রস্তাবের ব্যাপারে একমত হয়৷ সেই প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়, সারা ইউরোপে দেহের অঙ্গদানের বিষয়টিকে আরো বিস্তৃত করার জন্য৷ এই মুহূর্তে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সভাপতি দেশ স্পেন৷ স্পেন বেশ জোর দিচ্ছে এই প্রস্তাবটির ওপর৷ বলা প্রয়োজন, স্পেন অঙ্গদানে বিশ্বের শীর্ষে অবস্থান করছে৷ প্রতি এক লক্ষ মানুষের মধ্যে প্রায় ৩৪.৩ শতাংশ মানুষ তাদের দেহের কোন একটি অঙ্গ দান করেছেন/করেছে৷গত আঠার বছরের জরিপ তাই বলছে৷

Herz wird für Transplantation vorbereitet

এই হৃদপিন্ডটি আরেকজনের দেহে বসানোর জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে

অথচ ইউরোপের বাকি দেশগুলোতে এ সংখ্যার অর্ধেকেরও কম৷ জার্মানিতে প্রতি লক্ষে মাত্র ১৪.৭, রোমানিয়ায় ০.৫৷

উটে অপারের স্বপ্নভঙ্গ

জার্মানিতে প্রায় ১২ হাজার মানুষ অপেক্ষা করে আছে প্রয়োজনীয় অঙ্গ দানের অপেক্ষায়৷ অর্থাৎ অপেক্ষা করে আছে ১২ হাজার মুমূর্ষু রোগী৷ প্রয়োজনীয় অঙ্গ না পাওয়ার কষ্ট বোঝেন উটে অপার৷ ১৭ বছর আগে বিয়ের মাত্র চার সপ্তাহ আগে তিনি প্রচন্ডভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন৷ তাঁর জীবনের সব স্বপ্ন ভেঙ্গে যায়, যখন তাঁকে জানানো হয় তাঁর প্রয়োজন একটি নতুন হৃদযন্ত্রের৷ উটে জানান, ‘‘আমি ঠিকমত ঘুমাতে পারতাম না৷ আমি ঠিকমত নিঃশ্বাস নিতে পারতাম না৷ আমি হাঁটতে পারতাম না৷ আমার পায়ে পানি জমে গিয়েছিল, পা ফুলে গিয়েছিল৷ কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আমি মৃত্যুর কাছাকাছি চলে যাই৷ আমার ভীষণ খারাপ লাগত৷ আমি জানতাম বেঁচে থাকার একমাত্র উপায় হচ্ছে নতুন একটি হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপন৷''

উটে অপারের যে রোগ ধরা পড়েছিল তার নাম এন্ডোকারডাইটিস৷ বুকের মধ্যে জ্বালাপোড়া৷ বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন ছিল একটি হৃদযন্ত্রের৷ উটের ভাগ্য বেশ ভাল বলতে হবে কারণ মাত্র এক বছর অপেক্ষা করার পর একটি নতুন হৃদযন্ত্র সে পেয়েছিল৷

উটে আরো বললেন, ‘‘আমি প্রথমে ভেবেছিলাম যখন নতুন অঙ্গটি প্রতিস্থাপন করা হবে তখন আমি খুব নার্ভাস হয়ে পড়বো৷ কিন্তু এরপরই আমি ভাবি, আমি পাবো নতুন এক জীবন৷ এবং সেটাই হয়েছিল৷ হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপনের পর আমি ঘুম থেকে সম্পূর্ণ অন্য একটি মানুষ হিসেবে জেগে উঠি৷ আমি খেয়াল করি খুব স্বাভাবিকভাবেই আমি

18.07.2006 projekt zukunft fragezeichen

এই ছবিটিকেই খুঁজছেন আপনি৷ ছবিটির তারিখ 13/07 এবং কোড:3341 পাঠিয়ে দিন bengali@dw-world.de ঠিকানায় অথবা এসএমএস করুন 0088 0173 030 2205, ভারত: 0091 98309 97232 নম্বরে৷ এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে জিততে পারেন আকর্ষণীয় সারপ্রাইজ গিফট …

শ্বাস-প্রশ্বাস নিচ্ছি৷ অসুস্থ হওয়ার আগে আমি যেরকম ছিলাম এখন ৯০ শতাংশই আমি শারীরিকভাবে সেই জায়গায় ফিরে গিয়েছি৷''

অন্য সব রোগীর বেলায় কিন্তু এত সহজে সব কিছু হয়ে যাচ্ছে না৷ উটে অপার গড়ে তুলেছেন, ‘সেল্ফ হেল্প' অর্থাৎ নিজেদের সাহায্য করি নামক একটি সংস্থা৷ এখানে মূলত তারাই আসে যারা অপেক্ষা করে আছে একটি অঙ্গ পাওয়ার আশায়৷ এছাড়া অঙ্গদানের বিষয়েও উটে সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলেন৷ তাদের বোঝাতে চেষ্টা করেন, অঙ্গদান একটি মানুষকে কীভাবে সুস্থ রাখতে পারে৷

আইন করেও লাভ হচ্ছে না

অঙ্গদান এবং অঙ্গ প্রতিস্থাপনের সংখ্যা সত্যিই অনেক কম৷ ব্রিটেনে যদিও ২৫ শতাংশ মানুষ অঙ্গদানের জন্য প্রস্তুত বলে ‘ডনর কার্ড' নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে কিন্তু বাস্তবে মাত্র ১৪.৭ শতাংশ মানুষ অঙ্গদানে এগিয়ে আসছে৷ জার্মানিতে অঙ্গদান সম্পর্কিত আইন থাকা সত্বেও অঙ্গদানের সংখ্যা বাড়ছে না৷ বার্লিনে জার্মান হার্ট ইন্সটিটিউটের পরিচালক প্রফেসর ডঃ রোলান্ড হেটসার জানান, ‘‘ যে সব রোগী ব্রেইন-ডেড তাদের কথা অনেক হাসপাতালই জানায় না৷ অথচ এরাই কিন্তু সবচেয়ে বড় অঙ্গ দাতা হতে পারে৷ এর সঙ্গে অবশ্য হাসপাতালের আর্থিক খরচও জড়িত৷ আরেকটি কারণ হল, অনেকেই সেই অঙ্গকে গ্রহণ করতে চায় না যখন তারা জানতে পারে, কোন মৃত ব্যক্তির কাছ থেকে অঙ্গটি নেওয়া হয়েছে এবং মৃত ব্যক্তিটি তাঁরই একজন আত্মীয়৷''

প্রতিবেদন: মারিনা জোয়ারদার

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক