1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

দেশে ফেরা না হলে ভারতে থাকতে চান লতিফ সিদ্দিকী

হজ নিয়ে মন্তব্যের পর মন্ত্রিত্ব ও দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যপদ হারানো আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী বাংলাদেশে ফিরবেন কিনা, সেই সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না৷ যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্কিত মন্তব্যের পর এখন কলকাতায় অবস্থান করছেন তিনি৷

প্রবীণ এই রাজনীতিক সোমবার টেলিফোনে ডয়চে ভেলের ‘কনটেন্ট পার্টনার' বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ভারত প্রতিনিধিকে বলেছেন, তিনি দলকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছেন, এখনই ফিরে আরো বিব্রতকর অবস্থার দিকে ঠেলে দিতে চান না৷ ইউরোপ অ্যামেরিকায় থাকতে পারবেন না বলেই কলকাতায় এসেছেন বলে জানান তিনি৷

লতিফ সিদ্দিকীর এ সাক্ষাৎকার নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম তোলপাড়৷ সামহয়্যার ইন ব্লগে আহমেদ রশীদ লিখেছেন, ‘‘উনি তসলিমা নাসরিনের পাশাপাশি থাকতে চান কি?'' তিনি লিখেছেন, ‘‘নিজ দল আওয়ামী লীগ এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাওয়া আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বলেছেন, ভারত থেকে ‘প্রথম সুযোগেই' তিনি বাংলাদেশে ‘ঢুকে পড়তে' চান৷ এ জন্য তিনি সরকার ও দলের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় আছেন৷ তবে শেষ পর্যন্ত দেশে ফেরা না হলে তিনি ভারতের আশ্রয়ে থাকতে চান৷ কলকাতায় অবস্থানরত লতিফ সিদ্দিকী আজ সোমবার সন্ধ্যায় বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে এ কথা বলেন৷''

বিবিসি থেকে প্রশ্ন করা হয় তসলিমা নাসরিন, দাউদ হায়দার – এঁদের সম্পর্কে একই ধরনের অভিযোগ ওঠার পর তাঁরা আর দেশেই ফিরতে পারছেন না দশকের পর দশক৷ আপনার কি সেই ভয়টা হচ্ছে যে, আপনারও সেই পরিস্থিতি হতে পারে?

লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘‘না, না, তাঁরা লেখনীর মাধ্যমে বলেছেন৷ তাঁরা এক কথা বলেছেন আর আমি তো এখনো বলছি যে আমার অবস্থান....আমার কথাগুলোকে বিকৃত করা হয়েছে, খণ্ডিত করা হয়েছে৷''

তিনি বলেছেন, ‘‘আমার জীবনে এ রকম ঝড় বহুবার এসেছে৷ পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ করেছিলাম৷ তারপর বিতাড়িত হয়েছিলাম৷ কাদের সিদ্দিকীর সঙ্গে আমার দ্বিমত হয়েছে বলে আমি সরে এসেছিলাম৷ এখনো কাদের সিদ্দিকী ক্ষমা চাচ্ছে৷''

লতিফ সিদ্দিকীর কথায়, ‘‘আমি একেবারেই মাটির সাথে থাকতে চাই৷ ভারত সেটা না দিলে....সেটা এখনই....সে ব্যাপারে এখনই কিছু বলব না৷ সময়ই সময়ের সিদ্ধান্ত নেবে৷''

সাখাওয়াত হোসেন অবশ্য ভিন্ন ধরনের মন্তব্য করেছেন৷ তিনি লিখেছেন, ‘‘লতিফ সিদ্দিকী যা বলেছে তার দায় ওনার৷ সেটা নিয়ে রাজনীতি করার কোন প্রয়োজন নাই৷'' তাঁর মতে, যে বক্তব্য উনি দিয়েছেন সেটা ওনাকেই বুঝতে দিন, একসময় নিজে থেকেই তিনি নিজের বক্তব্য পরিহার করবেন৷ অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ৷ ঠিক মতো নামাজ পরি না, জাকাত দেই না৷ গরিবের হক আদায় করি না৷ সুযোগ পাইলে এতিমের হক ও ছাড়ি না৷ কিন্তু তবুও কে কাকে কী বলল, সেইটা নিয়া ফালা ফালির কমতি নাই৷ ইসলাম এত সস্তা না যে, কেউ ধরে নাড়াচাড়া দিলেই ধ্বংস হয়ে যাবে৷

তিনি লিখেছেন, ‘‘চারটা বিয়ে করলে কোনো দোষ হয় না৷ কিন্তু চারটি বিয়ে করতে নিষেধ করলেই সমস্যা! কোনো মানুষের পক্ষে চারজন নারীর প্রতি সমান হক আদায় করা সম্ভব কিনা, এটা কি একবার ভেবে দেখেছেন? ইসলাম এত সস্তা না৷ মূর্তি দেখলেই যাদের ভাঙতে ইচ্ছে জাগে তাদের উদ্দেশ্যে বলবো, মূর্তি দেখলেই যদি ইমান চলে যাবার ভয় দেখা দেয়, তা হলে ঈমানের মধ্যে সমস্যা রয়েছে৷''

একই ব্লগে আল-শাহ্‌রিয়ার লিখেছেন,‘‘পবিত্র হজ ও তাবলিগ জামায়াত নিয়ে কটূক্তি পরিণতিতে মন্ত্রিত্ব হারানো বা আওয়ামী লীগের প্রেসিয়াম সদস্যপদ থেকে অপসারিত হয়েও আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর কোনো রকম অনুশোচনা বা আফসোস নেই৷ আবদুল লতিফ সিদ্দিকী কলকাতা থেকে বাংলাদেশের দৈনিক সমকালকে টেলিফোনে জানিয়েছেন, তিনি তাঁর বক্তব্যে অটল রয়েছেন৷ তিনি বলেছেন, ‘‘আমার রাষ্ট্রপতি কিংবা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ নেই৷ তবে সক্রেটিস হওয়ার সুযোগ আছে৷''

লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘‘আমি ইহজগতে অসাম্প্রদায়িক মানুষ৷ আমার নেতা ও দল আমার বিরুদ্ধে যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতেই পারেন৷''

লতিফ সিদ্দিকীর ভারতে থাকতে চাওয়ার বিষয়টি নিয়ে টুইটারে অনেকেই অনেক মন্তব্য করেছেন৷ আনোয়ার হোসেন বাবলু লিখেছেন কেন ভারত সবসময়ং এমন ব্যাক্তিদের আশ্রয় দেয়৷

এর উত্তরে সুরেশ লিখেছেন দেশের জনগণ তাকে চাচ্ছে না এবং নিজ দল থেকেও তাকে বের করে দেয়া হয়েছে, তিনি আর কোথায় যাবেন?

আবদুল লতিফ সিদ্দিকী এরই মধ্যে মন্ত্রিত্ব ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলী থেকে সদস্যপদ হারিয়েছেন৷ এদিকে, মঙ্গলবার তাঁকে চূড়ান্তভাবে দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে৷ কেন দল থেকে তাঁকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করা হবে না, এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে নোটিসে৷

সংকলন: অমৃতা পারভেজ

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়