1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘‘দেশে (আর) কোনো যুদ্ধাপরাধী নাই''

ব্লগার আরিফ জেবতিকের একটি ফেসবুক মন্তব্যের শেষ লাইন এটি৷ একাত্তরে বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের একটি পুরনো মন্তব্য ঘিরে একথা লিখেছেন তিনি৷

বাংলাদেশে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে এই শাস্তি পেয়েছেন মুহাজিদ৷ আদালতের চূড়ান্ত রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে মন্তব্য করেছেন অনেকে৷ ফেসবুকে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ লিখেছেন, ‘‘দীর্ঘদিন এই প্রাপ্য ঝুলে ছিল৷ বুদ্ধিজীবীসহ গণহত্যায় যুক্ত থাকার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও এই যুদ্ধাপরাধীরা রাজনীতি করেছে নির্বিঘ্নে, মন্ত্রী হয়েছে৷ আজকের রায়ে তার কিছুটা দায়মুক্তি হলো৷''

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে যুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে গত কয়েকবছর ধরে আন্দোলন করছেন মাহমুদুল হক মুন্সি৷ শাহবাগ গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত এই অ্যাক্টিভিস্ট লিখেছেন, ‘‘যে বলেছিল বাংলাদেশে কোন যুদ্ধাপরাধী নেই, তার আজকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চুড়ান্ত ফাঁসীর রায় হলো৷ এই মুজাহিদ এক সময় এই বাংলায় ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তে রাঙা লাল পতাকাটা গাড়ির সামনে বেঁধে ঘুরে বেড়িয়েছিল৷''

ডয়চে ভেলের দ্য বব্স অ্যাওয়ার্ডজয়ী ব্লগার আরিফ জেবতিক তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘‘হায়, একটা সময় রাজাকারদের সঙ্গেও আমাদের একমত হতে হবে৷ সব ফাঁসিটাসি হয়ে যাওয়ার পরে, আড়মোড়া ভেঙে আমরাও একদিন মুজাহিদের লগে একমত পোষণ করে মাথা দোলাতে দোলাতে বলব, ‘‘দেশে (আর) কোনো যুদ্ধাপরাধী নাই৷''

তরুণ লেখক, অ্যাক্টিভিস্ট অনন্য আজাদও ফেসবুকে জানিয়েছেন তাঁর প্রতিক্রিয়া৷ তিনি লিখেছেন, ‘‘১/১১ তে এই রাজাকার মুজাহিদের দাম্ভিকতা দেখে বাঙলার মানুষ অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছিল৷ মুজাহিদ বলেছিল, ‘‘বাংলাদেশে কোনো যুদ্ধাপরাধী নাই৷'' ২০১০ সালে রাজাকার মুজাহিদ যুদ্ধাপরাধীর বিচার প্রসঙ্গে বলেছিল, ‘‘ওসব উড়ে যা্বে, কিছু থাকবে না৷'' ১৬ জুন, ২০১৫, গত চার দশক ধরে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার যে ষড়যন্ত্র চলছিল, তার চূড়ান্ত পরিণতি কী হতে পারে তা মাননীয় আদালত ঘোষণা দিয়েছে৷''

এদিকে, টুইটারেও এই বিষয়ে মন্তব্য করেছেন অনেকে৷ ইংরেজিতে #হ্যাংমুজাহিদ এবং #ওয়ারক্রিমিনাল হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে চূড়ান্ত রায় ঘোষণার আগে থেকেই শুরু হয় প্রচারণা৷ একই ধরনের টুইট অনেককে করতে দেখা গেছে৷ সেখান থেকে কয়েকটি তুলে দেয়া হলো এখানে:

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১৭ই জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মুজাহিদকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়ে রায় ঘোষণা করে৷ এরপর ২০১৩ সালের ১১ই আগস্ট ট্রাইব্যুনালের ঐ রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করে জামায়াতের গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী এই নেতা৷ ১৬ জুন সেই আপিল খারিজ করে মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে আদালত৷

সংকলন: আরাফাতুল ইসলাম

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়