1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

দেশের বাইরে ইউরেনিয়াম পাঠাতে রাজি ইরান

অবশেষে দেশের বাইরে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পাঠাতে রাজি হলো ইরান৷ এ ব্যাপারে আজ তেহরানে স্বাক্ষরিত হলো একটি চুক্তি৷ তবে এরপরও ইরানের পরমাণু সমৃদ্ধকরণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা উত্তেজনার অবসান ঘটছে না বলে মনে হচ্ছে৷

default

চুক্তি স্বাক্ষর করছেন তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ইরান, তুরস্ক ও ব্রাজিলের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এই মর্মে এক চুক্তি স্বাক্ষর করেন৷ এর ফলে ইরান এক মাসের মধ্যে ১,২০০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পাঠাবে তুরস্কে৷ বিনিময়ে ইরানকে দেয়া হবে ১২০ কেজি পরমাণু জ্বালানী, যা তেহেরানের একটি পারমাণবিক চুল্লিতে ব্যবহার করা হবে৷ যেখানে ক্যান্সার রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত রেডিওআইসোটোপ তৈরি করা হয়৷ এর জন্য যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও রাশিয়া সময় পাবে এক বছর৷ এই ঐক্যমতের পর ইরানের প্রধান মধ্যস্থতাকারী আলী আকবর সালেহি বলেন, ‘‘আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতার ক্ষেত্রে আমাদের কতটা সদিচ্ছা রয়েছে, তা প্রমাণ করতে আমরা এই আদান-প্রদান সংক্রান্ত বোঝাপড়া মেনে নিয়েছি৷ আমাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম তৃতীয় কোনো দেশে পাঠিয়ে দেওয়ার প্রশ্নে পশ্চিমা শক্তিগুলি যে প্রক্রিয়ার বিষয়ে অনড় রয়েছে সেটাও আমরা মেনে নিয়েছি৷''

চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর ধারণা করা হচ্ছিল যে, হয়তো

Catherine Ashton Rede in Gaza bei UNRWA

ইইউ’র পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রধান ক্যাথরিন অ্যাশটন

ইরানের পরমাণু সমৃদ্ধকরণ নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের যে আশঙ্কা তা দূর হবে৷ কারণ ইউরেনিয়াম দিয়ে ইরান পরমাণু বোমা তৈরি করতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা ছিল৷ এজন্য অন্য কোনো দেশে ইউরেনিয়াম পাঠানোর জন্য জাতিসংঘের মাধ্যমে ইরানের উপর চাপ দিয়ে আসছিল তারা৷ প্রয়োজনে ইরানের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপেরও চিন্তাভাবনা চলছিল৷ কিন্তু বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার কাছ থেকে এখন পর্যন্ত যে প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে, তাতে আশঙ্কা যে দূর হয়েছে তা মনে হচ্ছেনা৷ যেমন যে দেশটির ইরানকে ফুয়েল রড দেয়ার কথা, সেই ফ্রান্স বলেছে যে, স্বাক্ষরিত চুক্তিটি ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বিশ্বের উদ্বেগ কমাতে পারবেনা৷ ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রধান ক্যাথরিন অ্যাশটনও একই মত প্রকাশ করেছেন৷ এদিকে জার্মানি বলেছে যে, ইরান ও জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএ-র মধ্যে এ সংক্রান্ত চুক্তির কোনো বিকল্প নেই৷ ব্রিটেন বলছে যে, ইরানকে নিয়ে উদ্বেগের এখনো যথেষ্ট কারণ রয়েছে৷ দেশটির উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে কাজ অবশ্যই চালিয়ে যেতে হবে বলে মনে করে ব্রিটেন৷ ওদিকে ইসরায়েল মনে করছে যে, এর ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হলো৷ কারণ আগে শুধু ইরানকে নিয়ে চিন্তা করলেই হতো৷ কিন্তু এখন তুরস্ক ও ব্রাজিল যোগ হওয়ায় সমস্যা আরও বাড়লো বলে মনে করছে ইসরায়েল৷ এছাড়া চুক্তিটি সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ইরানের একটি কৌশল বলে মনে করছে দেশটি৷

তবে চুক্তিটি স্বাক্ষরের পর প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদিনেজাদ ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরুর জন্য পশ্চিমা বিশ্বের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন৷ আর তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেদ দাভুটোগলু বলছেন যে, এর পরে ইরানের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আর কোনো প্রয়োজন নেই৷

এদিকে ইরান জানিয়েছে যে, এই চুক্তির পরও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কাজ তারা চালিয়ে যাবে৷ এর মধ্যে ২০ ভাগ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উৎপাদনের কাজও রয়েছে৷

প্রতিবেদন: জাহিদুল হক

সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন

সংশ্লিষ্ট বিষয়