1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

কলকাতা

‌দূষিত বরফ দিয়ে পানীয়

খাবারে ভেজালের কথা অনেক শোনা যায়, কিন্তু মর্গে ব্যবহার্য, মৃতদেহ সংরক্ষণের বরফ দিয়ে পানীয় তৈরি!‌ এমন ঘটনা হইচই ফেলল খাস কলকাতা শহরে৷

Indien Kalkutta - Summer Drinks (DW/P. Samanta)

বিক্রেতারা মর্গে মৃতদেহ সংরক্ষণের জন্য ব্যবহার্য বরফ পানীয়ে মেশাচ্ছেন বলে অভিযোগ

বরফ দু ধরনের হয়৷ পরিশ্রুত পানীয় জল হিমায়িত করে তৈরি বরফ, যা খাওয়ার যোগ্য৷ আর ইন্ডাস্ট্রিয়াল আইস, যা কল-কারখানা থেকে শুরু করে নানা শিল্পক্ষেত্রে, মূলত ঠান্ডা করার কাজে ব্যবহার হয়৷ এই বরফ মানুষের খাওয়ার উপযুক্ত নয়৷ যেহেতু অপরিশোধিত জল থেকে তৈরি, এই বরফ পানীয়ে মেশালে, সেই পানীয় খেয়ে লোকে অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন৷ জন্ডিস, টাইফয়েড থেকে শুরু করে নানা ধরনের জলবাহিত রোগ হতে পারে এই বরফ খেলে৷

সম্প্রতি কলকাতায় হইচই পড়ে গেছে যে রাস্তার ধারের একাধিক পানীয় বিক্রেতা, যাদের এই গরমের মরশুমে ব্যবসা বহুগুণ বেড়ে যায়, তারা মর্গে মৃতদেহ সংরক্ষণের জন্য ব্যবহার্য বরফ পানীয়ে মেশাচ্ছে৷ কলকাতা পৌরসভার স্বাস্থ্য দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মেয়র পারিষদ অতীন ঘোষ আচমকা পরিদর্শনে বেরিয়ে নিউ মার্কেট এলাকার অন্তত ১০ জন পানীয় বিক্রেতাকে হাতেনাতে ধরেছেন, যারা এই বরফ ব্যবহার করছিল৷ পুরসভা আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছে এদের বিরুদ্ধে৷ পাশাপাশি এলাকার একটি বরফের দোকানেও যান অতীন ঘোষ, যেখান থেকে পানীয় বিক্রেতারা বরফ সংগ্রহ করে৷

অডিও শুনুন 02:26

‘সংবাদমাধ্যমে বরফ নিয়ে কিছুটা অকারণ আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে’

এবং সেটা মানুষের খাওয়ার অযোগ্য, অনেক সস্তাদরের ইন্ডাস্ট্রিয়াল আইস৷ মেয়র পারিষদ এরপর নিয়ম জারি করেছেন, এবার থেকে ওইসব দোকানের সামনে নোটিস ঝুলিয়ে জানাতে হবে যে, এই বরফ মানুষের খাওয়ার জন্য নয়৷ নজর রাখা হবে পানীয় বিক্রেতাদের ওপর৷ কিন্তু পুরসভার এই অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে আতঙ্ক ছড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে, যাঁরা অনেকেই রাস্তার ধার থেকে এরকম বরফ দেওয়া রঙিন পানীয় কিনে খান৷

ডয়চে ভেলেকে মেয়র পারিষদ অতীন ঘোষ জানালেন, সংবাদ মাধ্যমে এই বরফ নিয়ে কিছুটা অকারণ আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে, মর্গে ব্যবহারের বরফ, ইত্যাদি বলে৷ হ্যাঁ, আরও অনেক প্রয়োজনের মতো, মর্গে মৃতদেহ সংরক্ষণের প্রয়োজনেও এই ইন্ডাস্ট্রিয়াল আইস ব্যবহার করা হয়৷ সেই বরফ কিছু অসাধু পানীয় বিক্রেতা ব্যবহারও করছে, কিন্তু মর্গের সঙ্গে এর সরাসরি কোনো সংযোগ নেই৷ বাজারে মাছ, সবজি সংরক্ষণের জন্যও এই একই বরফ ব্যবহৃত হয়৷ শুধু এই বরফ খাওয়া যায় না৷

তবে অতীন ঘোষ জানালেন, সংবাদ মাধ্যমের সুবাদেই বিষয়টি লোকের নজরে পড়েছে এবং তাঁরা আশা করছেন যে, সবাই এ থেকে আরও সচেতন হবেন৷ রাস্তার ধার থেকে পানীয় কিনে খাওয়ার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হবেন৷

প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যায় যে, শহরের রাস্তায়, গরমকালে, অন্তত দুটি পানীয়ের ক্ষেত্রে ইন্ডাস্ট্রিয়াল আইসের ঢালাও ব্যবহার হয় এবং সাধারণ মানুষ বেখেয়ালেই সেই দূষিত বরফ দেওয়া পানীয় খান৷ একটি আখের রস এবং অন্যটি দইয়ের ঘোল, বা লস্যি৷ অত্যন্ত অভিজাত এলাকাতেও লস্যি তৈরির ক্ষেত্রে এই অশুদ্ধ বরফ ব্যবহার করা হয়৷ মেয়র পারিষদ অতীন ঘোষ নিজেই এরকম একটি দোকানে গিয়ে, দোকানের মালিককে ডেকে বলেছিলেন, তার নিজের তৈরি এক গেলাস লস্যি খেতে৷ কিন্তু সেই দোকানদার সেই সাহস দেখাতে পারেননি৷ অতীন ঘোষ ডয়চে ভেলেকে জানালেন, কলকাতা পুরসভায় আগে এই দূষণ নিয়ন্ত্রণের কোনও নিয়মই মেনে চলা হতো না৷ ২০০৬ সাল থেকে এই সব নিয়ম চালু হয়েছে, নিয়ম না মানলে ট্রেড লাইসেন্স বাতিল করার নিয়ম হয়েছে৷ তবে এসবের পাশাপাশি মানুষও একটু সতর্ক হোন, চাইছে পুরসভা৷ গরমের দিনে ঠান্ডা শরবতের গেলাসে চুমুক দেওয়ার আগে খদ্দেরই যেন জানতে চান, তাঁর পানীয়ে কোন বরফ মেশানো হয়েছে৷

প্রিয় পাঠক, আপনি কিছু বলতে চাইলে লিখুন নীচে মন্তব্যের ঘরে...

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও