1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

দূষণ ভূত দাপাচ্ছে ভারতের সর্বত্র

আলোর উৎসব দীপাবলী ক্রমশই বাজি পোড়ানোর মোচ্ছবে পরিণত হয়েছে সারা ভারতজুড়ে৷ তার জেরে রাজধানী দিল্লির শ্বাসরুদ্ধ করেছে এক অভূতপূর্ব ধোঁয়াশা৷ দেশের বাকি অঞ্চলও কিন্তু নিরাপদ নয়৷

দীপাবলি, বা দিওয়ালি উৎসবের আতসবাজি পোড়ানোই শুধু কারণ নয়৷ শোনা যাচ্ছে প্রতিবেশী রাজ্য পাঞ্জাবে ফসল কাটার পর অবশিষ্টাংশ পুড়িয়ে ফেলার যে রীতি আছে, তার ধোঁয়াও নাকি দিল্লির এই বেনজির ধোঁয়াশার কারণ৷ এর সঙ্গে আছে অসংখ্য গাড়ির ধোঁয়া, কল-কারখানার ধোঁয়া এবং ঘনবসতি অঞ্চলে উনুনের ধোঁয়াও৷ সব মিলিয়ে, শীত আসার আগে এমন এক দম বন্ধ করা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে দিল্লিতে, যা আগে কখনও হয়নি৷ স্কুল-কলেজ বন্ধ, লোকে নেহাত জরুরি কাজ না থাকলে বাড়ির বাইরে বেরোচ্ছে না, সরকারি নির্দেশে হাসপাতাল বা ওই জাতীয় জরুরি পরিষেবা ছাড়া ডিজেল জেনারেটর চালানো পরবর্তী ১০ দিনের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছে, গাছের পাতা পোড়ানো বন্ধ, ১০ দিনের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে স্থানীয় একটি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র৷ দূষণ কমাতে এর আগে দিল্লির রাস্তায় গাড়ির সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে যে জোড়-বিজোড় নিয়ম চালু করা হয়েছিল, তা আবার ফিরিয়ে আনার কথাও ভাবা হচ্ছে৷ এ সবের পাশাপাশি দিল্লির বাসিন্দাদের আপাতত কয়েকদিন ঘরবন্দি থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে৷ কারণ বাতাসে ক্ষতিকর পদার্থের উপস্থিতির সহনসীমা যেখানে প্রতি বর্গমিটারে ৬০ মাইক্রোগ্রাম, সেখানে এই মুহূর্তে দিল্লির বিভিন্ন অংশে এই হার ৪০০ থেকে ৭০০ মাইক্রোগ্রাম৷ সোজা কথায়, ভারতের রাজধানীর বাতাস এখন বিষাক্ত৷

কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ হুঁশিয়ারি দিয়েছে, দেশের অন্যান্য বড় শহর যদি সাবধান না হয়, তা হলে এই বিষ ছড়িয়ে পড়তে দেরি হবে না৷ পূর্ব ভারতে বিহার এবং পশ্চিমবঙ্গে যেমন এখন চলছে বিহারীদের ছট পরব৷ আগে যে পরব শুধুমাত্র বাজনা বাজিয়ে শোভাযাত্রা করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, এখন তার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হয়ে গেছে আতসবাজি পোড়ানো৷ এবং সেটাও আলোর বাজি নয়, শব্দবাজি৷ ছটের শোভাযাত্রা শুরু হয় ভোররাত থেকে, চলে দিনভর৷ কাজেই পাড়া কাঁপিয়ে, প্রতিবেশীদের ত্রস্ত করে শব্দবাজি ফাটাতে ফাটাতে রাস্তা দিয়ে চলেছে একের পর এক ছটের শোভাযাত্রা৷ এইসব বাজির শব্দের মাত্রা বেঁধে দেওয়া হয়েছে আইন করে, কিন্তু উৎসবে মত্ত লোকজন সেই আইন থোড়াই কেয়ার করে বিকট থেকে বিকটতর শব্দের বাজি ফাটিয়েই চলেছে৷ ঠিক একই ঘটনা ঘটেছে কিছুদিন আগে দীপাবলির সময়েও৷ মূলত যাদের হাতে উদ্বৃত্ত অর্থ বেশি, তারাই লাখ লাখ টাকার বাজি পুড়িয়েছে তিন রাত ধরে, শব্দদূষণ অথবা বায়ুদূষণের তোয়াক্কা না করে৷ এক্ষেত্রে আশঙ্কার বিষয় একটাই৷ দূষণ নিয়ন্ত্রণে রাখায় নাগরিক সমাজের ভূমিকা যে সবথেকে বড়, সম্পর্কিত আইন বা আইনরক্ষকদের নয়, এই মৌলিক সচেতনতাই মানুষের মধ্যে নেই৷ ঠিক যেভাবে নিজেরা যথেচ্ছ রাস্তাঘাট নোংরা করার পর লোকে ভাবে পুর-প্রশাসনেরই দায় শহর সাফ করা, সাফ রাখা, ঠিক সেই একই দায়িত্বজ্ঞানহীন ভাবনা থেকে লোকে বাজি পোড়াচ্ছে ইচ্ছেমতো৷

সাধারণভাবে দূষণ সম্পর্কে লোকে কত অসচেতন, তার আরও একটা উদাহরণ এবারের ছটপুজোতেই দেখা গেল৷ ছটের পুজো হয় জলের ধারে৷ কলকাতায় হুগলি নদী এবং যেসব বড় জলাশয় আছে, প্রতিবার ছটের পর সেগুলো আবর্জনায় ভরে ওঠে৷ পশ্চিমবঙ্গের পরিচিত পরিবেশবিদ সুভাষ দত্ত যে কারণে এবার কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন, শহরের জলাশয়গুলি, বিশেষত ঢাকুরিয়ার রবীন্দ্র সরোবর লেকে যেন ছটপুজো নিষিদ্ধ করা হয়৷ তাঁর আবেদনের যৌক্তিকতায় সায় দিয়ে আদালত সেই নিষেধাজ্ঞা জারিও করে৷ কিন্তু সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের মাথারা জানিয়ে দেন, তাঁদের ধর্মাচরণের অধিকারে হস্তক্ষেপ করা যাবে না৷ আদালত যাই বলুক, তাঁরা তাঁদের মতোই চলবেন৷ এবং বিভিন্ন এলাকায় ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতা-মন্ত্রীরা যেখানে সামাজিক যোগাযোগ বাড়াতে ছট পুজোর উপকরণ বিলি করেছেন, সেখানে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ যে হবে না, সে বলাই বাহুল্য৷ ফলে আদালতের মানরক্ষার খাতিরে পুজোর জায়গা জলাশয়ের একটা নির্দিষ্ট জায়গার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার ব্যবস্থা করে দায় সারা হয়েছে৷ এবং এই অপরিণামদর্শিতা আজ ভারতের সর্বত্র নজরে পড়ছে৷ সব অঞ্চলেরই নিজস্ব লোকাচার এবং উৎসব আছে, যার শেষ হয়ে ভয়াবহ দূষণ ছড়িয়ে৷ কোথাওই সেই দূষণ কমানোর প্রশাসনিক উদ্যোগ বা নাগরিক সচেতনতা দেখা যায় না৷ এমনকি খোদ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বহু ঢাক-ঢোল পিটিয়ে গঙ্গা নদীকে দূষণমুক্ত করার যে কর্মসূচি চালু করেছিলেন, তাও মুখ খুবড়ে পড়েছে৷ কারণ প্রকৃত দূষণ আছে মানুষের ভাবনায়৷ শত প্রচারেও তা তাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না!‌

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়