1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

দুষ্টু গ্রহাণু দমন করতে নাসার উদ্যোগ

ভবিষ্যতে কোনো গ্রহাণুর আঘাতে পৃথিবীর মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে – এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না৷ সেই বিপদ এড়াতে মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা নতুন উদ্যোগ শুরু করছে৷

চলতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে পৃথিবী দু-দুটি অ্যাস্টারয়েড বা গ্রহাণুর কাণ্ড দেখেছে৷ তার মধ্যে একটি সাইবেরিয়ার চেলিয়াবিনস্ক শহরের আকাশে প্রবেশ করেছিল৷ তার বিস্ফোরণের তীব্রতার মাত্রা ছিল হিরোশিমার আণবিক বোমার তুলনায় প্রায় ২০ থেকে ৩০ গুণ বেশি৷ একই দিনে দ্বিতীয়টি পৃথিবীর খুব কাছ দিয়ে চলে যায়৷ এমন আরও মহাজাগতিক বস্তু পৃথিবীর ক্ষতি করার মতলব আঁটছে কিনা, তা আগেভাগে জানতে পারলেই মঙ্গল৷

মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা তিন বছরের জন্য একটি মহাকাশ টেলিস্কোপকে সেই কাজে ব্যবহার করছে৷ ২০০৯ সাল থেকেই ‘ওয়াইড ফিল্ড ইনফ্রারেড সার্ভে এক্সপ্লোলার' নামের এই মহাকাশ টেলিস্কোপ পৃথিবীর কক্ষপথে ঘুরছে৷ মহাকাশের গভীরে যে সব মহাজাগতিক বস্তুর নিজস্ব আলো প্রায় দেখা যায় না, তাদের ইনফ্রারেড রশ্মি দেখে শনাক্ত করাই ছিল এই টেলিস্কোপের কাজ৷ এখনো পর্যন্ত প্রায় ৩৪,০০০ অ্যাস্টারয়েড বা গ্রহাণুকে চিহ্নিত করেছে৷ পৃথিবীর কাছাকাছি চলে এসেছিল, এমন ১৩৫টি গ্রহাণুও ধরা পড়েছে টেলিস্কোপের চোখে৷ মঙ্গল ও বৃহস্পতি গ্রহের মধ্যে অ্যাস্টারয়েড বেল্ট-এ বিচরণ করে এই সব গ্রহাণু৷

মূল কাজ শেষ হবার পর, অর্থাৎ ১৩ মাস কাজ করার পর টেলিস্কোপের বেশিরভাগ যন্ত্রপাতিই বন্ধ করে দিয়েছিল নাসা৷ কিন্তু নাসা এবার আগামী মাসে তার ঘুম ভাঙিয়ে সেটিকে নতুন করে কাজে লাগাতে চাইছে৷ ৩ বছর ধরে চলবে নতুন এই কর্মসূচি৷ ব্যয়ভার বছরে ৫০ লক্ষ ডলার৷

নাসার পরিকল্পনার বেশ কয়েকটি ধাপ রয়েছে৷ প্রথমে টেলিস্কোপটি এমন সব গ্রহাণুর খোঁজ করবে, যেগুলি পৃথিবীর সঙ্গে সংঘাতের পথে যেতে পারে৷ তার চোখে এমন কোনো বিপজ্জনক অ্যাস্টারয়েড ধরা পড়লে সেখানে রোবোট সহ আরেকটি মহাকাশযান পাঠানো হবে৷ তার কাজ হবে হয় গোটা অ্যাস্টারয়েড, অথবা তার কিছু অংশ চাঁদের একটি কক্ষপথে ঠেলে দেয়া৷ তারপর মহাকাশচারীরা সেই গ্রহাণু পরিদর্শনে যাবেন৷ ২০২১ সাল নাগাদ ‘ওরিয়ন' নামের যে দূরপাল্লার ক্যাপসুল মহাকাশযান চালু হওয়ার কথা, তাতে করেই এই অভিযান চালানো হবে৷

তবে চিন্তার কারণ নেই৷ পৃথিবীর কাছাকাছি ঘোরাফেরা করে এমন বিপজ্জনক অ্যাস্টারয়েডগুলির মধ্যে নাসা এখনই প্রায় ৯৫ শতাংশই শনাক্ত করে ফেলেছে৷ আরও আশার কথা হলো, অর্থাভাবের কারণে সার্বিকভাবে নাসার বাজেটে কাটছাঁট করা হলেও পৃথিবীর আশেপাশের মহাজাগতিক বস্তু শনাক্ত করার কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ ২ কোটি ডলারের বাজেট দ্বিগুণ করার প্রস্তাব আনছে ওবামা প্রশাসন৷

এসবি/ডিজি (রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়