1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

দুর্নীতি সূচকে সার্কে আফগানিস্তানের আগে বাংলাদেশ

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) প্রকাশিত দুর্নীতির ধারণা সূচকে বাংলাদেশের অবস্থানের অবনতি হয়েছে৷ এ বছর প্রকাশিত সূচকে ১৭৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৪ নম্বরে৷ একবছর আগে সেটা ছিল ১৬তম৷

বুধবার টিআই-এর ‘বিশ্ব দুর্নীতির ধারণা সূচক ২০১৪' শীর্ষক প্রতিবেদন ঢাকায় প্রকাশকালে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন টিআইবি'র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান৷

এ বছর দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় সূচকের ০-১০০ স্কেলে ২৫ স্কোর পেয়ে ১৭৫টি দেশের মধ্যে ঊর্ধ্বক্রম অনুসারে ১৪৫তম এবং নিম্নক্রম অনুসারে ১৪তম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ৷

২০১৩ সালে সূচকে অন্তর্ভুক্ত ১৭৭টি দেশের মধ্যে নিম্নক্রম অনুযায়ী বাংলাদেশ ১৬তম অবস্থানে ছিল৷ আর ঊর্ধ্বক্রম অনুযায়ী অবস্থান ছিল ১৩৬তম৷ ২০১৪ সালে বাংলাদেশ ২ পয়েন্ট কম পেয়েছে এবং ঊর্ধ্বক্রম অনুযায়ী নয় ধাপ নিচে নেমেছে৷ দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয় সর্বনিম্ন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘‘একমাত্র আফগানিস্তান ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার আটটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ নিম্নক্রম অনুযায়ী দ্বিতীয় সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে৷ এছাড়া ২০১৪ সালে বাংলাদেশ দুই পয়েন্ট কম পাওয়ায় এবং তা বৈশ্বিক গড় ৪৩ এর চেয়ে অনেক কম হওয়ায় সার্বিকভাবে দুর্নীতির বৈশ্বিক ধারণা সূচকে বাংলাদেশে দুর্নীতি প্রকট আকার ধারণ করেছে৷''

তিনি আরো বলেন, ‘‘২০১৪ সালে ৯২টি দেশের স্কোর বৃদ্ধি পেয়েছে, ৪৭টি দেশ পূর্বের স্কোর ধরে রেখেছে৷ অন্যদিকে যে ৩৬টি দেশের স্কোরের অবনতি হয়েছে, দুঃখজনকভাবে সেই তালিকায় বাংলাদেশও রয়েছে৷''

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘‘বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশে দুর্নীতি বেড়েছে৷ এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো দুর্নীতিবিরোধী অঙ্গীকার অনুযায়ী যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের ঘাটতি, কার্যকরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের দৃষ্টান্তের অভাব, দুদকের স্বাধীনতা খর্ব করার অপপ্রয়াস, পদ্মা সেতু প্রকল্প, রেলওয়ে নিয়োগ বাণিজ্য, শেয়ারবাজার, হলমার্ক ও ডেসটিনি এবং সোনালী ব্যাংকসহ আর্থিক খাতে ব্যাপক অনিয়ম, রানা প্লাজার ঘটনার ব্যাপারে শৈথিল্য, ক্ষমতাবানদের বৈধ আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন সম্পদের বৃদ্ধি, খেলাপী ঋণ, সংসদসহ সংশ্লিষ্ট জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতা, নিয়োগ বাণিজ্যের রাজনীতিকীকরণ এবং ভূমি ও নদী-জলাশয় দখলের মহোৎসব৷''

তিনি বলেন, ‘‘বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুদককে অনেক সময়ই দেখা গেছে সরকারের এক প্রকার বি-টিমের ভূমিকা পালন করতে৷'' তাঁর মতে, ‘‘বাস্তবে দেশের আপামর জনগণ দুর্নীতিগ্রস্ত নয়৷ তারা দুর্নীতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ও ভুক্তভোগী মাত্র৷ ক্ষমতাবানদের দুর্নীতি ও তা প্রতিরোধে দেশের নেতৃত্ব ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতার কারণে দেশ বা জনগণকে কোনোভাবেই দুর্নীতিগ্রস্ত বলা যাবে না৷''

এদিকে এই রিপোর্ট প্রকাশের পর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে দুর্নীত দমন কমিশন বা দুদক৷ কমিশনার (তদন্ত) সাহাবুদ্দিন চুপ্পু বলেছেন, টিআই'র পরিসংখ্যানের সঙ্গে বাস্তবের মিল নেই৷ বুধবার কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে দুদক কমিশনার দুদকের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া জানান৷

তিনি বলেন, ‘‘টিআই'র প্রতিবেদন প্রকৃত চিত্রের চেয়ে ভিন্নতর৷ আমরা টিআইবির সঙ্গে একমত নই, আবার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন না দেখে তা প্রত্যাখ্যান করছি না৷ গণমাধ্যম থেকে যা জানতে পেরেছি তাতে প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরে এটা গ্রহণযোগ্য হবে বলে মনে হয় না৷''

টিআইবির সংবাদ সম্মেলনে ‘‘দুদক ক্ষমতাসীনদের দায়মুক্তি দিচ্ছে, অনেক ক্ষেত্রে সরকারের বি টিম হিসেবে কাজ করছে' এমন মন্তব্য করা হয়৷ এনিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চুপ্পু বলেন, ‘‘আমরা ক্ষমতাসীনদের ছেড়ে দিচ্ছি এটা সঠিক নয়৷ দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তি ক্ষমতাসীন বা বিরোধী দল, যে রাজনৈতিক দলেরই হোক না কেন, ছাড় দেওয়া হবে না৷'' তিনি বলেন, ‘‘কারও কারও বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ না মেলায় অব্যাহতি পাচ্ছেন; কিন্তু তার মানে এই নয় দুদক সবাইকে ছেড়ে দিচ্ছে৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়