1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

দুর্নীতি ফাঁস করা ব্যক্তির সুরক্ষা নিয়ে আইনি বিতর্ক

সম্প্রতি এক জনস্বার্থ মামলায় সুপ্রিম কোর্টে জমা দেয়া একটি রেজিস্টারে টুজি-স্পেকট্রাম এবং কয়লা কেলেঙ্কারি মামলার সঙ্গে জড়িত বেশ কিছু বিতর্কিত ব্যক্তির নাম রয়েছে৷ তবে ঐ রেজিস্টার কে দিয়েছে তা জানাতে অস্বীকার করেছে বাদি৷

Symbolbild Whistleblower kapuze

প্রতীকী ছবি

সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা ‘সেন্টার ফর পাবলিক ইন্টারেস্ট লিটিগেশন' নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার পক্ষ থেকে তার আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ আদালতের কাছে জমা দেন কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরোর প্রধান রঞ্জিত সিনহার সঙ্গে তাঁর বাসভবনে সাক্ষাতপ্রার্থীদের নামের একটি রেজিস্টার৷ ঐ রেজিস্টার কে দিয়েছে বা কীভাবে পেয়েছে তার পরিচয় বা সূত্র জানাতে অস্বীকার করেন তিনি৷ কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআই ইদানীং দেশের দুটি বড় কেলেঙ্কারি – টুজি স্পেকট্রাম এবং কয়লা খনি দুর্নীতির তদন্তে রয়েছে৷ সিবিআই প্রধান রঞ্জিত সিনহার সরকারি বাসভবনে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতপ্রার্থীদের মধ্যে ঐ দুই মামলার অভিযুক্তসহ ঐ কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত বেশ কিছু বিতর্কিত ব্যক্তির নাম রয়েছে ঐ রেজিস্টারে৷ সিবিআই প্রধানের সঙ্গে ঐ সব বিতর্কিত ব্যক্তিদের সাক্ষাতের একটাই কারণ থাকতে পারে, তা হলো মামলার মোড় ঘুরিয়ে দেয়া৷

শীর্ষ আদালত ঐ রেজিস্টার পাওয়ার সূত্র জানাতে বললে আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ ঐ ব্যক্তির নাম প্রকাশে অক্ষমতা জ্ঞাপন করেন৷ কারণ তাহলে ঐ ব্যক্তির প্রাণনাশের আশঙ্কা থেকে যায়৷ তবে রেজিস্টারে থাকা নাম ও তথ্য সত্য কিনা তা সিবিআই প্রধান রঞ্জিত সিনহার বাড়ির রক্ষীদের জেরা করে জানা যেতে পারে৷ ব্যক্তির পরিচয় গোপন রেখেই শুনানি চালানোর আর্জি জানানো হয়৷ বলা হয়, এমন বহু দৃষ্টান্ত আছে যেখানে খোদ সিবিআই তদন্তের স্বার্থে গোপন তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে মামলা চালিয়ে গেছে৷ সিবিআই প্রধানের আইনজীবী অবশ্য তার বিরোধীতা করে বলেন, ঐ ব্যক্তির নাম না জানালে শুনানি চলতে পারে না৷

আদালতের পূর্বেকার আদেশ পুনর্বিবেচনা করার আর্জি জানিয়ে ঐ স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার পক্ষ থেকে নতুন হলফনামা দায়ের করে বলা হয়, সারা বিশ্বে যখন সরকারি, বেসরকারি কিংবা জনজীবনের দুর্নীতি ফাঁসকারী বা ঐ সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহকারী, যাকে বলা হচ্ছে ‘হুইসেল-ব্লোয়ার', তাদের সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে দুর্নীতির মোকাবিলায়, তখন সেখানে একটি এনজিওকে সরকারি মহলের দুর্নীতির তথ্য-প্রদানকারীর নাম প্রকাশ করতে বাধ্য করা অনুচিত হবে৷

এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, জাতীয় মহাসড়ক নির্মাণ কর্তৃপক্ষের কর্মী সত্যেন্দ্র দুবে স্বর্ণ চতুর্ভুজ মহাসড়ক প্রকল্পের নির্মাণ কাজে ব্যাপক দুর্নীতির কথা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ীকে চিঠি লিখে জানিয়েছিলেন৷ পরিণামে মাফিয়াদের হাতে তাঁকে প্রাণ দিতে হয়৷ এখানেই শেষ নয়, ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনের ইঞ্জিনিয়ার সন্মুগন মঞ্জুনাথ পেট্রোল পাম্পে ভেজাল তেল বিক্রি হাতে নাতে ধরে ঐ পেট্রোল পাম্প ‘সিল' করে দেন এবং পেট্রোল পাম্প বণ্টনকারী সংস্থার দুর্নীতি ফাঁস করে দেন৷ তাঁকেও পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেয়া হয়৷ কারণ তখন দেশে দুর্নীতি সংক্রান্ত তথ্য প্রদানকারীর নিরাপত্তার কোনো আইনি ব্যবস্থা ছিল না৷

জনমনে তীব্র ক্ষোভের দিকে তাকিয়ে সরকার ২০১৪ সালের মে মাসে পাশ করেন ‘হুইসেল-ব্লোয়ার প্রোটেকশন' আইন৷ জনজীবনের দুর্নীতি ফাঁস করতে জনগণই যাতে এগিয়ে আসে নির্ভয়ে৷ ঐ আইনে আছে দুর্নীতির তথ্য দিলে তাঁর নাম বা পরিচয় গোপন রাখা হবে তাঁর নিরাপত্তার জন্য৷ তবে কেউ যদি উদ্দেশ্যমূলকভাবে মিথ্যা তথ্য দেন, তাহলে দু'বছর পর্যন্ত জেল এবং ৩০ হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে৷ হুইসেল-ব্লোয়ারদের কঠোর নিরাপত্তা সুনিশ্চত করা না হলে সরকার কিংবা কর্পোরেট জগতের দুর্নীতি দেশের গণতন্ত্রকে বাঁচতে দেবে না৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন