1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

দুর্নীতির শীর্ষে রাজনৈতিক দল, পুলিশ, বিচার বিভাগ

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বা টিআই-এর জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশে দুর্নীতির শীর্ষে রাজনৈতিক দল এবং পুলিশ৷ আর এরপরই বিচার বিভাগের অবস্থান৷ অন্যদিকে, বাংলাদেশের ৬০ শতাংশ মানুষ মনে করে যে দেশে দুর্নীতি বেড়েই চলেছে৷

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও মঙ্গলবার ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বা টিআই-এর জরিপ প্রকাশ করা হয়৷ ‘গ্লোবাল করাপশন ব্যারোমিটার ২০১২' শিরোনামের এই রিপোর্টে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ৯৩ ভাগ মানুষ মনে করেন যে দেশের সর্বোচ্চ দুর্নীতিপ্রবণ খাত বা প্রতিষ্ঠান হলো রাজনৈতিক দল এবং পুলিশ৷ এর পরের অবস্থানেই রয়েছে বিচার বিভাগ৷ বিচার বিভাগকে দুর্নীতিপ্রবণ বলেছেন প্রায় ৮৯ ভাগ মানুষ৷ জরিপে অংশ নেয়া শতকরা ৬০ ভাগ মনে করেন, দেশে আগের তুলনায় দুর্নীতি বেড়েছে৷

Bangladesch Unruhen Partei BNP Proteste gegen Polizeigewalt

৯৩ ভাগ মানুষ মনে করেন সর্বোচ্চ দুর্নীতিপ্রবণ খাত হলো রাজনৈতিক দল এবং পুলিশ

তবে জরিপে অংশ নেয়া সাধারণ মানুষ মনে করেন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ভূমি, কর, বিচার – এসব ক্ষেত্রে দুর্নীতি আগের চেয়ে কিছুটা হলেও কমেছে৷

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ বা টিআইবি-র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখরুজ্জামান ডয়চে ভেলেকে বলেন, বিশ্বের আরো অনেক দেশে এই জরিপ চালানো হয়েছে৷ বাংলাদেশে চালানো এই জরিপে ১৮২০ জন মতামত দিয়েছেন৷ শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের অন্যান্য দেশের রাজনৈতিক দল এবং রাজনীতিবিদদের ব্যাপারে নেতিবাচক ধারণা পোষন করেন সেখানকার সাধারণ মানুষ৷

তিনি বলেন, বাংলাদেশে রাজনীতি একটি লাভজনক বিনিয়োগ বা ব্যবসায় পরিণত হয়েছে৷ রাজনীতিকে মুনাফা অর্জনের উপায় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে আজকাল৷ যে রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় থাকে, তারাই দুর্নীতি করে৷ কারণ, ক্ষমতার সঙ্গে দুর্নীতি সম্পর্কযুক্ত৷ শুধু শীর্ষ পর্যায়ে নয়, তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত এই দুর্নীতির বিস্তার৷ রাজনীতির সঙ্গে জড়িত সবাই যে দুর্নীতি করেন, তা নয়৷ তবে প্রতিষ্ঠান হিসেবে রাজনৈতিক দল দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছে৷ ড. ইফতেখরুজ্জামান বলেন, পদ্মা সেতু, শেয়ার বাজার, হলমার্ক থেকে শুরু করে স্থানীয় পর্যায়ে টেন্ডার, ভিজিডি, ভিজিএফ – সব জায়গাই রাজনৈতিক প্রভাব এবং দুর্নীতির চিত্র স্পষ্ট৷

Dhaka Bangladesch 7 von 19

বিচার বিভাগকে দুর্নীতিপ্রবণ বলেছেন প্রায় ৮৯ ভাগ মানুষ

ড. ইফতেখারুজ্জামানের কথায়, ২০০৮ সালের নির্বাচনে দেশের বড় দুটি রাজনৈতিক দল দুর্নীতি দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল৷ কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোর আয়-ব্যয়ের হিসাবই এখনো স্বচ্ছ নয়৷ সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের আয়-ব্যয়ের হিসাবও প্রকাশ করা হয়নি৷ তাই তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক দলগুলো দুর্নীতিমুক্ত না হলে দেশ কোনোভাবেই দুর্নীতিমুক্ত হবে না৷

কমিউনিস্ট পার্টির পলিট ব্যুরো সদস্য হায়দার আকবর খান রণ টিআই-এর জরিপের গ্রহণযোগ্যতা এবং পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুললেও রাজনৈতিক দলগুলোর দুর্নীতির কথা স্বীকার করেন৷ তবে তিনি বাংলাদেশে এই দুর্নীতির জন্য দায়ী করেন ঘুরে ফিরে ক্ষমতায় যাওয়া বড় দুটি রাজনৈতিক দলকে৷ তিনি বলেন, যারা ক্ষমতায় যায় তারাই দুর্নীতির জন্য দায়ী৷ তারাই বেশি দুর্নীতি করে৷ আর এই দুর্নীতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয় দেশের সাধারণ মানুষ, কৃষক, শ্রমিক৷

হায়দার আকবর খান রণ বলেন, দেশকে দুর্নীতি মুক্ত করতে হলে দেশের মানুষের তাই এই দুটি দলকে প্রত্যাখ্যান করতে হবে৷ আর সমাজ ব্যবস্থায় আনতে হবে আমূল পরিবর্তন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন