1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

দু'টি শর্তে আত্মসমর্পণে রাজি বেগম খালেদা জিয়া

বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া দু'টি শর্তে আত্মসমর্পণ করতে পারেন বলে খবর৷ গত সপ্তাহে দুর্নীতি মামলায় বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত৷ অন্য এক মামলায় তাঁর কার্যালয়ে পুলিশি তল্লাশিরও অনুমতি দেয়া হয়৷

জিয়া অর্ফানেজ ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় গত ২৫শে ফেব্রুয়ারি বুধবার ঢাকার ৩ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আবু আহমেদ জমাদার খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং আরেক আসামি খালেদার বড় ছেলে তারেক রহমানকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন৷ ৪ঠা মার্চ মামলার পরবর্তী তারিখ৷

তারিখের আগের দিন, মঙ্গলবার, খালেদার আইনজীবীরা আদালতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রত্যাহারের আবেদন করেন৷ কিন্তু আদালত মঙ্গলবার এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না দিয়ে বুধবার শুনানির দিন ধার্য করেছে৷ প্রসঙ্গত, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলার তারিখও বুধবার৷

ফলে খালেদা জিয়া আইনগতভাব দুর্বল জায়গায় রয়েছেন৷ বুধবার তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ না করলে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারে৷

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর ঢাকার আরেকটি আদালত গুলশান থানা পুলিশের আবেদনে বেগম জিয়ার গুলশান কার্যালয় তল্লাশির অনুমতি দেয় রবিবার৷ পুলিশের আবদেনে বলা হয়, ‘‘খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে বিভিন্ন ধরনের ব্যক্তির আনাগোনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে৷ দেশে নাশকতার পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও ঐ কার্যালয়ে আত্মগোপন করে থাকতে পারেন৷ এছাড়া নাশকতার কাজে ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন বিস্ফোরক দ্রব্য মজুত করে রাখতে নিরাপদ স্থান হিসেবে খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয় ব্যবহৃত হতে পারে৷ বিভিন্ন গোয়েন্দা সূত্রে এ বিষয়গুলো জানা গেছে৷ তাই সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে কার্যালয়ে অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন৷''

তল্লাশি পরোয়ানা গুলশান থানায় পৌঁছালেও মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত খালেদার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা গুলশান থানায় পৌঁছায়নি বলে ডয়চে ভেলেকে জানান গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম৷

সার্বিক পরিস্থিতি বিচেনায় নিয়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, দুই শর্তে খালেদা জিয়া বুধবার আদালতে আত্মসমর্পণ করতে পারেন৷ এই শর্ত দু'টি হলো পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও আবার নিজ কার্যালয়ে ফিরে যাওয়ার নিশ্চয়তা৷

তিনি বলেন, ‘‘আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল৷ যদিও এখনো আমরা ‘ওয়ারেন্ট'-এর কপি হাতে পাইনি, তারপরও যদি আদালতে যেতে এবং আত্মসমর্পণ করতে হয়, তাহলে তিনি (খালেদা জিয়া) আদালতে যেতে ইচ্ছুক৷ তবে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও কার্যালয়ে ফিরে আসার আশ্বাস দিতে হবে৷''

তিনি বলেন, এখানে দু'টি বিষয় আছে৷ একটি হচ্ছে বিচারিক আদালতের প্রতি আমরা অনাস্থার আবেদন করেছি৷ ব্যাপারটি উচ্চ আদালতে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে৷ সেটা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিচারিক আদালত আইনগতভাবে ও নৈতিকতার দিক থেকে এই মামলার শুনানি করতে পারে না৷ কারণ তার বিপক্ষে আমরা অনাস্থার আবেদন করেছি৷ দেখি উচ্চ আদালত কী বলে৷''

আরেকটি ব্যাপার হলো, ‘‘ওয়ারেন্ট এখনো খালেদা জিয়া হাতে পাননি৷ কিন্তু তারপরও যদি আদালতে হাজির হতে হয়, আত্মসমর্পণ করতে হয়, তাহলে বেগম খালেদা জিয়া অবশ্যই আত্মসমর্পণ করতে ইচ্ছুক৷''

তিনি দাবি করেন, খালেদা জিয়া নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন৷ প্রতিদিন ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতারা তাঁর কার্যালয় ঘেরাও করে রাখছেন৷ এমনকি সরকারের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর নেতৃত্বেও বাড়ি ঘেরাও করা হয়েছিল৷ স্বাভাবিকভাবেই তিনি নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন৷

এদিকে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘খালেদা জিয়া যেখানে যেতে চান, সেখানে যেতে পারবেন৷ গুলশান কার্যালয় থেকে তাঁর বের হওয়া এবং ফিরে আসায় কোনো বাধা নেই৷ আমরা তাঁকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেয়ার জন্য সব সময় প্রস্তুত আছি৷''

তবে খালেদা জিয়ার প্রেস উইং-এর কর্মকর্তা শাইরুল কবির খান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরা আশঙ্কা করছি যে, খালেদা জিয়া আদালতে গেলে তাঁকে আর গুলশান কার্যালয়ে ফিরতে দেয়া হবে না৷ এরইমধ্যে নানা কৌশলে গুলশানের কার্যালয় থেকে খালেদা জিয়া এবং তাঁর সঙ্গে অবস্থানরত নেতা-কর্মীদের বের করার চেষ্টা হয়েছে৷''

প্রসঙ্গত, খালেদা জিয়া ৩রা জানুয়ারি থেকে গুলশান কার্যালয়ে অবস্থান করছেন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন