1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

দুই সাহসী মেয়ে, নারী পাচারকারীদের দুই ‘শত্রু'

তাঁদের বয়স মাত্র ১৭-১৮৷ এই বয়সেই তাঁরা ভারতের সবচেয়ে সাহসী মানুষ৷ নারী পাচারকারীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমে, পাচারকারীদের কৌশলে জেলে পাঠানোর ব্যবস্থা করে পুরস্কৃতও হয়েছেন তাঁরা৷

এই দুই সাহসী মেয়ের একজনের নাম তেজস্বিতা প্রধান এবং অন্যজন শিবানী গোন্ড৷ তেজস্বিতার বয়স ১৮ আর শিবানীর ১৭ বছর৷ এই বয়সেই তাঁরা জেনে গেছেন, নারী আর শিশুদের জন্য এ সমাজে পদে পদে বিপদ৷ তাঁরা জানেন, প্রায় ১৩০ কোটি মানুষের দেশ ভারতে প্রতি আট মিনিটে একজন শিশু নিখোঁজ হয়৷ নিখোঁজদের অনেকেই পড়ে পাচারকারীদের খপ্পরে৷

তেজস্বীতা আর শিবানীর বাড়ি দার্জিলিংয়ে৷ দার্জিলিংয়ের স্বর্গীয় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে অনেকেই সেখানে বেড়াতে যান৷ সীমান্তবর্তী অঞ্চলটিতে নারী ও শিশু পাচারকারীদেরও খুব উতপাত৷ ‘ম্যানকাইন্ড ইন অ্যাকশন ফর রুরাল গ্রোথ', সংক্ষেপে এমএআরজি, অর্থাৎ ‘মার্গ' নামের একটি এনজিওর তত্ত্বাবধানে কাজ করতে গিয়ে তেজস্বীতা আর শিবানীও এই বিষয়টি জেনেছেন৷

জেনে, সচেতন হয়ে বসে থাকেননি৷ ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলে স্ট্যাটাস লিখে জানিয়েছেন, তাঁরা কাজ করতে চান, কাজের সুযোগ থাকলে যে কেউ তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন৷ পাচারকারীরা তো কাজ, টাকা আর বিলাসী জীবনের প্রলোভন দেখিয়েই নারী-শিশুদের ধরে নিয়ে যায়৷ তাই তাদের ফাঁদে ফেলতে ফেসবুকে এভাবে অনেকটা ‘কাজ চাই' বিজ্ঞাপনই দেন দার্জিলিংয়ের প্রত্যন্ত অঞ্চলের দুই সাহসী, অধিকার সচেতন মেয়ে৷

তারপর মাত্র মাসখানেকের অপেক্ষা৷ তারপরই এক নারী ফেসবুকবন্ধু হতে চান৷ বন্ধু হওয়ার পর তিনি জানান, কাজ আছে, তবে কাজ পেতে হলে তার সঙ্গে এক জায়গায় যেতে হবে৷ তেজস্বিতা আর তো এমনটিই চেয়েছিলেন, সুতরাং রাজি হয়ে গেলেন!

নারী হয়ে অচেনা মানুষের সঙ্গে অচেনা জায়গায় যাওয়ায় অনেক ধরনের বিপদের আশঙ্কা থাকে৷ তেজস্বিতা এবং শিবানী তা ভালো করেই জানেন৷ আসলে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে পাচারকারীদের ফাঁদে ফেলার চেষ্টা শুরুর আগেই তাঁরা বিষয়টি নিয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছিলেন৷ বেসরকারি সংস্থা ‘মার্গ'-কেও জানানো হয়েছিল বিষয়টি৷ ফলে নির্ধারিত দিনে ওই নারীর কথামতো ভারত-নেপাল সীমান্তের কাছের একটি হোটেলে যাওয়ার সময় মনে ভয় থাকলেও একটু ভরসাও ছিল৷

সেখানে যাবার কিছুক্ষণের মধ্যেই ফেসবুকবন্ধু ঐ নারী চলে আসে৷ একটু পরে হাজির হয় এক দল কম বয়সি ছেলে৷ দেখে কে বলবে যে ওরাও পাচারকারী! একটা সময় যখন এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেল, তখনই তেজস্বীতা আর শিবানী মাথা চুলকালেন৷ ওটা ছিল ইঙ্গিত৷ ইঙ্গিত বুঝতে পেরে হোটেলের কয়েকজন কর্মচারী এসে ওই নারী আর ছেলেদের ধরে ফেললেন৷ ছেলেগুলো চ্যাঁচামেচি শুরু করতেই হোটেল কর্মচারীরা জানালেন, তাঁরা পুলিশ আর সুতরাং মেয়েদের ফুসলিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করায় তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে৷

এভাবে ঝুঁকি নিয়ে মানব পাচারকারীদের ধরিয়ে দেয়ায় তেজস্বিতা আর শিবানী সম্প্রতি গীতা চোপড়া অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন৷ প্রতি বছর প্রায় ১৩০ কোটি মানুষের একটি দেশের সবচেয়ে সাহসী মানুষদের মাঝ থেকে একজন বা দু'জনকে বেছে নিয়ে তাঁদেরই দেয়া হয় এই জাতীয় পুরস্কার৷ তেজস্বিতা এবং শিবানী পেয়েছেন সেই পুরস্কার৷ তাঁদের তো এ মুহূর্তে ভারতের সবচেয়ে সাহসী মানুষ বলা যেতেই পারে!

মুরালি কৃষ্ণন/এসিবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন