1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘দুই নেত্রীকেই বড় মাশুল গুনতে হবে'

আর কোনো আশা দেখতে পাচ্ছেন না দেশের মানুষ৷ তাঁরা মনে করেন, দুই প্রধান রাজনৈতিক দল দেশকে খাদের কিনারায় নিয়ে গেছে৷ তবুও হাল ছাড়তে চান না তাঁরা৷ দুই নেত্রী চাইলে ‘জাদুর কাঠির' ছোঁয়ায় দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সচল হতে পারে৷

ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের আলাদা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া উভয়ই সংকট নিরসনে আলোচনার কথা বলেছেন৷ যা দেশের সুশীল সমাজকে চমক দিলেও আশান্বিত করেনি৷ কারণ, দুই নেত্রীই তাঁদের মূল অবস্থানে অনড় আছেন৷

প্রধানমন্ত্রী চান, তাঁর সরকারের অধীনে নির্বাচন৷ আর বিরোধী দলীয় নেত্রী চান নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার৷ তাই ‘ঈদের দিনের ভালো কথায়' আস্থা নেই টিআইবি-র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানের৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, দুই নেত্রী যদি সত্যিকার ভাবেই আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসন চান তাহলে তাঁদের অবস্থান আরো সমঝোতামূলক হতে হবে৷ নয়ত এসব কথা কথাই থেকে যাবে৷

তিনি বলেন, এখন রাজনৈতিক সংকট যে পর্যায়ে উপনীত হয়েছে তাতে সুরঙ্গের শেষ প্রান্তেও কোনো আলো দেখা যাচ্ছে না৷ দেশকে খাদের কিনারায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে৷ দুই দলই গণতন্ত্রের ভাষা ছেড়ে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে৷ ২৫শে অক্টোবর কি হবে, তা প্রধান দুই রাজনৈতিক দলই জানে৷ তাদের মধ্যে কোনো ভয় না থাকলেও সাধারণ মানুষ ভীত হয়ে পড়েছে৷

ড. ইফতেখারুজ্জামান মনে করেন, এখন আর সময় নেই৷ তাঁর কথায়, ‘জাদুর কাঠি' আছে দুই নেত্রীর হাতে৷ তাঁরা যদি সত্যিকার অর্থেই দেশের মানুষের কল্যাণ চান, তাহলে তাঁরাই একমাত্র পারেন স্বস্তির পথ বের করতে৷ অন্য কোনো পথ নেই৷ তবে তিনি এটাও মনে করেন যে, ক্ষমতার এই লড়াই শেষ পর্যন্ত সংঘাতে গেলে আখেরে দুই নেত্রীকেই সবচেয়ে বেশি মাশুল গুনতে হবে৷ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হলে তাঁরাই হবেন এর প্রথম শিকার৷

অন্যদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. শান্তনু মজুমদার ডয়চে ভেলেকে বলেন, এখন দুই বড় রাজনৈতিক দলের ক্ষমতা দখলে শেষ লড়াই শুরু হবে৷ আর এই লড়াইয়ে তারা নিজেদের স্বার্থেই একসময় সমঝোতায় আসবে৷ তবে তা দেশের সাধারণ মানুষের কতটা ক্ষতির পর, সেটাই দেখার বিষয়৷ তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের লগি-বৈঠার পর এবার বিএনপি দা-কুড়ালের যুদ্ধে নামার কথা বলছে৷ শক্তি পরীক্ষায় যারা এগিয়ে থাকবে রাজনীতির ফল তাদের দিকেই যাবে৷ কিন্তু প্রাণ যাবে সাধারণের৷ শান্তনু মজুমদার বলেন, বাংলাদেশ এখন অর্থনৈতিক দিক দিয়ে যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে সেখানে রাজনীতির এই নাবালক চরিত্র কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না৷

তবুও তিনি দুই নেত্রীকে ধন্যবাদ জানান এই কারণে যে, ঈদের দিনে হলেও তাঁরা আলোচনার কথা বলেছেন৷ একদিনের জন্য হলেও দেশের মানুষ ভালো কথা শুনলো৷ তবে এই ভালো কথা সত্যিই ভালো হবে, যদি বাস্তবে এর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়৷ আর সরকারেরই প্রথম দায়িত্ব আলোচনার উদ্যোগ নেয়া৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন